ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা
jugantor
ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

  নরসিংদী ও বেলাবো প্রতিনিধি  

২৫ জুন ২০২২, ১৬:১৮:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

নরসিংদীর বেলাবোতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে কবির হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বেলাবো উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের খামারেরচর নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কবির হোসেন খামারেরচর গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার বড় ছেলে। কবির হোসেন পেশায় একজন এলপি গ্যাস ও গাড়ি ব্যবসায়ী ছিল।

স্বজনরা জানায়, প্রতিদিনের মতো আজও বাড়ি থেকে বের হয়ে গাড়ি ঠিক করার জন্য গ্যারেজে আসেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। পরে সে দৌড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওপরে চলে আসে। পরে সন্ত্রাসীরা চাপাতি দা ছুরি দিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়। এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন ইউপি সদস্য রিনা বেগমের ছেলে সোহরাব ওরফে মুসাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি ছিলেন কবির হোসেন। হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পর পলাতক থেকে ২০২০ সালের ২ অক্টোবর গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেফতার করে। সম্প্রতি তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় আসেন। এছাড়া কবিরের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

নিহতের বাবা আবদুল হাই বলেন, আমার ছেলে এলাকার গ্রাম্য রাজনীতির শিকার। গ্রাম্য রাজনীতির কারণে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। কিছুদিন পূর্বে আমার ছেলে জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আসে। আর এরপর থেকে সে তার ব্যবসায়ের কাজে মনোযোগ দেয়। তার ব্যবসাও ভালো চলছিলো। আজ দুপুরে সন্ত্রাসীরা তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে মহাসড়কের উপরেই গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে যদি অপরাধী হয়, তাহলে আইন তাকে শাস্তি দিবে। এভাবে তাকে কেন হত্যা করা হলো। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

নিহতের ভাতিজা আশিক মিয়া বলেন, চাচার সঙ্গে এলাকার কয়েকজনের শত্রুতা ছিলো। চাচাকে আজকে তারা নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। চাচা মারার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে চাচার শরীর উল্টালে তা থেকে গুলি পাই। যারা আমার চাচাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের আমি বিচার দাবি করছি।

বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফায়েত হোসেন বলেন, নিহত কবিরের সঙ্গে মামলা মোকদ্দমা নিয়ে পাশ্ববর্তী এলাকার কয়েকজনের দ্বন্দ্ব ছিলো। সে হত্যা মামলারও আসামি ছিলো। তবে কী কারণে হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয়েছে, তা জানতে আমরা সকল বিষয় বিবেচনা রেখেই তদন্ত করছি। দ্রুত সময়েই অপরাধীদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আর নিহতের লাশ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

 নরসিংদী ও বেলাবো প্রতিনিধি 
২৫ জুন ২০২২, ০৪:১৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নরসিংদীর বেলাবোতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে কবির হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বেলাবো উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের খামারেরচর নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত কবির হোসেন খামারেরচর গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার বড় ছেলে। কবির হোসেন পেশায় একজন এলপি গ্যাস ও গাড়ি ব্যবসায়ী ছিল। 

স্বজনরা জানায়, প্রতিদিনের মতো আজও বাড়ি থেকে বের হয়ে গাড়ি ঠিক করার জন্য গ্যারেজে আসেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার ওপর  আকস্মিক হামলা চালায়। পরে সে দৌড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওপরে চলে আসে। পরে সন্ত্রাসীরা চাপাতি দা ছুরি দিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়। এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন ইউপি সদস্য রিনা বেগমের ছেলে সোহরাব ওরফে মুসাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি ছিলেন কবির হোসেন। হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পর পলাতক থেকে ২০২০ সালের ২ অক্টোবর গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেফতার করে। সম্প্রতি তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় আসেন। এছাড়া কবিরের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

নিহতের বাবা আবদুল হাই বলেন, আমার ছেলে এলাকার গ্রাম্য রাজনীতির শিকার। গ্রাম্য রাজনীতির কারণে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। কিছুদিন পূর্বে আমার ছেলে জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আসে। আর এরপর থেকে সে তার ব্যবসায়ের কাজে মনোযোগ দেয়। তার ব্যবসাও ভালো চলছিলো। আজ দুপুরে সন্ত্রাসীরা তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে মহাসড়কের উপরেই গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে। 

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে যদি অপরাধী হয়, তাহলে আইন তাকে শাস্তি দিবে। এভাবে তাকে কেন হত্যা করা হলো। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।  

নিহতের ভাতিজা আশিক মিয়া বলেন, চাচার সঙ্গে এলাকার কয়েকজনের শত্রুতা ছিলো। চাচাকে আজকে তারা নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। চাচা মারার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে চাচার শরীর উল্টালে তা থেকে গুলি পাই। যারা আমার চাচাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের আমি বিচার দাবি করছি।

বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফায়েত হোসেন বলেন, নিহত কবিরের সঙ্গে মামলা মোকদ্দমা নিয়ে পাশ্ববর্তী এলাকার কয়েকজনের দ্বন্দ্ব ছিলো। সে হত্যা মামলারও আসামি ছিলো। তবে কী কারণে হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয়েছে, তা জানতে আমরা সকল বিষয় বিবেচনা রেখেই তদন্ত করছি।  দ্রুত সময়েই অপরাধীদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আর নিহতের লাশ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন