বিয়ের দাবিতে মাস্টার্সের ছাত্রীর অনশন, রাজকুমার উধাও
jugantor
বিয়ের দাবিতে মাস্টার্সের ছাত্রীর অনশন, রাজকুমার উধাও

  মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি  

২৫ জুন ২০২২, ১৯:৪৩:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

মাগুরার মহম্মদপুরে বিয়ের দাবিতে মাস্টার্স শেষ বর্ষের এক কলেজছাত্রী তার প্রেমিকের বাড়িতে দুই দিন ধরে অবস্থান নিয়েছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৭ বছর ধরে ভালোবাসার সম্পর্ক এবং একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের পর এখন তাকে অস্বীকার করছে তার প্রেমিক রাজকুমার।

ওই ছাত্রী মাগুরার একটি কলেজের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার কালুখালি উপজেলায়।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রাজকুমারের প্রেমিকাকে দেখতে ভিড় করছেন বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।

প্রেমিক যুবক রাজকুমার বিশ্বাসের বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের কাওয়ালীপাড়া গ্রামে। রাজকুমার পদ্ম কুমার বিশ্বাসের ছেলে।

এদিকে প্রেমিকা বাড়িতে আসার খবর শুনে রাজকুমার আত্মগোপন করেছেন। শুক্রবার সকাল থেকে ওই ছাত্রী অনশন করছেন। দুই দিন পার হলেও ছেলের পরিবার, স্থানীয়রা, ইউপি চেয়ারম্যান বা মেম্বাররা তার সমাধান করতে এগিয়ে আসেনি এবং কোনো পদক্ষেপ নেননি।

অনশনরত ওই ছাত্রী জানান, রাজকুমারের সঙ্গে তার প্রায় ৭ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। রাজকুমারের পরিবার তাদের সম্পর্কের বিষয়টি আগে থেকেই জানে। বিয়ের আশ্বাসে রাজকুমার তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছে। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এর তিন মাস পর বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দেয় রাজকুমার। পরে সে আত্মহত্যা করার কথা বললে বাচ্চা নষ্ট করে ফেলি। এখন সে আমাকে আর বিয়ে করবে না বলেছে। রাজকুমার আমাকে বিয়ে না করলে এই বাড়িতেই আমি মরব। এছাড়া আমার আর কোনো উপায় নাই।

এর আগে গত ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিয়ের দাবিতে রাজকুমারের বাড়িতে চলে আসে ওই ছাত্রী। তখন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে বাড়িতে ফেরত যেতে বাধ্য করেন কিন্তু পরে আর বিয়ে হয়নি।

সরেজমিন ছেলের বাড়িতে গিয়ে ছেলের বোন রূপা রানীকে ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, শুক্রবার হঠাৎ এই নারী বাড়িতে আসে। প্রথমে বলে রাজকুমারের কাছে টাকা পাব। এখন বলছে রাজকুমার তার প্রেমিক। তাকে আমরা খাবার দিয়েছি সে খেয়েছে। এখানে কোনো অনশন চলছে না।

স্থানীয় বাবুখালী ইউপি চেয়ারম্যান মীর মো. সাজ্জাদ আলী বলেন, অনেক আগে একবার এই মেয়ে এসেছিল। এখন আবার এসেছে। দুইপক্ষকে ডাকা হয়েছে; আসলেই সমাধান করে দিতে পারব।

মহম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত, ভারপ্রাপ্ত ওসি) বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। পুলিশের একটি টিম ওখানে পাঠিয়েছি।

মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল যুগান্তরকে বলেন, মেয়েটির অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই পুলিশের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিয়ের দাবিতে মাস্টার্সের ছাত্রীর অনশন, রাজকুমার উধাও

 মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি 
২৫ জুন ২০২২, ০৭:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মাগুরার মহম্মদপুরে বিয়ের দাবিতে মাস্টার্স শেষ বর্ষের এক কলেজছাত্রী তার প্রেমিকের বাড়িতে দুই দিন ধরে অবস্থান নিয়েছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৭ বছর ধরে ভালোবাসার সম্পর্ক এবং একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের পর এখন তাকে অস্বীকার করছে তার প্রেমিক রাজকুমার।

ওই ছাত্রী মাগুরার একটি কলেজের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার কালুখালি উপজেলায়।  

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রাজকুমারের প্রেমিকাকে দেখতে ভিড় করছেন বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। 

প্রেমিক যুবক রাজকুমার বিশ্বাসের বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের কাওয়ালীপাড়া গ্রামে। রাজকুমার পদ্ম কুমার বিশ্বাসের ছেলে।

এদিকে প্রেমিকা বাড়িতে আসার খবর শুনে রাজকুমার আত্মগোপন করেছেন। শুক্রবার সকাল থেকে ওই ছাত্রী অনশন করছেন। দুই দিন পার হলেও ছেলের পরিবার, স্থানীয়রা, ইউপি চেয়ারম্যান বা মেম্বাররা তার সমাধান করতে এগিয়ে আসেনি এবং কোনো পদক্ষেপ নেননি। 

অনশনরত ওই ছাত্রী জানান, রাজকুমারের সঙ্গে তার প্রায় ৭ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। রাজকুমারের পরিবার তাদের সম্পর্কের বিষয়টি আগে থেকেই জানে। বিয়ের আশ্বাসে রাজকুমার তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছে। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এর তিন মাস পর বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দেয় রাজকুমার। পরে সে আত্মহত্যা করার কথা বললে বাচ্চা নষ্ট করে ফেলি। এখন সে আমাকে আর বিয়ে করবে না বলেছে। রাজকুমার আমাকে বিয়ে না করলে এই বাড়িতেই আমি মরব। এছাড়া আমার আর কোনো উপায় নাই।

এর আগে গত ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিয়ের দাবিতে রাজকুমারের বাড়িতে চলে আসে ওই ছাত্রী। তখন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে বাড়িতে ফেরত যেতে বাধ্য করেন কিন্তু পরে আর বিয়ে হয়নি।

সরেজমিন ছেলের বাড়িতে গিয়ে ছেলের বোন রূপা রানীকে ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, শুক্রবার হঠাৎ এই নারী বাড়িতে  আসে। প্রথমে বলে রাজকুমারের কাছে টাকা পাব। এখন বলছে রাজকুমার তার প্রেমিক। তাকে আমরা খাবার দিয়েছি সে খেয়েছে। এখানে কোনো অনশন চলছে না।

স্থানীয় বাবুখালী ইউপি চেয়ারম্যান মীর মো. সাজ্জাদ আলী বলেন, অনেক আগে একবার এই মেয়ে এসেছিল। এখন আবার এসেছে। দুইপক্ষকে ডাকা হয়েছে; আসলেই  সমাধান করে দিতে পারব।

মহম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত, ভারপ্রাপ্ত ওসি) বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। পুলিশের একটি টিম ওখানে পাঠিয়েছি।
 
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল যুগান্তরকে বলেন, মেয়েটির অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই পুলিশের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন