সব শুকনা ধান পইচা গেছে, অহন কী খাইয়া বাঁচবাম?
jugantor
সব শুকনা ধান পইচা গেছে, অহন কী খাইয়া বাঁচবাম?

  নেত্রকোনা প্রতিনিধি  

২৫ জুন ২০২২, ১৯:৪৯:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

আলাল উদ্দিন এবার ১৫০ শতক জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। কিন্তু ক্ষেতের ধান যখন পাকতে শুরু হয়, তখন আকস্মিক বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। শ্রমিক না পাওয়ায় তিনি দুই ছেলেকে নিয়ে দ্রুত ধান কাটতে থাকেন।

তবে অর্ধেক ধানই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আর ঘরে তোলা সম্ভব হলো না। সেটা গত মে মাসের প্রথম দিকের কথা। যে ধান ও খড় শুকিয়ে ঘরে তুলেছিলেন এবারের বন্যায় তাও শেষ হয়ে গেলে। ছয় দিন ধরে তার ঘরের মাচার ধান ও পুঞ্জির খড় পানিতে ডুবে ছিল। তবু হাল ছাড়েননি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ওই কৃষক।

শনিবার বিকালে গিয়ে দেখা গেছে, আলাল উদ্দিন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বাড়ির সামনে কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা সড়কের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পচা ধান ও খড় রোদে শুকাচ্ছেন। কিন্তু পানিতে ডুবে থাকার ফলে সিদ্ধ ধানগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ধানের খড়ও পচে গেছে।

আলাল উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, এই ধান দিয়াই আমার দুই ছেলের স্কুলের খরচসহ সারা বছরের সংসার খরচ চলে। এবারের বন্যায় আমার সব শেষ। গত মাসের পানিতে ক্ষেতের অর্ধেক ধানই ডুইব্বা পচে গেছে। আর যে ধান কাইট্টা শুকাইয়া ঘরে তুলছিলাম, এক সপ্তাহের ঘরে ভেতর পানির নিচে থাইক্কা তাও গেছে। অহন এই পচা ধান, খেড় আর দুইডা গরু ছাড়া কিছুই নাই। সব নষ্ট হইয়া গেছে। অহন কী খাইয়া বাঁচবাম? বন্যার পানিতে দুইডা ছাগল, হাঁস-মুরগি ভাইসা গেছে। ঘরের থালবাসনডি খালি আছে আর সব শেষ।

আলাল উদ্দিনের স্ত্রী ছালেমা খাতুন যুগান্তরকে বলেন, এই পচা ধানই আমরার সম্বল। আইজ বালা রইদ উঠছে। বাড়িতে অহনো পানি থাহনে রাস্তায় আইন্না তা শুকাইতাছি। এই পচাগলা ধান থাইক্কা যদি কিছু চাউল বাইর হয় তাই খাওন লাগবো।

নেত্রকোনায় সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। জেলার ১০ উপজেলার ৭৩টি ইউনিয়নে ৫ লাখ ৫৪ হাজার মানুষ বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ৩৫৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় সোয়া লাখ মানুষ আশ্রয় নেয়। পানি কমতে শুরু করায় ধীরে ধীরে আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়তে শুরু করেছে বানভাসিরা।

নেত্রকোনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহনলাল সৈকত জানিয়েছেন, জেলার ছোটবড় সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করছে। তবে উব্দাখালি নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ও ধনু নদের খালিয়াজুরি পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন থেকে ৫১২ মেট্রিক টন চাল ও ২৭ লাখ টাকাসহ ৫ হাজার ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

সব শুকনা ধান পইচা গেছে, অহন কী খাইয়া বাঁচবাম?

 নেত্রকোনা প্রতিনিধি 
২৫ জুন ২০২২, ০৭:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আলাল উদ্দিন এবার ১৫০ শতক জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। কিন্তু ক্ষেতের ধান যখন পাকতে শুরু হয়, তখন আকস্মিক বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। শ্রমিক না পাওয়ায় তিনি দুই ছেলেকে নিয়ে দ্রুত ধান কাটতে থাকেন।

তবে অর্ধেক ধানই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আর ঘরে তোলা সম্ভব হলো না। সেটা গত মে মাসের প্রথম দিকের কথা। যে ধান ও খড় শুকিয়ে ঘরে তুলেছিলেন এবারের বন্যায় তাও শেষ হয়ে গেলে। ছয় দিন ধরে তার ঘরের মাচার ধান ও পুঞ্জির খড় পানিতে ডুবে ছিল। তবু হাল ছাড়েননি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ওই কৃষক।

শনিবার বিকালে গিয়ে দেখা গেছে, আলাল উদ্দিন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বাড়ির সামনে কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা সড়কের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পচা ধান ও খড় রোদে শুকাচ্ছেন। কিন্তু পানিতে ডুবে থাকার ফলে সিদ্ধ ধানগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ধানের খড়ও পচে গেছে।

আলাল উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, এই ধান দিয়াই আমার দুই ছেলের স্কুলের খরচসহ সারা বছরের সংসার খরচ চলে। এবারের বন্যায় আমার সব শেষ। গত মাসের পানিতে ক্ষেতের অর্ধেক ধানই ডুইব্বা পচে গেছে। আর যে ধান কাইট্টা শুকাইয়া ঘরে তুলছিলাম, এক সপ্তাহের ঘরে ভেতর পানির নিচে থাইক্কা তাও গেছে। অহন এই পচা ধান, খেড় আর দুইডা গরু ছাড়া কিছুই নাই। সব নষ্ট হইয়া গেছে। অহন কী খাইয়া বাঁচবাম? বন্যার পানিতে দুইডা ছাগল, হাঁস-মুরগি ভাইসা গেছে। ঘরের থালবাসনডি খালি আছে আর সব শেষ।

আলাল উদ্দিনের স্ত্রী ছালেমা খাতুন যুগান্তরকে বলেন, এই পচা ধানই আমরার সম্বল। আইজ বালা রইদ উঠছে। বাড়িতে অহনো পানি থাহনে রাস্তায় আইন্না তা শুকাইতাছি। এই পচাগলা ধান থাইক্কা যদি কিছু চাউল বাইর হয় তাই খাওন লাগবো।

নেত্রকোনায় সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। জেলার ১০ উপজেলার ৭৩টি ইউনিয়নে ৫ লাখ ৫৪ হাজার মানুষ বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ৩৫৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় সোয়া লাখ মানুষ আশ্রয় নেয়। পানি কমতে শুরু করায় ধীরে ধীরে আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়তে শুরু করেছে বানভাসিরা। 

নেত্রকোনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহনলাল সৈকত জানিয়েছেন, জেলার ছোটবড় সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করছে। তবে উব্দাখালি নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ও ধনু নদের খালিয়াজুরি পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন থেকে ৫১২ মেট্রিক টন চাল  ও ২৭ লাখ টাকাসহ ৫ হাজার ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন