যাত্রীশূন্য শিমুলিয়া ঘাট, চলেনি কোনো ফেরি
jugantor
যাত্রীশূন্য শিমুলিয়া ঘাট, চলেনি কোনো ফেরি

  মো. আওলাদ হোসেন, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ)  

২৬ জুন ২০২২, ১৮:১৬:২৭  |  অনলাইন সংস্করণ

পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় ঝিমিয়ে পড়ছে মাওয়া এলাকার শিমুলিয়া ফেরিঘাট। রোববার সকাল ৬টার দিকে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে পদ্মা সেতু। টোল পরিশোধের পরেই স্বপ্নের পদ্মা সেতু পাড়ি দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নামে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও পণ্যবাহী ট্রাক।

ভোর থেকেই পদ্মা সেতু উত্তর থানা টোল প্লাজা এলাকায় হাজারো মোটরসাইকেল ভিড় করতে থাকে। মোটরসাইকেলে চড়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু পাড়ি দেন অসংখ্য নারী-পুরুষ। অপরদিকে ব্যস্ততম মাওয়া ফেরিঘাট জনশূন্যে পরিণত হয়েছে। ফেরিঘাট এলাকায় নেই কোনো লোকসমাগম। ঘাট এলাকায় বেশিরভাগ লঞ্চ, সী-বোট, ট্রলার ও ফেরিকে নোঙর করা অবস্থায় দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, পদ্মা সেতু উত্তর থানা মুন্সীগঞ্জের লৌহজং খানবাড়ি এলাকায় পদ্মা সেতু টোল প্লাজায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ঢাকার ধানমন্ডি থেকে আগত আকরাম হোসেন তার স্ত্রী নিয়ে আসেন পদ্মা সেতু ভ্রমণ করতে।

তিনি বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখে গর্ববোধ করছি।

মিরপুর থেকে আসা সোহেল রানা বলেন, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাত্র ৭ মিনিটে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে জাজিরা প্রান্তে যাই। কিছুক্ষণ পর পুনরায় চলে আসি। প্রথম দিন টোল পরিশোধ করে পদ্মা সেতু পাড়ি দেওয়া আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সাভার থেকে আগত আব্দুর রহিম ও সোনিয়া বেগম দম্পতি ৭ বছরের শিশুসন্তান আকাশকে সঙ্গে নিয়ে পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন।

শিশু আকাশ জানায়, টিভিতে দেখেছি পদ্মা সেতু। এখন পদ্মা সেতু কাছ থেকে দেখছি। অনেক আনন্দ লাগছে।

শরীয়তপুর এলাকার আশরাফ মিয়া বলেন, এক সময় মালপত্র ও শিশুসহ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সী-বোট কিংবা লঞ্চে করে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে ঢাকায় আসতে হতো। এখন মানুষ পদ্মা সেতুর কারণে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে। ভোগান্তির অবসান হয়েছে।

ট্রাকচালক আহম্মদ আলী বলেন, কৃষিজাত পণ্য নিয়ে ফেরিঘাটে এসে দীর্ঘ লাইনে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ অঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ মাধ্যম লাঘব হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক নাজমুল খান সুজন বলেন, বহুমুখী পদ্মা সেতু মাওয়া প্রান্তে উৎসুক জনতার ভিড় বেড়েই চলছে। হাজার হাজার দর্শনার্থী আসছেন পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে। পদ্মা সেতুর কারণে অঞ্চলের মানুষের ব্যবসা বাণিজ্য প্রসার হবে। নতুন নতুন কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি হবে। পদ্মা সেতুর সুফল ভোগ করবে দুইপাড়ের মানুষ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ মাওয়া শিমুলিয়া ফেরিঘাটের এজিএম মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় আজ সকাল থেকে ফেরিঘাটে কোনো চাপ নেই। কোনো যানবাহন না আসায় এ পর্যন্ত কোনো ফেরি চলাচল করেনি।

যাত্রীশূন্য শিমুলিয়া ঘাট, চলেনি কোনো ফেরি

 মো. আওলাদ হোসেন, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) 
২৬ জুন ২০২২, ০৬:১৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় ঝিমিয়ে পড়ছে মাওয়া এলাকার শিমুলিয়া ফেরিঘাট। রোববার সকাল ৬টার দিকে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে পদ্মা সেতু। টোল পরিশোধের পরেই স্বপ্নের পদ্মা সেতু পাড়ি দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নামে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও পণ্যবাহী ট্রাক। 

ভোর থেকেই পদ্মা সেতু উত্তর থানা টোল প্লাজা এলাকায় হাজারো মোটরসাইকেল ভিড় করতে থাকে। মোটরসাইকেলে চড়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু পাড়ি দেন অসংখ্য নারী-পুরুষ। অপরদিকে ব্যস্ততম মাওয়া ফেরিঘাট জনশূন্যে পরিণত হয়েছে। ফেরিঘাট এলাকায় নেই কোনো লোকসমাগম। ঘাট এলাকায় বেশিরভাগ লঞ্চ, সী-বোট, ট্রলার ও ফেরিকে নোঙর করা অবস্থায় দেখা গেছে। 

সরেজমিন দেখা যায়, পদ্মা সেতু উত্তর থানা মুন্সীগঞ্জের লৌহজং খানবাড়ি এলাকায় পদ্মা সেতু টোল প্লাজায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ঢাকার ধানমন্ডি থেকে আগত আকরাম হোসেন তার স্ত্রী নিয়ে আসেন পদ্মা সেতু ভ্রমণ করতে। 

তিনি বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখে গর্ববোধ করছি। 

মিরপুর থেকে আসা সোহেল রানা বলেন, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাত্র ৭ মিনিটে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে জাজিরা প্রান্তে যাই। কিছুক্ষণ পর পুনরায় চলে আসি। প্রথম দিন টোল পরিশোধ করে পদ্মা সেতু পাড়ি দেওয়া আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। 

সাভার থেকে আগত আব্দুর রহিম ও সোনিয়া বেগম দম্পতি ৭ বছরের শিশুসন্তান আকাশকে সঙ্গে নিয়ে পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। 

শিশু আকাশ জানায়, টিভিতে দেখেছি পদ্মা সেতু। এখন পদ্মা সেতু কাছ থেকে দেখছি। অনেক আনন্দ লাগছে। 

শরীয়তপুর এলাকার আশরাফ মিয়া বলেন, এক সময় মালপত্র ও শিশুসহ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সী-বোট কিংবা লঞ্চে করে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে ঢাকায় আসতে হতো। এখন মানুষ পদ্মা সেতুর কারণে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে। ভোগান্তির অবসান হয়েছে। 

ট্রাকচালক আহম্মদ আলী বলেন, কৃষিজাত পণ্য নিয়ে ফেরিঘাটে এসে দীর্ঘ লাইনে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ অঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ মাধ্যম লাঘব হয়েছে। 

স্থানীয় সাংবাদিক নাজমুল খান সুজন বলেন, বহুমুখী পদ্মা সেতু মাওয়া প্রান্তে উৎসুক জনতার ভিড় বেড়েই চলছে। হাজার হাজার দর্শনার্থী আসছেন পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে। পদ্মা সেতুর কারণে অঞ্চলের মানুষের ব্যবসা বাণিজ্য প্রসার হবে। নতুন নতুন কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি হবে। পদ্মা সেতুর সুফল ভোগ করবে দুইপাড়ের মানুষ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ মাওয়া শিমুলিয়া ফেরিঘাটের এজিএম মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় আজ সকাল থেকে ফেরিঘাটে কোনো চাপ নেই। কোনো যানবাহন না আসায় এ পর্যন্ত কোনো ফেরি চলাচল করেনি।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন