বেপরোয়া মাদক ব্যবসায়ীরা, দিনাজপুরে ২ জন গুলিবিদ্ধ

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০১৮, ১৭:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

  দিনাজপুর প্রতিনিধি

মাদকের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান এমনকি ক্রসফায়ারের ঘটনার পরও দিনাজপুরে কমছে না মাদক বিক্রেতাদের দৌরাত্ম্য। বরং আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা।

মাদকের টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দিনাজপুরে সোমবার রাতে দিনাজপুরের দুই উপজেলায় দুজন মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে ওই দুই মাদক ব্যবসায়ী। এর মধ্যে একজন দিনাজপুর সদর উপজেলার পল্লীতে এবং অপরজন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায়।

পুলিশ গুলিবিদ্ধ লুৎফর রহমান (৪৫) ও আলাউদ্দিন আহমেদ (৩৫) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম জানান, সোমবার মধ্যরাত আড়াইটার সময় দিনাজপুর সদর উপজেলার গোদাগাড়ী নামক স্থানে মাদকের টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন। পরে তারা কোতোয়ালি থানায় খবর দিলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ আহত অবস্থায় সদর উপজেলার দানিহারগ্রামের এনামুল হকের ছেলে লুৎফর রহমানকে (৪৫) উদ্ধার করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল, ১০০ বোতল ফেনসিডিল, দেশীয় অস্ত্র ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ১২টি মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে।

এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, গুলিবিদ্ধ লুৎফর রহমানের ডান পা কেটে ফেলা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

অপরদিকে হাকিমপুর থানার ওসি আবদুল হাকিম আজাদ জানান, মঙ্গলবার ভোররাত ৩টায় দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার মধ্যবাসুদেবপুর এলাকায় মাদকের টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেয়ে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাকিমপুর উপজেলার চড়িপট্টি গ্রামের আফতাবউদ্দীন মণ্ডলের ছেলে আলাউদ্দীন আহমেদকে (৩৫) উদ্ধার করে রাতেই চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল ও ২৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় হাকিমপুর থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। তার বিরুদ্ধে হাকিমপুর থানায় ৯টি মামলা রয়েছে।

মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা প্রসঙ্গে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, ব্যবসা করলে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ চলতেই পারে। যেহেতু অভিযান শুরুর পর তাদের মধ্যে সংকটাবস্থা চলছে, সেহেতু টাকা নিয়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি জানান।

অভিযান শুরু পর দিনাজপুরে মাদকের ব্যাপকতা একেবারে কমেছে। মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সারা দেশের মতো দিনাজপুরেও শুরু হয়েছে মাদকবিরোধী অভিযান। এই অভিযান চলাকালে দিনাজপুরে এ পর্যন্ত কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে চার জন। এর মধ্যে গত ২০ মে বিরল উপজেলায় নিহত হয় গালকাটা বাবু (৪৫), ২২ মে বিরামপুরে প্রবাল হোসেন (৩৫), ২৬ মে বীরগঞ্জে সাবদারুল (৪০) এবং একই দিন দিনাজপুর সদর উপজেলায় নিহত হয় আব্দুস সালাম (৩৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী।

এছাড়াও ১৯ মে থেকে এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে কয়েক শতাধিক মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতা।