‘ভ্রমণে যাচ্ছি, আমার জন্য দোয়া করিয়েন’
jugantor
‘ভ্রমণে যাচ্ছি, আমার জন্য দোয়া করিয়েন’

  মো. আবু তালেব, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)  

০১ আগস্ট ২০২২, ০৪:১১:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

এমন দুঃসময় দেখেনি কেউ আগে চট্টগ্রামের অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের আমানবাজার থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্বে খন্দকিয়া গ্রামের মানুষ। তারা কখনও বুঝতে পারেনি তাদের নতুন প্রজন্মেরসেই হাজারো অধরা স্বপ্ন নিঃশব্দে ফিরে যাবে। বিধির বিধান, সুতোয় বাঁধা যে প্রাণ; মহাকালের ডাকে তাতে টান পড়বেই। তবে টানটি পড়েছে তা বড়ো অসময়ে।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের খন্দকিয়া গ্রামের মানুষ দেখে বোঝার উপায় নেই; কিছুদিন আগেও এই গ্রামের মানুষের মুখে ছিল হাসি ও প্রাণময়তা। তবে এখন কারো মুখে হাসি নেই, রাস্তায় স্থানে স্থানে জটলা। মধ্য শ্রাবণেও খরতাপে হঠাৎ কেমন জানি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঝড় এসে সব ওলট-পালট করে দিয়েছে। শোকে বিহ্বল গ্রামের বাসিন্দাদের চোখে এখন শ্রাবণ ধারা। ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার পর গ্রামের মানুষের মাঝে বিরাজ করছে নিরবতা। পাশাপাশি শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের ছয়দিনই শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকা গ্রামের যুগীরহাটস্থ শেখ মার্কেটের দ্বিতল ভবনের ‘আর অ্যান্ড জে কোচিং’ নামে সেই কোচিং সেন্টারটিতে এখন কেবলই শূন্যতা, চারপাশে খাঁ খাঁ নিস্তব্ধতা।

সরেজমিনে ওই কোচিং সেন্টারে দেখা গেল, প্রতিষ্ঠানটির নিচে ভবনটির প্রধান ফটকটি বন্ধ এবং প্রথম তলার মূল ফটকে তালা ঝুলানো। তবে, ছাত্র-শিক্ষকহীন সেই কোচিং সেন্টারের সামনে লক্ষ্য করা গেছে উৎসুক জনতার ভিড়। কারণ গত শুক্রবার এই কোচিং সেন্টারের শিক্ষক তাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভ্রমণে গিয়েছিলেন মীরসরাই খৈয়াছড়া ঝর্ণায়। ভ্রমণ শেষে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি মীরসরাই রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় মহানগর প্রভাতি ট্রেনের ধাক্কায় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।

এ সময় গাড়িতে থাকা ১৮ জনের মধ্যে ১১ ছাত্র-শিক্ষকই ঘরে ফিরেছে বটে, তবে জীবিত নয় লাশ হয়ে। নিহতদের মধ্যে সাতজনের বাড়ি চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের খন্দকিয়া গ্রামে এবং অন্যরা হলেন নগরীর বালুচরা, হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর, দক্ষিণ মাদার্শা, এবং ফতেপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। আহত সাতজনের বাড়ি খন্দকিয়া গ্রামে। কোচিং সেন্টারের অন্য দুই শিক্ষকের মধ্যে আবদুল্লাহ আরিফ রিসাদের যাওয়ার কথা থাকলেও সে এবং অপর শিক্ষিকা জেসি আক্তার তার পারিবারিক কাজের জন্য ভ্রমণে যাননি।

রোববার সকালে ওই কোচিং সেন্টারে গেলে কথা হয় কোচিং সেন্টারের শিক্ষক রিসাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, সেদিন কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভ্রমণে আমারও যাওয়া কথা ছিল। তাছাড়া আনন্দ ভ্রমণ নিয়ে এক দিন আগেও কত কথা ও আড্ডা হচ্ছিল! এসব কথায় আমিও ছিলাম। বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধান্ত ছিল, আমি যাব। কিন্তু সকালে কী মনে করে যেন মত পরিবর্তন করি; তাই, বেঁচে গেছি।

শিক্ষক রিসাদ আরও জানান, খন্দকিয়া গ্রামের যুগিরহাটস্থ কে সি জিয়াউর রহমান কলেজ রোডে শেখ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় চলতি বছরের মার্চ মাসে জিয়াউল হক সজীব, ওয়াহিদুল আলম জিসান, মোহাম্মদ রিদওয়ানুল চৌধুরী মিলে কোচিং সেন্টারটি চালু করেছিল। পরে আমি এবং জেসি আকতার (জিসানের বোন) ও মোস্তফা মাসুদ রাকিব শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়।

জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে কোচিং সেন্টার চার শিক্ষক, তিনজন স্কুল ছাত্র, দুইজন কলেজ ছাত্র, চার শিক্ষক ও মাইক্রোবাস চালকসহ দুই জন। তাদের মধ্যে কোচিং সেন্টারের চার শিক্ষক জিসান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছে। এছাড়া রিদওয়ান চট্টগ্রাম কলেজের দর্শন বিভাগের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র, সজীব ওমরগণি এমইএস কলেজের গণিত প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং রাকিব চট্টগ্রাম মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে অনার্সে ভর্তির জন্য অপেক্ষমান ছিলেন। তাছাড়া কোচিং সেন্টারের ছাত্রদের মধ্যে সামিরুল হাসান, মোসআব আহম্মেদ হিশাম ও ইকবাল হোসেন মারুফ শিকারপুরের কে এস নজুমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং আসিকুর রহমান আশিক ও শান্ত শীল কে সি শহিদ জিয়াউর রহমান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। এর মধ্যে নিহত মো. সাজ্জাদ ও মাইক্রোবাচালক গোলাম মোস্তফা নীরু।তবে নিহত সাজ্জাত পড়ালেখার সঙ্গে যুক্ত নন। সে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক সজীবের বন্ধু হিসেবে তিনিও পিকনিকে গিয়েছিলেন।

এদিকে, আহতদের মধ্যে তাসমির হাসান, আয়াতুল ইসলাম ও মো. সৈকত কে এস নজুমিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। মাহিম, ইমন ও হৃদয় কে সি শহিদ জিয়াউর রহমান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং মাইক্রোবাস সহকারী তৌহিদ ইবনে শাওন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

জিয়াউল হক সজীবের বাবা হামিদ হোসেন অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে সজীবসহ তিনজন মিলে ৫০ হাজার টাকা কিস্তি নিয়ে কোচিং সেন্টারটি চালু করেছিল। দুই মাসের ১০ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করেছে। ভবন মালিকের কাছে ২৫ হাজার টাকা জমা রয়েছে। টাকার অভাবে পড়ালেখা করাতে পারিনি। সে মেধাবী ছিল, এলাকায় টিউশন ও ব্যাচ পড়াত।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে সজীব আর ব্যাচ পড়াতে ও টিউশনিতে যাবে না। নিজের অর্থ দিয়ে সংসারে নানাভাবে সহযোগিতা করত সজীব। কী জন্য ভ্রমণে গেলি? কত কষ্ট করে ছোট থেকে লালনপালন করেছি। সকালে বলেছে আব্বা আমি ভ্রমণে যাচ্ছি, আমার জন্য দোয়া করিয়েন। এই যে শেষ কথা, সজীবের সঙ্গে আর কথা হলো না।

নিহত জিয়াউল হক সজীবের ভাই তৌসিফ বলেন, আমি প্রতিদিন সকালে কোচিং সেন্টারের তালা খুলে দিতাম। এখন আর তালা খুলে দিতে হবে না। সেদিন সকালে আমি ঘুম থেকে উঠার আগে আমার ভাই না ফেরার দেশে চলে গেছে। কোচিং সেন্টারে আমার ভাই সজীব শিক্ষক হিসেবে খুবই ভালো ছিলেন। এলাকায় সবাই তাকে ভালো ছেলে হিসেবে চিনে।

যুগিরহাট এলাকার আরসিএইচ প্লাস কোচিং সেন্টার পরিচালক ও শিক্ষক ফারুক চৌধুরী বলেন, নিহত চারজনই আমার কোচিং সেন্টারের ছাত্র ছিল। নিজেরা কোচিং সেন্টার চালুর বিষয়ে তারা আমাকে জানায়। আমিও তাদের কোচিং সেন্টার চালুর ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছিলাম। এদের মধ্যে গত সপ্তাহখানেক আগে জিসান ফোর-এইচ গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানে রিপোর্টিং প্রোডাকশন অফিসার পদে যোগদানও করেছিল।

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ মিঞা বলেন, নিহত চার বন্ধু একসঙ্গে খেলাধুলা আর চলাফেরা ছাড়াও এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কোচিং সেন্টার কিন্তু ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়তে হলো উজ্জ্বল প্রান্তর থেকে। এছাড়া নিহত অন্যরা সবাই স্কুল-কলেজের ছাত্র। পাশাপাশি তারা গ্রামে কোচিং সেন্টার চালায়। এলাকার মেধাবী এতগুলো ছেলে একসঙ্গে চলে যাওয়া মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। এই শূন্যতা কীভাবে পূরণ হবে বুঝতে পারছি না।

‘ভ্রমণে যাচ্ছি, আমার জন্য দোয়া করিয়েন’

 মো. আবু তালেব, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) 
০১ আগস্ট ২০২২, ০৪:১১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

এমন দুঃসময় দেখেনি কেউ আগে চট্টগ্রামের অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের আমানবাজার থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্বে খন্দকিয়া গ্রামের মানুষ। তারা কখনও বুঝতে পারেনি তাদের নতুন প্রজন্মেরসেই হাজারো অধরা স্বপ্ন নিঃশব্দে ফিরে যাবে। বিধির বিধান, সুতোয় বাঁধা যে প্রাণ; মহাকালের ডাকে তাতে টান পড়বেই। তবে টানটি পড়েছে তা বড়ো অসময়ে।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের খন্দকিয়া গ্রামের মানুষ দেখে বোঝার উপায় নেই; কিছুদিন আগেও এই গ্রামের মানুষের মুখে ছিল হাসি ও প্রাণময়তা। তবে এখন কারো মুখে হাসি নেই, রাস্তায় স্থানে স্থানে জটলা। মধ্য শ্রাবণেও খরতাপে হঠাৎ কেমন জানি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঝড় এসে সব ওলট-পালট করে দিয়েছে। শোকে বিহ্বল গ্রামের বাসিন্দাদের চোখে এখন শ্রাবণ ধারা। ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার পর গ্রামের মানুষের মাঝে বিরাজ করছে নিরবতা। পাশাপাশি শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের ছয়দিনই শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকা গ্রামের যুগীরহাটস্থ শেখ মার্কেটের দ্বিতল ভবনের ‘আর অ্যান্ড জে কোচিং’ নামে সেই কোচিং সেন্টারটিতে এখন কেবলই শূন্যতা, চারপাশে খাঁ খাঁ নিস্তব্ধতা।

সরেজমিনে ওই কোচিং সেন্টারে দেখা গেল, প্রতিষ্ঠানটির নিচে ভবনটির প্রধান ফটকটি বন্ধ এবং প্রথম তলার মূল ফটকে তালা ঝুলানো। তবে, ছাত্র-শিক্ষকহীন সেই কোচিং সেন্টারের সামনে লক্ষ্য করা গেছে উৎসুক জনতার ভিড়। কারণ গত শুক্রবার এই কোচিং সেন্টারের শিক্ষক তাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভ্রমণে গিয়েছিলেন মীরসরাই খৈয়াছড়া ঝর্ণায়। ভ্রমণ শেষে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি মীরসরাই রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় মহানগর প্রভাতি ট্রেনের ধাক্কায় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। 

এ সময় গাড়িতে থাকা ১৮ জনের মধ্যে ১১ ছাত্র-শিক্ষকই ঘরে ফিরেছে বটে, তবে জীবিত নয় লাশ হয়ে। নিহতদের মধ্যে সাতজনের বাড়ি চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের খন্দকিয়া গ্রামে এবং অন্যরা হলেন নগরীর বালুচরা, হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর, দক্ষিণ মাদার্শা, এবং ফতেপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। আহত সাতজনের বাড়ি খন্দকিয়া গ্রামে। কোচিং সেন্টারের অন্য দুই শিক্ষকের মধ্যে আবদুল্লাহ আরিফ রিসাদের যাওয়ার কথা থাকলেও সে এবং অপর শিক্ষিকা জেসি আক্তার তার পারিবারিক কাজের জন্য ভ্রমণে যাননি।

রোববার সকালে ওই কোচিং সেন্টারে গেলে কথা হয় কোচিং সেন্টারের শিক্ষক রিসাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, সেদিন কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভ্রমণে আমারও যাওয়া কথা ছিল। তাছাড়া আনন্দ ভ্রমণ নিয়ে এক দিন আগেও কত কথা ও আড্ডা হচ্ছিল! এসব কথায় আমিও ছিলাম। বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধান্ত ছিল, আমি যাব। কিন্তু সকালে কী মনে করে যেন মত পরিবর্তন করি; তাই, বেঁচে গেছি।

শিক্ষক রিসাদ আরও জানান, খন্দকিয়া গ্রামের যুগিরহাটস্থ কে সি জিয়াউর রহমান কলেজ রোডে শেখ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় চলতি বছরের মার্চ মাসে জিয়াউল হক সজীব, ওয়াহিদুল আলম জিসান, মোহাম্মদ রিদওয়ানুল চৌধুরী মিলে কোচিং সেন্টারটি চালু করেছিল। পরে আমি এবং জেসি আকতার (জিসানের বোন) ও মোস্তফা মাসুদ রাকিব শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়।

জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে কোচিং সেন্টার চার শিক্ষক, তিনজন স্কুল ছাত্র, দুইজন কলেজ ছাত্র, চার শিক্ষক ও মাইক্রোবাস চালকসহ দুই জন। তাদের মধ্যে কোচিং সেন্টারের চার শিক্ষক জিসান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছে। এছাড়া রিদওয়ান চট্টগ্রাম কলেজের দর্শন বিভাগের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র, সজীব ওমরগণি এমইএস কলেজের গণিত প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং রাকিব চট্টগ্রাম মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে অনার্সে ভর্তির জন্য অপেক্ষমান ছিলেন। তাছাড়া কোচিং সেন্টারের ছাত্রদের মধ্যে সামিরুল হাসান, মোসআব আহম্মেদ হিশাম ও ইকবাল হোসেন মারুফ শিকারপুরের কে এস নজুমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং আসিকুর রহমান আশিক ও শান্ত শীল কে সি শহিদ জিয়াউর রহমান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। এর মধ্যে নিহত মো. সাজ্জাদ ও মাইক্রোবাচালক গোলাম মোস্তফা নীরু।তবে নিহত সাজ্জাত পড়ালেখার সঙ্গে যুক্ত নন। সে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক সজীবের বন্ধু হিসেবে তিনিও পিকনিকে গিয়েছিলেন।

এদিকে, আহতদের মধ্যে তাসমির হাসান, আয়াতুল ইসলাম ও মো. সৈকত কে এস নজুমিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। মাহিম, ইমন ও হৃদয় কে সি শহিদ জিয়াউর রহমান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং মাইক্রোবাস সহকারী তৌহিদ ইবনে শাওন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

জিয়াউল হক সজীবের বাবা হামিদ হোসেন অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে সজীবসহ তিনজন মিলে ৫০ হাজার টাকা কিস্তি নিয়ে কোচিং সেন্টারটি চালু করেছিল। দুই মাসের ১০ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করেছে। ভবন মালিকের কাছে ২৫ হাজার টাকা জমা রয়েছে। টাকার অভাবে পড়ালেখা করাতে পারিনি। সে মেধাবী ছিল, এলাকায় টিউশন ও ব্যাচ পড়াত।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে সজীব আর ব্যাচ পড়াতে ও টিউশনিতে যাবে না। নিজের অর্থ দিয়ে সংসারে নানাভাবে সহযোগিতা করত সজীব। কী জন্য ভ্রমণে গেলি? কত কষ্ট করে ছোট থেকে লালনপালন করেছি। সকালে বলেছে আব্বা আমি ভ্রমণে যাচ্ছি, আমার জন্য দোয়া করিয়েন। এই যে শেষ কথা, সজীবের সঙ্গে আর কথা হলো না।

নিহত জিয়াউল হক সজীবের ভাই তৌসিফ বলেন, আমি প্রতিদিন সকালে কোচিং সেন্টারের তালা খুলে দিতাম। এখন আর তালা খুলে দিতে হবে না। সেদিন সকালে আমি ঘুম থেকে উঠার আগে আমার ভাই না ফেরার দেশে চলে গেছে। কোচিং সেন্টারে আমার ভাই সজীব শিক্ষক হিসেবে খুবই ভালো ছিলেন। এলাকায় সবাই তাকে ভালো ছেলে হিসেবে চিনে।

যুগিরহাট এলাকার আরসিএইচ প্লাস কোচিং সেন্টার পরিচালক ও শিক্ষক ফারুক চৌধুরী বলেন, নিহত চারজনই আমার কোচিং সেন্টারের ছাত্র ছিল। নিজেরা কোচিং সেন্টার চালুর বিষয়ে তারা আমাকে জানায়। আমিও তাদের কোচিং সেন্টার চালুর ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছিলাম। এদের মধ্যে গত সপ্তাহখানেক আগে জিসান ফোর-এইচ গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানে রিপোর্টিং প্রোডাকশন অফিসার পদে যোগদানও করেছিল।

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ মিঞা বলেন, নিহত চার বন্ধু একসঙ্গে খেলাধুলা আর চলাফেরা ছাড়াও এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কোচিং সেন্টার কিন্তু ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়তে হলো উজ্জ্বল প্রান্তর থেকে। এছাড়া নিহত অন্যরা সবাই স্কুল-কলেজের ছাত্র। পাশাপাশি তারা গ্রামে কোচিং সেন্টার চালায়। এলাকার মেধাবী এতগুলো ছেলে একসঙ্গে চলে যাওয়া মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। এই শূন্যতা কীভাবে পূরণ হবে বুঝতে পারছি না।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন