ব্রিজে ভয়াবহ ফাটল, ঝুঁকিতে ৬ গ্রামের মানুষ 
jugantor
ব্রিজে ভয়াবহ ফাটল, ঝুঁকিতে ৬ গ্রামের মানুষ 

  মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি  

০৬ আগস্ট ২০২২, ২০:২৮:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

মাগুরার মহম্মদপুরে দুই পাশের রেলিং ভাঙা ব্রিজে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে ৬ থেকে ৮ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বিশেষ করে স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজগামী ছেলে-মেয়েদের এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ চরমে। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি এ অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন কালিগাং খালের উপর ব্রিজটি অবস্থিত।

জানা যায়, ব্রিজটি সাড়ে ৬ ফুট প্রস্থ ও দৈর্ঘ্যে ১৩৫ ফুট রয়েছে। দুইপাশের রেলিং ভাঙা। সেতুটির মাঝামাঝি স্থানে বড় অংশজুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচলের সময় ছোট দুর্ঘটনা ঘটলেই ২৫ ফুট নিচে পানিতে পড়ে যায়। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরও ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্রিজটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, শিগগিরই সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।

মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন খালের উপর ২২ বছর আগে গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয় সেতুটি। এটি সরু হওয়ায় শুধু রিকশা, অটোরিকশা ও রিকশাভ্যান চলাচল করে থাকে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বালিদিয়া, নিখরহাটা, শ্রীপুর, কলমধরী চরবড়রিয়া, গবরনাদা, মৌশা গ্রামের হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ব্রিজটি দিয়ে নিয়মিত বালিদিয়া দক্ষিণপাড়া বাজার, শিকদার মোড় বাজার, বালিদিয়া দক্ষিনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, সরকারি আসাদুজ্জামান কলেজ, বালিদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বালিদিয়া কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাসহ সাধারণ জনগণ এই ব্রিজটি যাতায়াত করে। ব্রিজের উত্তর পাশে রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কোমলমতি শিশুরা এ ব্রিজ দিয় পার হয়ে স্কুলে যেতেও ভয় পায়। এতে স্কুলে উপস্থিতি কমেছে বলে জানান শিক্ষকরা।

বালিদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহাফুজুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিশুরা এই ব্রিজ পার হয়ে স্কুলে আসতে ভয় পায়। এখন খালে প্রচুর পানি অভিভাবকরাও স্কুলে পাঠাতে ভয় পান।

তিনি আরও বলেন ৭-৮ বছর আগে কিছু বখাটে ছেলেরা ব্রিজের রড ভেঙে বিক্রি করে দেয়। আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বর্তমানে ব্রিজের দুপাশের রেলিং না থাকায় পারাপারের জন্য বিপজ্জনক হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের দাবির পরও সেতুটি মেরামতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

বালিদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান মিনা বলেন, ব্রিজটির অবস্থা খুবই খারাপ। আমি নিজেই ব্রিজটি দিয়ে যাতায়াত করি। ব্যাপক ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ব্রিজটির দ্রুত সংস্কারের দাবি করছি।

মহম্মদপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ইঞ্জিনিয়ার মো. সাদ্দাম হোসাইন বলেন, আমরা ব্রিজের নতুন ডিজাইন ও প্যানের তথ্যদি সদর দপ্তরে পাঠিয়েছি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে দ্রুত কাজ শুরু হবে।

ব্রিজে ভয়াবহ ফাটল, ঝুঁকিতে ৬ গ্রামের মানুষ 

 মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি 
০৬ আগস্ট ২০২২, ০৮:২৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মাগুরার মহম্মদপুরে দুই পাশের রেলিং ভাঙা ব্রিজে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে ৬ থেকে ৮ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বিশেষ করে স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজগামী ছেলে-মেয়েদের এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ চরমে। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি এ অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন কালিগাং খালের উপর ব্রিজটি অবস্থিত। 

জানা যায়, ব্রিজটি সাড়ে ৬ ফুট প্রস্থ ও দৈর্ঘ্যে ১৩৫ ফুট রয়েছে। দুইপাশের রেলিং ভাঙা। সেতুটির মাঝামাঝি স্থানে বড় অংশজুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচলের সময় ছোট দুর্ঘটনা ঘটলেই ২৫ ফুট নিচে পানিতে পড়ে যায়। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। 

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরও ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্রিজটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, শিগগিরই সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।

মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন খালের উপর ২২ বছর আগে গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয় সেতুটি। এটি সরু হওয়ায় শুধু রিকশা, অটোরিকশা ও রিকশাভ্যান চলাচল করে থাকে। 

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার  বালিদিয়া, নিখরহাটা, শ্রীপুর, কলমধরী চরবড়রিয়া, গবরনাদা, মৌশা গ্রামের হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ব্রিজটি দিয়ে নিয়মিত বালিদিয়া দক্ষিণপাড়া বাজার, শিকদার মোড় বাজার, বালিদিয়া দক্ষিনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, সরকারি আসাদুজ্জামান কলেজ, বালিদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বালিদিয়া কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাসহ সাধারণ জনগণ এই ব্রিজটি যাতায়াত করে। ব্রিজের উত্তর পাশে রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কোমলমতি শিশুরা এ ব্রিজ দিয় পার হয়ে স্কুলে যেতেও ভয় পায়। এতে স্কুলে উপস্থিতি কমেছে বলে জানান শিক্ষকরা।

বালিদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহাফুজুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিশুরা এই ব্রিজ পার হয়ে স্কুলে আসতে ভয় পায়। এখন খালে প্রচুর পানি অভিভাবকরাও স্কুলে পাঠাতে ভয় পান। 

তিনি আরও বলেন ৭-৮ বছর আগে কিছু বখাটে ছেলেরা ব্রিজের রড ভেঙে বিক্রি করে দেয়। আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বর্তমানে ব্রিজের দুপাশের রেলিং না থাকায় পারাপারের জন্য বিপজ্জনক হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের দাবির পরও সেতুটি মেরামতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

বালিদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান মিনা বলেন, ব্রিজটির অবস্থা খুবই খারাপ। আমি নিজেই ব্রিজটি দিয়ে যাতায়াত করি। ব্যাপক ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ব্রিজটির দ্রুত সংস্কারের দাবি করছি।

মহম্মদপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ইঞ্জিনিয়ার মো. সাদ্দাম হোসাইন বলেন, আমরা ব্রিজের নতুন ডিজাইন ও প্যানের তথ্যদি সদর দপ্তরে পাঠিয়েছি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে দ্রুত কাজ শুরু হবে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন