টাকার ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্ব, চালক পেছনে তাকালে উল্টে যায় বাস
jugantor
টাকার ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্ব, চালক পেছনে তাকালে উল্টে যায় বাস

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি  

০৬ আগস্ট ২০২২, ২২:৫৬:১৫  |  অনলাইন সংস্করণ

কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার দিকে যাওয়ার পথে ঈগল এক্সপ্রেসের বাসে ডাকাতি ও গণধর্ষণের পর লুণ্ঠিত টাকা ও মোবাইল ফোনসহ অনান্য মালামাল বাসের ভেতরেই ভাগাভাগি করে ডাকাত দল। এ সময় এক যাত্রীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ২০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ডাকাতরা একজন আরেকজনের দেহ তল্লাশি শুরু করে।

একপর্যায়ে বাসের চালকের আসনে থাকা ডাকাত দলের সদস্য কথা কাটাকাটি দেখার জন্য পেছনে তাকায়। এ সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি টাঙ্গাইলের মধুপুরের রক্তিপাড়ায় রাস্তার পাশে বালুর স্তূপের মধ্যে উল্টে পড়ে যায়।

রিমান্ডে থাকা রাজা মিয়া এবং শুক্রবার গ্রেফতার হওয়া আব্দুল আওয়াল ও নুরনবী জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এছাড়া মামলার বাদী হেকমত মিয়ার স্ত্রী জেসমিন আরা বলেন, ডাকাত দল ডাকাতি শেষ করে একে অপরকে ডাকাডাকি করেন। রাত ৩টার দিকে ডাকাতরা টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি শুরু করেন। বাসের ভেতরে ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সড়কের এক পাশে বাসটি কাত হয়ে যায়। পরে ডাকাতরা দ্রুত নেমে পালিয়ে যায়।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, ডাকাত দলের এক সদস্য ২০ হাজার টাকা একজন যাত্রীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় এবং ওই টাকা লুকিয়ে ফেলে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ডাকাত। পরে একজন আরেকজনের দেহ তল্লাশি শুরু করে। এ সময় চালকের আসনে গ্রেফতারকৃত রাজা মিয়া ছিল না, ডাকাত দলের আরেক সদস্য বাস চালাচ্ছিল। সে পেছন দিকে তাকিয়ে ভালো করে তল্লাশি করার নির্দেশনা দিচ্ছিল। এ সময় বাসটি রাস্তার পাশে কাত হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে ঈগল পরিবহনের একটি বাস নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের একটি খাবার হোটেলে যাত্রা বিরতি করে। সেখান থেকে যাত্রা শুরুর পর তিন দফায় যাত্রীবেশী কয়েকজন ডাকাত বাসে উঠে।

বাসটি টাঙ্গাইল অতিক্রম করার পর ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে চালককে জিম্মি করে বাসটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। তারা যাত্রীদের হাত, পা, চোখ বেঁধে তাদের সব লুটে নেয়। এ সময় বাসে থাকা একাধিক নারী যাত্রী ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হন। পরে বাসটি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের দিকে ডাকাতরা নিয়ে যায়।

রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাসটি মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া নামক স্থানে রাস্তার খাদে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোক ও ফায়ার সার্ভিস যাত্রীদের উদ্ধার করে। পরে পুলিশ আসলে যাত্রীরা ডাকাতি ও নির্যাতনের বিষয়টি জানান। ওই বাসের যাত্রী হেকমত মিয়া বাদী হয়ে মধুপুর থানায় বাস ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করেন।

টাকার ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্ব, চালক পেছনে তাকালে উল্টে যায় বাস

 টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 
০৬ আগস্ট ২০২২, ১০:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার দিকে যাওয়ার পথে ঈগল এক্সপ্রেসের বাসে ডাকাতি ও গণধর্ষণের পর লুণ্ঠিত টাকা ও মোবাইল ফোনসহ অনান্য মালামাল বাসের ভেতরেই ভাগাভাগি করে ডাকাত দল। এ সময় এক যাত্রীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ২০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ডাকাতরা একজন আরেকজনের দেহ তল্লাশি শুরু করে। 

একপর্যায়ে বাসের চালকের আসনে থাকা ডাকাত দলের সদস্য কথা কাটাকাটি দেখার জন্য পেছনে তাকায়। এ সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি টাঙ্গাইলের মধুপুরের রক্তিপাড়ায় রাস্তার পাশে বালুর স্তূপের মধ্যে উল্টে পড়ে যায়।

রিমান্ডে থাকা রাজা মিয়া এবং শুক্রবার গ্রেফতার হওয়া আব্দুল আওয়াল ও নুরনবী জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

এছাড়া মামলার বাদী হেকমত মিয়ার স্ত্রী জেসমিন আরা বলেন, ডাকাত দল ডাকাতি শেষ করে একে অপরকে ডাকাডাকি করেন। রাত ৩টার দিকে ডাকাতরা টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি শুরু করেন। বাসের ভেতরে ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সড়কের এক পাশে বাসটি কাত হয়ে যায়। পরে ডাকাতরা দ্রুত নেমে পালিয়ে যায়। 

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, ডাকাত দলের এক সদস্য ২০ হাজার টাকা একজন যাত্রীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় এবং ওই টাকা লুকিয়ে ফেলে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ডাকাত। পরে একজন আরেকজনের দেহ তল্লাশি শুরু করে। এ সময় চালকের আসনে গ্রেফতারকৃত রাজা মিয়া ছিল না, ডাকাত দলের আরেক সদস্য বাস চালাচ্ছিল। সে পেছন দিকে তাকিয়ে ভালো করে তল্লাশি করার নির্দেশনা দিচ্ছিল। এ সময় বাসটি রাস্তার পাশে কাত হয়ে যায়। 

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে ঈগল পরিবহনের একটি বাস নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের একটি খাবার হোটেলে যাত্রা বিরতি করে। সেখান থেকে যাত্রা শুরুর পর তিন দফায় যাত্রীবেশী কয়েকজন ডাকাত বাসে উঠে।

বাসটি টাঙ্গাইল অতিক্রম করার পর ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে চালককে জিম্মি করে বাসটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। তারা যাত্রীদের হাত, পা, চোখ বেঁধে তাদের সব লুটে নেয়। এ সময় বাসে থাকা একাধিক নারী যাত্রী ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হন। পরে বাসটি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের দিকে ডাকাতরা নিয়ে যায়।

রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাসটি মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া নামক স্থানে রাস্তার খাদে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোক ও ফায়ার সার্ভিস যাত্রীদের উদ্ধার করে। পরে পুলিশ আসলে যাত্রীরা ডাকাতি ও নির্যাতনের বিষয়টি জানান। ওই বাসের যাত্রী হেকমত মিয়া বাদী হয়ে মধুপুর থানায় বাস ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন