খাদ্য উৎপাদনে বিএডিসির সেচ প্রকল্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: কৃষিমন্ত্রী
jugantor
খাদ্য উৎপাদনে বিএডিসির সেচ প্রকল্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: কৃষিমন্ত্রী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৯ আগস্ট ২০২২, ১২:২৭:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএডিসির সেচ প্রকল্প দেশে খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলা পদুয়ার বাজার এলাকা গত রোববার বিএডিসির উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সেচ কমপ্লেক্স, ফলদ বাগান, সৌরশক্তি চালিত ডাগওয়েল ও ড্রিপ সেচ পদ্ধতির প্রদর্শনী প্লটের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

উদ্বোধন শেষে কৃষি মন্ত্রী সেচ কমপ্লেক্সে কাজু বাদামের চারা রোপণ করেন এবং বঙ্গবন্ধু কর্ণারে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন।

এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, বিএডিসির চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) এ এফ এম হায়াতুল্লাহ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা অঞ্চলের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘ফলদ বাগান, সৌরশক্তি চালিত ডাগওয়েল ও ড্রিপ সেচ পদ্ধতির প্রদর্শনী প্লট’ এর উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ শেষে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমরা সেচ কাজে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের দেশে শীতকালে যখন বোরো ধান লাগানো হয়, তখন সেচ কাজে বেশি পানির প্রয়োজন হয়।

কারণ বোরো ধান পুরোটাই সেচ নির্ভর ফসল। তাছাড়া অন্য ফসলের ক্ষেত্রেও বৃষ্টিপাত কম হলে সেচের প্রয়োজন হয়। ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারে সেচ খরচ কম হয়। সেজন্য যদি আমরা নদী বা খালের পানিকে সংরক্ষণ করে সম্পূরক সেচকাজে ব্যবহার করতে পারতাম তবে অল্প সেচ খরচে অধিক ফসল ফলাতে পারতাম।

মন্ত্রী বলেন, সেচ কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পনির সর্বোত্তম ব্যবহারের উপায় হচ্ছে খাল ও নদীসমূহ খনন। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানির প্রবাহ কমে গেছে, অনেক খাল দীর্ঘদিন ধরে পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে খাল এবং নদীগুলো পুনঃখনন করে দিলে দুই দিক থেকে আমাদের কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন।

এই খাল খননের ফলে এক দিকে যেন জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পতিত জলাবদ্ধ জমিগুলো নতুন করে চাষের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে অপর দিকে শুকনো মৌসুমে খালের জমাটবদ্ধ পানি সেচ কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। আর এ কাজটিই দক্ষতার সঙ্গে করে যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর সেচ বিভাগ।

তিনি বলেন, বিএডিসির কুমিল্লা-চাঁদপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিন জেলায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার খাল ইতোমধ্যে খনন করা হয়েছে।

কুমিল্লা অঞ্চলের কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চাহিদা অনুযায়ী এ অঞ্চলে আরও প্রায় ১০০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের প্রয়োজনীয়তা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে এ অঞ্চলের কৃষির উন্নয়নে আরো বৃহৎ পরিসরে প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

খাদ্য উৎপাদনে বিএডিসির সেচ প্রকল্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: কৃষিমন্ত্রী

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৯ আগস্ট ২০২২, ১২:২৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএডিসির সেচ প্রকল্প দেশে খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলা পদুয়ার বাজার এলাকা গত রোববার বিএডিসির উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সেচ কমপ্লেক্স, ফলদ বাগান, সৌরশক্তি চালিত ডাগওয়েল ও ড্রিপ সেচ পদ্ধতির প্রদর্শনী প্লটের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

উদ্বোধন শেষে কৃষি মন্ত্রী সেচ কমপ্লেক্সে কাজু বাদামের চারা রোপণ করেন এবং বঙ্গবন্ধু কর্ণারে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন।

এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, বিএডিসির চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) এ এফ এম হায়াতুল্লাহ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা অঞ্চলের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘ফলদ বাগান, সৌরশক্তি চালিত ডাগওয়েল ও ড্রিপ সেচ পদ্ধতির প্রদর্শনী প্লট’ এর উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ শেষে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমরা সেচ কাজে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের দেশে শীতকালে যখন বোরো ধান লাগানো হয়, তখন সেচ কাজে বেশি পানির প্রয়োজন হয়।

কারণ বোরো ধান পুরোটাই সেচ নির্ভর ফসল। তাছাড়া অন্য ফসলের ক্ষেত্রেও বৃষ্টিপাত কম হলে সেচের প্রয়োজন হয়। ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারে সেচ খরচ কম হয়। সেজন্য যদি আমরা নদী বা খালের পানিকে সংরক্ষণ করে সম্পূরক সেচকাজে ব্যবহার করতে পারতাম তবে অল্প সেচ খরচে অধিক ফসল ফলাতে পারতাম।

মন্ত্রী বলেন, সেচ কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পনির সর্বোত্তম ব্যবহারের উপায় হচ্ছে খাল ও নদীসমূহ খনন। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানির প্রবাহ কমে গেছে, অনেক খাল দীর্ঘদিন ধরে পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে খাল এবং নদীগুলো পুনঃখনন করে দিলে দুই দিক থেকে আমাদের কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন।

এই খাল খননের ফলে এক দিকে যেন জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পতিত জলাবদ্ধ জমিগুলো নতুন করে চাষের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে অপর দিকে শুকনো মৌসুমে খালের জমাটবদ্ধ পানি সেচ কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। আর এ কাজটিই দক্ষতার সঙ্গে করে যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর সেচ বিভাগ।

তিনি বলেন, বিএডিসির কুমিল্লা-চাঁদপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিন জেলায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার খাল ইতোমধ্যে খনন করা হয়েছে।

কুমিল্লা অঞ্চলের কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চাহিদা অনুযায়ী এ অঞ্চলে আরও প্রায় ১০০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের প্রয়োজনীয়তা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে এ অঞ্চলের কৃষির উন্নয়নে আরো বৃহৎ পরিসরে প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন