আলোচিত শিশু রাফসান হত্যা মামলার আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে
jugantor
আলোচিত শিশু রাফসান হত্যা মামলার আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

  ফরিদপুর ব্যুরো  

১২ আগস্ট ২০২২, ১৮:২০:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

শিশু রাফসান বয়াতি

ফরিদপুরের সদরপুরে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতির শিশুসন্তান রাফসান বয়াতি (৯) হত্যা মামলার আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার একজন আসামিকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

গত ১৮ মে সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান বয়াতির বাড়িতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি চেয়ারম্যানের শিশুপুত্র রাফসানকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং তার স্ত্রী দিলজাহান রত্নাকে কুপিয়ে আহত করে। তিনি বর্তমানে ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর হামলাকারীদের একজন এরশাদ মোল্লা স্থানীয় জনগণের ধাওয়া খেয়ে বিশ্বজাকের মঞ্জিলের সামনের টিঅ্যান্ডটির টাওয়ারে উঠেন। একপর্যায়ে সেখান থেকে লাফিয়ে পড়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

শিশুপুত্রকে হারিয়ে ও স্ত্রীর সংকটাপন্ন অবস্থায় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি এখন দিশাহারা। মামলার বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শককে ‘তদন্ত করে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক’ চিঠি দেওয়া হলেও এখনও আসামিরা গ্রেফতার হয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মামলা তুলে নিতে আসামিরা ইউপি চেয়ারম্যানকে ‘আরও বড় ধরনের খেসারত’ দিতে হবে বলে হুমকি দিচ্ছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঢেউখালী ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতির সঙ্গে রাজনৈতিক শত্রুতা চলছিল এলাকার মো. মোস্তফা মৃধা ও নাজমুল ইসলাম বাবু মোল্লার। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিবাদ হয়।

গত ১৬ মে একটি জমি কেনা নিয়ে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সঙ্গে নাজমুল ইসলাম বাবুর কথা কাটাকাটি হয়। বাবু তাকে জমিটি না কিনতে এ বিষয়ে নাক না গলানোর হুমকি দেন।

এছাড়া পারিবারিক একটি বিষয়ে সালিশের রায় ‘মন মতো’ না হওয়ায় চেয়ারম্যানের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন স্থানীয় এরশাদ মোল্লা নামে এক ব্যক্তি।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিপক্ষের লোকজন এরশাদকে দিয়ে চেয়ারম্যানকে শায়েস্তা করার ফন্দি আঁটে। চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি ঢাকায় থাকার সুবাদে সন্ত্রাসীরা চেয়ারম্যানের সদরপুরের ভাড়া বাড়িতে হামলা করে। সেই সময় চেয়ারম্যানের শিশুপুত্র রাফসান ও স্ত্রী দিলজাহান রত্না সেই বাসায় ছিলেন।

হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুপুত্র রাফসানকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় তার মা দিলজাহান রত্না এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেলে হামলাকারীদের ধাওয়া করেন। এ সময় হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও এরশাদ মোল্লা ধাওয়া খেয়ে টিঅ্যান্ডটির টাওয়ারে উঠেন। একপর্যায়ে জনরোষ থেকে বাঁচতে সেখান থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন এরশাদ মোল্লা।

শিশুপুত্র হত্যার ঘটনায় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদী হয়ে সদরপুর থানায় মোস্তফা মৃধা, নাজমুল ইসলাম বাবু মোল্লা, এরশাদ মোল্লা, ইমরান মোল্লা, রাকিব মোল্লা, মো. রুহুল আমিন, আলমগীর, রবিউল মোল্লা ও সামেলা বেগমকে আসামি করে মামলা করেন।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এ মামলার একজন আসামিকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে মামলার বাদী মিজানুর রহমান বয়াতি হতাশ হয়ে পড়েছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি অভিযোগ করে বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। আসামিরা প্রভাবশালী একটি মহলের সঙ্গে আঁতাত করে এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারা বিভিন্ন সময় মোটরসাইকেল নিয়ে আমার বাড়ির সামনে দিয়ে শোডাউন করন। মামলা তুলে না নিলে আমাকে ‘বড় ধরনের খেসারত’ দিতে হবে বলে হুমকি দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতার না করায় আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়ে আবেদন করি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি ও সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু তাতেও আসামিদের গ্রেফতার করতে পারছে না পুলিশ।

মিজানুর রহমান বয়াতি আরও বলেন, আমার শিশুপুত্রকে কুপিয়ে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়েছে, স্ত্রীকে কুপিয়ে মৃত্যুশয্যায় পাঠানো হয়েছে। আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। হামলার ঘটনার পর আমি নিজে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। বেশকিছু দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম।

মামলার আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়ে সদরপুর থানার ওসি সুব্রত গোলদার বলেন, এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। মামলার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যেঘুরে বেড়াচ্ছেন- এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আলোচিত শিশু রাফসান হত্যা মামলার আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

 ফরিদপুর ব্যুরো 
১২ আগস্ট ২০২২, ০৬:২০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
শিশু রাফসান বয়াতি
শিশু রাফসান বয়াতি। ফাইল ছবি

ফরিদপুরের সদরপুরে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতির শিশুসন্তান রাফসান বয়াতি (৯) হত্যা মামলার আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও  মামলার একজন আসামিকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। 

গত ১৮ মে সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান বয়াতির বাড়িতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি চেয়ারম্যানের শিশুপুত্র রাফসানকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং তার স্ত্রী দিলজাহান রত্নাকে কুপিয়ে আহত করে। তিনি বর্তমানে ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

ঘটনার পর হামলাকারীদের একজন এরশাদ মোল্লা স্থানীয় জনগণের ধাওয়া খেয়ে বিশ্বজাকের মঞ্জিলের সামনের টিঅ্যান্ডটির টাওয়ারে উঠেন। একপর্যায়ে সেখান থেকে লাফিয়ে পড়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। 

শিশুপুত্রকে হারিয়ে ও স্ত্রীর সংকটাপন্ন অবস্থায় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি এখন দিশাহারা। মামলার বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শককে ‘তদন্ত করে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক’ চিঠি দেওয়া হলেও এখনও আসামিরা গ্রেফতার হয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

অভিযোগ রয়েছে, মামলা তুলে নিতে আসামিরা ইউপি চেয়ারম্যানকে ‘আরও বড় ধরনের খেসারত’ দিতে হবে বলে হুমকি দিচ্ছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্যরা। 

স্থানীয় এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঢেউখালী ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতির সঙ্গে রাজনৈতিক শত্রুতা চলছিল এলাকার মো. মোস্তফা মৃধা ও নাজমুল ইসলাম বাবু মোল্লার। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিবাদ হয়। 

গত ১৬ মে একটি জমি কেনা নিয়ে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সঙ্গে নাজমুল ইসলাম বাবুর কথা কাটাকাটি হয়। বাবু তাকে জমিটি না কিনতে এ বিষয়ে নাক না গলানোর হুমকি দেন। 

এছাড়া পারিবারিক একটি বিষয়ে সালিশের রায় ‘মন মতো’ না হওয়ায় চেয়ারম্যানের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন স্থানীয় এরশাদ মোল্লা নামে এক ব্যক্তি। 

এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিপক্ষের লোকজন এরশাদকে দিয়ে চেয়ারম্যানকে শায়েস্তা করার ফন্দি আঁটে। চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি ঢাকায় থাকার সুবাদে সন্ত্রাসীরা চেয়ারম্যানের সদরপুরের ভাড়া বাড়িতে হামলা করে। সেই সময় চেয়ারম্যানের শিশুপুত্র রাফসান ও স্ত্রী দিলজাহান রত্না সেই বাসায় ছিলেন।
 
হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুপুত্র রাফসানকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় তার মা দিলজাহান রত্না এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। 

বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেলে হামলাকারীদের ধাওয়া করেন। এ সময় হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও এরশাদ মোল্লা ধাওয়া খেয়ে টিঅ্যান্ডটির টাওয়ারে উঠেন। একপর্যায়ে জনরোষ থেকে বাঁচতে সেখান থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন এরশাদ মোল্লা। 

শিশুপুত্র হত্যার ঘটনায় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদী হয়ে সদরপুর থানায় মোস্তফা মৃধা, নাজমুল ইসলাম বাবু মোল্লা, এরশাদ মোল্লা, ইমরান মোল্লা, রাকিব মোল্লা, মো. রুহুল আমিন, আলমগীর, রবিউল মোল্লা ও সামেলা বেগমকে আসামি করে মামলা করেন। 

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এ মামলার একজন আসামিকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে মামলার বাদী মিজানুর রহমান বয়াতি হতাশ হয়ে পড়েছেন। 

ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি অভিযোগ করে বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। আসামিরা প্রভাবশালী একটি মহলের সঙ্গে আঁতাত করে এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারা বিভিন্ন সময় মোটরসাইকেল নিয়ে আমার বাড়ির সামনে দিয়ে শোডাউন করন। মামলা তুলে না নিলে আমাকে ‘বড় ধরনের খেসারত’ দিতে হবে বলে হুমকি দিচ্ছেন। 

তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতার না করায় আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়ে আবেদন করি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি ও সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু তাতেও আসামিদের গ্রেফতার করতে পারছে না পুলিশ। 

মিজানুর রহমান বয়াতি আরও বলেন, আমার শিশুপুত্রকে কুপিয়ে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়েছে, স্ত্রীকে কুপিয়ে মৃত্যুশয্যায় পাঠানো হয়েছে। আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। হামলার ঘটনার পর আমি নিজে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। বেশকিছু দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। 

মামলার আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়ে সদরপুর থানার ওসি সুব্রত গোলদার বলেন, এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। মামলার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন- এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন