৫০ বছর পর সনদ খুঁজে পেলেন মুক্তিযোদ্ধা, তালিকাভুক্তির আবেদন 
jugantor
৫০ বছর পর সনদ খুঁজে পেলেন মুক্তিযোদ্ধা, তালিকাভুক্তির আবেদন 

  নাটোর প্রতিনিধি  

১২ আগস্ট ২০২২, ১৮:৪৭:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

সনদ

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২০ বছরের তরুণ ছিলেন আব্দুল গাফ্ফার। স্থানীয় এক কমান্ডারের তত্ত্বাবধানে আট দিনের ট্রেনিং নিয়ে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অর্জন করেন সনদ। পরে সনদটি জমা দেন মায়ের কাছে। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৫০ বছর।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন শুরু করলে সনদ খোঁজা শুরু করেন আব্দুল গাফফার। কেননা ওই সনদ না হলে তালিকাভুক্ত বা গেজেটভুক্ত হতে পারবেন না; কিন্তু বয়সের ভারে ন্যুব্জ মা মনে করতে পারেন না কোথায় রেখেছেন সেই সনদ।

পেশায় কৃষক আবুল গাফফারের মা প্রায় চার বছর আগে মারা গেছেন। সম্প্রতি তিনি তার সনদটি পুরাতন কাগজের মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন। এখন তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে চান।

মুক্তিযোদ্ধা দাবি করা আব্দুল গাফ্ফার নাটোর সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকার গোদাই মন্ডলের ছেলে।

তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর নিজ এলাকার সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নেন বেশ কিছু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা। তাদের সহযোগী হিসেবে তিনি প্রথমে কাজ শুরু করেন। এরপর বালিয়াকান্দি এলাকায় আবুল কমান্ডারের তত্ত্বাবধানে তিনি আট দিনের ট্রেনিং নেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে রাজশাহীর ঝলমলিয়া, নাটোরের হালতি, জংলীর লেংগুরিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতা অর্জনের পর নাটোরের তৎকালীন আওয়ামীর লীগ নেতা শঙ্কর গোবিন্দ চৌধুরীর নির্দেশে তারা গরুর গাড়িতে করে বন্দুক জমা দেন। কিছুদিন পর শঙ্কর গোবিন্দ চৌধুরীর মাধ্যমেই রাজশাহী থেকে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ দেওয়া হয়।

নাটোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান বলেন, আব্দুল গাফ্ফার যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকা ও গেজেটভুক্তির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।

তিন ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা গাফ্ফারের এখন দিন কাটে অন্যের কৃষিজমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। অভাবের কারণে পড়ালেখা করাতে পারেননি কোনো সন্তানকে।

স্থানীয় ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন জানান, গাফ্ফারের বড় ছেলে নূর মোহাম্মদের স্ত্রী দীর্ঘ দিন ক্যানসারে আক্রান্ত। বয়সের ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযোদ্ধা গাফ্ফারও এখন তেমন কাজ করতে পারেন না। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হলে বাকি জীবনটা তিনি ভালো কাটাতে পারবেন।

৫০ বছর পর সনদ খুঁজে পেলেন মুক্তিযোদ্ধা, তালিকাভুক্তির আবেদন 

 নাটোর প্রতিনিধি 
১২ আগস্ট ২০২২, ০৬:৪৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সনদ
ছবি-যুগান্তর

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২০ বছরের তরুণ ছিলেন আব্দুল গাফ্ফার। স্থানীয় এক কমান্ডারের তত্ত্বাবধানে আট দিনের ট্রেনিং নিয়ে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অর্জন করেন সনদ। পরে সনদটি জমা দেন মায়ের কাছে। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৫০ বছর। 

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন শুরু করলে সনদ খোঁজা শুরু করেন আব্দুল গাফফার। কেননা ওই সনদ না হলে তালিকাভুক্ত বা গেজেটভুক্ত হতে পারবেন না; কিন্তু বয়সের ভারে ন্যুব্জ মা মনে করতে পারেন না কোথায় রেখেছেন সেই সনদ। 

পেশায় কৃষক আবুল গাফফারের মা প্রায় চার বছর আগে মারা গেছেন। সম্প্রতি তিনি তার সনদটি পুরাতন কাগজের মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন। এখন তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে চান। 

মুক্তিযোদ্ধা দাবি করা আব্দুল গাফ্ফার নাটোর সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকার গোদাই মন্ডলের ছেলে। 

তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর নিজ এলাকার সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নেন বেশ কিছু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা। তাদের সহযোগী হিসেবে তিনি প্রথমে কাজ শুরু করেন। এরপর বালিয়াকান্দি এলাকায় আবুল কমান্ডারের তত্ত্বাবধানে তিনি আট দিনের ট্রেনিং নেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে রাজশাহীর ঝলমলিয়া, নাটোরের হালতি, জংলীর লেংগুরিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতা অর্জনের পর নাটোরের তৎকালীন আওয়ামীর লীগ নেতা শঙ্কর গোবিন্দ চৌধুরীর নির্দেশে তারা গরুর গাড়িতে করে বন্দুক জমা দেন। কিছুদিন পর শঙ্কর গোবিন্দ চৌধুরীর মাধ্যমেই রাজশাহী থেকে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ দেওয়া হয়। 

নাটোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান বলেন, আব্দুল গাফ্ফার যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকা ও গেজেটভুক্তির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। 

তিন ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা গাফ্ফারের এখন দিন কাটে অন্যের কৃষিজমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। অভাবের কারণে পড়ালেখা করাতে পারেননি কোনো সন্তানকে। 

স্থানীয় ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন জানান, গাফ্ফারের বড় ছেলে নূর মোহাম্মদের স্ত্রী দীর্ঘ দিন ক্যানসারে আক্রান্ত। বয়সের ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযোদ্ধা গাফ্ফারও এখন তেমন কাজ করতে পারেন না। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হলে বাকি জীবনটা তিনি ভালো কাটাতে পারবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন