যে কারণে সোমেশ্বরী নদীর বালু উত্তোলন-পরিবহণ বন্ধ
jugantor
যে কারণে সোমেশ্বরী নদীর বালু উত্তোলন-পরিবহণ বন্ধ

  দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি  

১২ আগস্ট ২০২২, ২০:৩১:০৯  |  অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর বালু মহাল থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ১০ দিন ধরে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। সেই সাথে বন্ধ আছে ইজারাস্থল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বালু পরিবহণ। বালু উত্তোলনের পর সড়ক ও জানমালের নিরাপত্তায় ভিজা ও ওভারলোড বালু পরিবহণে স্থানীয় প্রশাসন নিষেধ করলে সোমেশ্বরী নদীর বালু উত্তোলন-পরিবহণ বন্ধ করে দেন মালিক-শ্রমিকরা।

এতে এলাকার কয়েক হাজার বালু শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি সমাধানে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করছেন না কেউ।

সরেজমিন দেখা গেছে, দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর ৫টি ইজারা মহাল থেকে সরকারিভাবে ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেন স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী। সম্প্রতি ওই সমস্ত মহাল থেকে বালু উত্তোলনের পর সড়ক ও জানমালের নিরাপত্তায় ভিজা ও ওভারলোড বালু পরিবহনে স্থানীয় প্রশাসন নিষেধ করলে বালু মহালে কর্মরত বালু শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গত ৩ আগস্ট থেকে শ্রমিকরা বালু উত্তোলন ও পরিবহণ কাজ বন্ধ রাখে। এতে ৫টি বালু মহালে কর্মরত ৫-৬ হাজার বালু শ্রমিক গত প্রায় ১০ দিন ধরে বেকার হয়ে পড়েন। অন্যদিকে ইজারাদাররা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

সোমেশ্বরী নদীর ১নং রালু ঘাটের ইজারাদার ধনেশ পত্রনবীশ বলেন, শুরু থেকে আমার ঘাটে ভিজা ও ওভারলোড বালু পরিবহণ চলমান ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ভিজা ও ওভারলোড বালু পরিবহণে নিষেধ করায় প্রায় ১০ দিন ধরে ইজারাকৃত চারটি ঘাট থেকে বালু পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে করে প্রতিনিয়ত আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১৫দিন বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল, এছাড়া সরকারি বিভিন্ন দিবস পালনে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় এবছর ইজারাকৃত টাকা উঠানো সম্ভব হবে না। পাশাপাশি ঘাটের শ্রমিকরা বেকার হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।

নেত্রকোনা জেলা ট্রাক, ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শ্রমিকরা খুব অসুবিধের মধ্যে আছি। ট্রাক মালিক ও বালুর ইজারাদাররা আমাদের কোনো ধরনের ছাড় দেয় না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। আশা করছি অচিরেই বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, এতে করে পরিবহণ খরচও বেড়েছে। সরকার বাসের ভাড়া নির্ধারণ করলেও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর পৌরসভার মেয়র আলাউদ্দিন আলাল বলেন, বালু পরিবহণ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি বালু শ্রমিকরাও বেকার হয়ে পড়েছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও শ্রমিকদের এ বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসা উচিত বলে আমি মনে করি।

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাজিব-উল-আহসান যুগান্তরকে বলেন, সরকারি বিধি মোতাবেক বালু পরিবহণ করলে প্রশাসনের কোনো আপত্তি বা নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। সড়ক রক্ষা ও সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে ভেজা ও ওভারলোড বালু পরিবহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ইতোপূর্বে এ নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাও করা হয়েছে।

যে কারণে সোমেশ্বরী নদীর বালু উত্তোলন-পরিবহণ বন্ধ

 দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 
১২ আগস্ট ২০২২, ০৮:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর বালু মহাল থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ১০ দিন ধরে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। সেই সাথে বন্ধ আছে ইজারাস্থল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বালু পরিবহণ। বালু উত্তোলনের পর সড়ক ও জানমালের নিরাপত্তায় ভিজা ও ওভারলোড বালু পরিবহণে স্থানীয় প্রশাসন নিষেধ করলে সোমেশ্বরী নদীর বালু উত্তোলন-পরিবহণ বন্ধ করে দেন মালিক-শ্রমিকরা।

এতে এলাকার কয়েক হাজার বালু শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি সমাধানে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করছেন না কেউ। 

সরেজমিন দেখা গেছে, দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর ৫টি ইজারা মহাল থেকে সরকারিভাবে ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেন স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী। সম্প্রতি ওই সমস্ত মহাল থেকে বালু উত্তোলনের পর সড়ক ও জানমালের নিরাপত্তায় ভিজা ও ওভারলোড বালু পরিবহনে স্থানীয় প্রশাসন নিষেধ করলে বালু মহালে কর্মরত বালু শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গত ৩ আগস্ট থেকে শ্রমিকরা বালু উত্তোলন ও পরিবহণ কাজ বন্ধ রাখে। এতে ৫টি বালু মহালে কর্মরত ৫-৬ হাজার বালু শ্রমিক গত প্রায় ১০ দিন ধরে বেকার হয়ে পড়েন। অন্যদিকে ইজারাদাররা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

সোমেশ্বরী নদীর ১নং রালু ঘাটের ইজারাদার ধনেশ পত্রনবীশ বলেন, শুরু থেকে আমার ঘাটে ভিজা ও ওভারলোড বালু পরিবহণ চলমান ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ভিজা ও ওভারলোড বালু পরিবহণে নিষেধ করায় প্রায় ১০ দিন ধরে ইজারাকৃত চারটি ঘাট থেকে বালু পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে করে প্রতিনিয়ত আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১৫দিন বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল, এছাড়া সরকারি বিভিন্ন দিবস পালনে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় এবছর ইজারাকৃত টাকা উঠানো সম্ভব হবে না। পাশাপাশি ঘাটের শ্রমিকরা বেকার হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।

নেত্রকোনা জেলা ট্রাক, ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শ্রমিকরা খুব অসুবিধের মধ্যে আছি। ট্রাক মালিক ও বালুর ইজারাদাররা আমাদের কোনো ধরনের ছাড় দেয় না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। আশা করছি অচিরেই বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, এতে করে পরিবহণ খরচও বেড়েছে। সরকার বাসের ভাড়া নির্ধারণ করলেও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর পৌরসভার মেয়র আলাউদ্দিন আলাল বলেন, বালু পরিবহণ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি বালু শ্রমিকরাও বেকার হয়ে পড়েছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও শ্রমিকদের এ বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসা উচিত বলে আমি মনে করি।

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাজিব-উল-আহসান যুগান্তরকে বলেন, সরকারি বিধি মোতাবেক বালু পরিবহণ করলে প্রশাসনের কোনো আপত্তি বা নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। সড়ক রক্ষা ও সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে ভেজা ও ওভারলোড বালু পরিবহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ইতোপূর্বে এ নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাও করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন