ভাঙছে সৈকতের বালিয়াড়ি, আতঙ্কে পর্যটন ব্যবসায়ীরা (ভিডিও)
jugantor
ভাঙছে সৈকতের বালিয়াড়ি, আতঙ্কে পর্যটন ব্যবসায়ীরা (ভিডিও)

  শফিউল্লাহ শফি ও জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার  

১২ আগস্ট ২০২২, ২১:০০:২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

জিওব্যাগেই ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে কক্সবাজার সৈকতের শত বছরের পুরনো লাবণী পয়েন্টের বালিয়াড়ি। লঘুচাপের প্রভাবে গত তিন দিন ধরে বঙ্গোপসাগর চরম উত্তাল। স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৪ ফুট বাড়ছে জোয়ারের পানি।

শুক্রবার পূর্ণিমার টানে জোয়ারের পানি বেড়েছে আরও প্রবল। বাড়ন্ত পানির ঢেউয়ের তোড়ে ক্রমেই ভাঙছে কক্সবাজার সৈকতের তীর। ঢেউয়ের ঝাঁপটায় ক্ষয়ে যাচ্ছে সৈকতের বালু।

অথচ দেখা গেছে, সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টসহ যেসব এলাকায় জিও ব্যাগে বাঁধ নাই, সেখানে কোনো ধরনের ভাঙন দেখা দেয়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, মূলত জিওব্যাগের বাঁধের কারণে জোয়ারের পানি বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে সৈকতে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে কলাতলীর ডলফিন মোড় পর্যন্ত এলাকায় ঢেউয়ের তোড়ে বিভিন্ন এলাকার বালু সরে গেছে। এতে ভাঙন দেখা দিয়েছে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে। এই ভাঙনে ক্ষতবিক্ষত হয়ে সৌন্দর্য হারাচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

ভাঙনের কবলে সাগরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি, ঝাউগাছের সারি। ঢেউয়ের তোড়ে ভাঙনের কবলে রয়েছে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, জেলা প্রশাসন নির্মিত উন্মুক্ত মঞ্চ, সৈকতের ছাতা ও ঝিনুক মার্কেট। ভাঙন আরও তীব্র হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

ডায়বেটিক পয়েন্ট হতে লাবণী পর্যন্ত জায়গায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুভর্তি জিও টিউব দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করলেও প্রকৃতির তাণ্ডবে এসব বাধা না মেনে ভাঙন তীব্র হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ঢেউয়ের তীব্রতা শুরু হলে লাবণী এলাকার উর্মি পয়েন্টে তীরেই ড্রেজার মেশিন বসিয়ে জিওব্যাগে বালু ভরাট করা হয়। এরপরই সেই অংশের ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সৈকতের ভাঙন এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার।

এ সময় ভাঙন দেখতে আসা শহরের বাহারছরার বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ তোফায়েল আহমেদ বলেন, ঝাউবন ও স্থাপনা রক্ষার নামে জিওব্যাগ ভরতে তীরের ১০০ ফুটের মাথা থেকে তোলা হয়েছে বালু। পরে জোয়ারের পানি এসে সেই গর্ত ডিঙিয়ে তলিয়ে নিয়ে গেছে জিওব্যাগসহ তীর। পাউবোর দায়িত্বশীলরা সৈকতের আচরণ সম্পর্কে জ্ঞাত নয়। এখানে ঢেউয়ের মুখে বাঁধ দিলে তা ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ঢেউয়ের পানি স্বাভাবিক ভাবে আসা-যাওয়া করতে পারলে এত ভাঙন হতো না। পাউবো ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের অদূরদর্শিতায় কিনার থেকে বালি তুলে ঢেউয়ের মুখে ঢালা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এটি অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে উচ্চ জোয়ারের আঘাতে ঝুঁকির মুখে পড়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিউটি ঘর। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরটি কোনো মতে খুলে সাগরে বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা করেছি।

লাবণী পয়েন্টে দায়িত্বরত লাইফ গার্ড কর্মী ওসমান বলেন, এত উচ্চতায় জোয়ার বিগত বছরগুলোতে দেখিনি। সৈকতের কবিতা চত্বর পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত বালিয়াড়ি ভাঙ্গছে। ঝুঁকির মুখে পড়েছে নানা স্থাপনা। সৌন্দর্যহীন হয়ে পড়ছে সৈকত। ঢেউয়ের তোড়ে ওয়াকওয়ের ইট উঠে গিয়ে এলোমেলো হওয়ায় সৈকতে নামতে গিয়ে আহত হচ্ছেন পর্যটকরা।

স্থানীয়রা জানান, সুদীর্ঘকাল হতে বর্ষায় সাগরে পানি বৃদ্ধি পায়। তবে ভাঙন এরকম তীব্র হতো না। বোদ্ধাদের মতে কক্সবাজারের বালুকাময় সৈকতে কোন ধরনের স্থাপনা গ্রহণযোগ্য নয়। নাজিরারটেক থেকে ইনানী পর্যন্ত বালুকাময় সৈকতে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হলে সাগর ফুঁসে ওঠে। অতীতে এরকম অনেক নজির দেখা গেছে।

কক্সবাজার সৈকত এবং দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) ঘোষণা করে যে কোনো বহুতল ভবন নির্মাণে রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা। এ নিষিদ্ধ এলাকায় যেসব বহুতল সুরম্য অট্টালিকা নির্মিত হয়েছে এগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশনাও কার্যকর হচ্ছে না।

সুগন্ধা পয়েন্ট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, বিশ্বের দীর্ঘ সৈকতের শহর কক্সবাজার শুধু চিত্ত-বিনোদনের প্রাণ কেন্দ্র নয়; বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যকর স্থানও। কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়াতে রেল লাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। অথচ সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যভরা সৈকত হুমকির মুখে। দেশের জাতীয় ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কক্সবাজার সৈকত রক্ষার দাবি সবার। সমুদ্র সৈকত ঘিরে নানা কার্যক্রমে হাজারো কর্মসংস্থান হয়েছে। সমুদ্র সৈকত ধ্বংস হলে দেশের পর্যটন শিল্প ধ্বংসের পাশাপাশি এসব কর্মজীবীদের জীবনেও বিপর্যয় নেমে আসবে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির সাইফ আহমেদ বলেন, গত কয়েক বছর ধরে সৈকতে ডায়বেটিক পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত বর্ষায় ভাঙনের কবলে পড়ছে। তা রোধে প্রাথমিকভাবে সৈকতের কবিতা চত্বর পয়েন্ট থেকে লাবণী পয়েন্টের কিছু অংশ জিওব্যাগ বসানো হয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, সৈকতের ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধে নাজিরারটেক হতে কলাতলীর বেলী হ্যাচারি পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার একটি টেকসই দৃষ্টিনন্দন বাঁধ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সেটি পাশ হলেই শুরু হবে কাজ। কিন্তু চলমান ভাঙন রোধে জিওব্যাগ বসানো ছাড়া বিকল্প কোনো পন্থা নেই। কিনার থেকে বালি তোলার কারণে ভাঙন বেড়ে থাকলে পরবর্তীতে দূরবর্তী স্থান হতে বালি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।

ভাঙছে সৈকতের বালিয়াড়ি, আতঙ্কে পর্যটন ব্যবসায়ীরা (ভিডিও)

 শফিউল্লাহ শফি ও জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার 
১২ আগস্ট ২০২২, ০৯:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জিওব্যাগেই ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে কক্সবাজার সৈকতের শত বছরের পুরনো লাবণী পয়েন্টের বালিয়াড়ি। লঘুচাপের প্রভাবে গত তিন দিন ধরে বঙ্গোপসাগর চরম উত্তাল। স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৪ ফুট বাড়ছে জোয়ারের পানি।

শুক্রবার পূর্ণিমার টানে জোয়ারের পানি বেড়েছে আরও প্রবল। বাড়ন্ত পানির ঢেউয়ের তোড়ে ক্রমেই ভাঙছে কক্সবাজার সৈকতের তীর। ঢেউয়ের ঝাঁপটায় ক্ষয়ে যাচ্ছে সৈকতের বালু।

অথচ দেখা গেছে, সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টসহ যেসব এলাকায় জিও ব্যাগে বাঁধ নাই, সেখানে কোনো ধরনের ভাঙন দেখা দেয়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, মূলত জিওব্যাগের বাঁধের কারণে জোয়ারের পানি বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে সৈকতে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে কলাতলীর ডলফিন মোড় পর্যন্ত এলাকায় ঢেউয়ের তোড়ে বিভিন্ন এলাকার বালু সরে গেছে। এতে ভাঙন দেখা দিয়েছে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে। এই ভাঙনে ক্ষতবিক্ষত হয়ে সৌন্দর্য হারাচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

ভাঙনের কবলে সাগরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি, ঝাউগাছের সারি। ঢেউয়ের তোড়ে ভাঙনের কবলে রয়েছে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, জেলা প্রশাসন নির্মিত উন্মুক্ত মঞ্চ, সৈকতের ছাতা ও ঝিনুক মার্কেট। ভাঙন আরও তীব্র হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

ডায়বেটিক পয়েন্ট হতে লাবণী পর্যন্ত জায়গায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুভর্তি জিও টিউব দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করলেও প্রকৃতির তাণ্ডবে এসব বাধা না মেনে ভাঙন তীব্র হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ঢেউয়ের তীব্রতা শুরু হলে লাবণী এলাকার উর্মি পয়েন্টে তীরেই ড্রেজার মেশিন বসিয়ে জিওব্যাগে বালু ভরাট করা হয়। এরপরই সেই অংশের ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। 

এদিকে শুক্রবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সৈকতের ভাঙন এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার।

এ সময় ভাঙন দেখতে আসা শহরের বাহারছরার বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ তোফায়েল আহমেদ বলেন, ঝাউবন ও স্থাপনা রক্ষার নামে জিওব্যাগ ভরতে তীরের ১০০ ফুটের মাথা থেকে তোলা হয়েছে বালু। পরে জোয়ারের পানি এসে সেই গর্ত ডিঙিয়ে তলিয়ে নিয়ে গেছে জিওব্যাগসহ তীর। পাউবোর দায়িত্বশীলরা সৈকতের আচরণ সম্পর্কে জ্ঞাত নয়। এখানে ঢেউয়ের মুখে বাঁধ দিলে তা ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ঢেউয়ের পানি স্বাভাবিক ভাবে আসা-যাওয়া করতে পারলে এত ভাঙন হতো না। পাউবো ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের অদূরদর্শিতায় কিনার থেকে বালি তুলে ঢেউয়ের মুখে ঢালা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এটি অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। 

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে উচ্চ জোয়ারের আঘাতে ঝুঁকির মুখে পড়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিউটি ঘর। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরটি কোনো মতে খুলে সাগরে বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা করেছি।

লাবণী পয়েন্টে দায়িত্বরত লাইফ গার্ড কর্মী ওসমান বলেন, এত উচ্চতায় জোয়ার বিগত বছরগুলোতে দেখিনি। সৈকতের কবিতা চত্বর পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত বালিয়াড়ি ভাঙ্গছে। ঝুঁকির মুখে পড়েছে নানা স্থাপনা। সৌন্দর্যহীন হয়ে পড়ছে সৈকত। ঢেউয়ের তোড়ে ওয়াকওয়ের ইট উঠে গিয়ে এলোমেলো হওয়ায় সৈকতে নামতে গিয়ে আহত হচ্ছেন পর্যটকরা।

স্থানীয়রা জানান, সুদীর্ঘকাল হতে বর্ষায় সাগরে পানি বৃদ্ধি পায়। তবে ভাঙন এরকম তীব্র হতো না। বোদ্ধাদের মতে কক্সবাজারের বালুকাময় সৈকতে কোন ধরনের স্থাপনা গ্রহণযোগ্য নয়। নাজিরারটেক থেকে ইনানী পর্যন্ত বালুকাময় সৈকতে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হলে সাগর ফুঁসে ওঠে। অতীতে এরকম অনেক নজির দেখা গেছে।

কক্সবাজার সৈকত এবং দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) ঘোষণা করে যে কোনো বহুতল ভবন নির্মাণে রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা। এ নিষিদ্ধ এলাকায় যেসব বহুতল সুরম্য অট্টালিকা নির্মিত হয়েছে এগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশনাও কার্যকর হচ্ছে না।

সুগন্ধা পয়েন্ট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, বিশ্বের দীর্ঘ সৈকতের শহর কক্সবাজার শুধু চিত্ত-বিনোদনের প্রাণ কেন্দ্র নয়; বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যকর স্থানও। কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়াতে রেল লাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। অথচ সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যভরা সৈকত হুমকির মুখে। দেশের জাতীয় ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কক্সবাজার সৈকত রক্ষার দাবি সবার। সমুদ্র সৈকত ঘিরে নানা কার্যক্রমে হাজারো কর্মসংস্থান হয়েছে। সমুদ্র সৈকত ধ্বংস হলে দেশের পর্যটন শিল্প ধ্বংসের পাশাপাশি এসব কর্মজীবীদের জীবনেও বিপর্যয় নেমে আসবে। 

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির সাইফ আহমেদ বলেন, গত কয়েক বছর ধরে সৈকতে ডায়বেটিক পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত বর্ষায় ভাঙনের কবলে পড়ছে। তা রোধে প্রাথমিকভাবে সৈকতের কবিতা চত্বর পয়েন্ট থেকে লাবণী পয়েন্টের কিছু অংশ জিওব্যাগ বসানো হয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, সৈকতের ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধে নাজিরারটেক হতে কলাতলীর বেলী হ্যাচারি পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার একটি টেকসই দৃষ্টিনন্দন বাঁধ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সেটি পাশ হলেই শুরু হবে কাজ। কিন্তু চলমান ভাঙন রোধে জিওব্যাগ বসানো ছাড়া বিকল্প কোনো পন্থা নেই। কিনার থেকে বালি তোলার কারণে ভাঙন বেড়ে থাকলে পরবর্তীতে দূরবর্তী স্থান হতে বালি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন