বিউটিশিয়ান শাম্মী হত্যায় গ্রেফতার সেই শিক্ষিকা বরখাস্ত
jugantor
বিউটিশিয়ান শাম্মী হত্যায় গ্রেফতার সেই শিক্ষিকা বরখাস্ত

  মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি   

১২ আগস্ট ২০২২, ২১:৪৭:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার চাঞ্চল্যকর শাম্মী আক্তার (৪০) হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার শিক্ষিকা আয়শা খানমকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্কুল পরিচালনা কমিটি।

বৃহস্পতিবার বিকালে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের এমপি স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে ঘাতক স্কুলশিক্ষিকা আয়শা খানম ও নিহতের বর্তমান স্বামী সিরাজুল সালেকিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের ছেলে স্কুলছাত্র সায়েম আলমের সহপাঠীরা।

অপরদিকে হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. জেন্নাত আলীকে রহস্যজনক কারণে প্রত্যাহার করে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাতে পিরোজপুর পুলিশ সুপারের দপ্তর থেকে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান জেন্নাত আলীর প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কী কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, তা তিনি বলেননি।

গত সোমবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শাম্মী আক্তারের (৪০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই রাতে নিহতের ছেলে (১৭) বাদী হয়ে তার সৎবাবা শেখ সিরাজুল সালেকিন ও মামী স্কুলশিক্ষিকা আয়শা খানমের (৫০) বিরুদ্ধে মামলা করেন। আয়শা খানম লতীফ ইনস্টিটিউশনের শিক্ষিকা।

নারী উদ্যোক্তা শাম্মী আক্তার কেএম লতীফ সুপার মার্কেটে দ্বিতীয় তলায় ১০ বছর ধরে পার্লারের ব্যবসা করে আসছিলেন। প্রথম স্বামী ফিরাজ আলমের সঙ্গে প্রায় ১৩ বছর আগে বিচ্ছেদ হওয়ার পর সেই সংসারের দুই সন্তান নিয়ে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের থানাপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

দুই বছর আগে বিয়ে হওয়া দ্বিতীয় স্বামী সালেকিন ঢাকায় ব্যবসা করেন। ৭ আগস্ট শাম্মী আক্তার ও সালেকিনের বিয়েবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সালেকিন ওই দিনই সকালে মঠবাড়িয়ার ওই বাসায় আসেন। বিয়েবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নিকটাত্মীয় শিক্ষিকা আয়শা খানমও ওই বাসায় আসেন।

অনুষ্ঠান শেষে শাম্মী আক্তার স্বামী সালেকিনকে নিয়ে ঘরের পেছনের বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়েন। শাম্মী আক্তারের ভাবি আয়শা খানম ঘরের মধ্যে খাটে ঘুমান। গভীর রাতে শাম্মী আক্তারের ঘুম ভেঙে গেলে ঘরের মাঝের খাটে সালেকিন ও আয়শা খানমকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আয়শা খানমের সহযোগিতায় সালেকিন তার স্ত্রীর মুখে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি মুহা. নূরুল ইসলাম বাদল বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে তারা। হত্যায় ব্যবহৃত বালিশটি জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আদলতে সোপর্দ করা হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

বিউটিশিয়ান শাম্মী হত্যায় গ্রেফতার সেই শিক্ষিকা বরখাস্ত

 মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি  
১২ আগস্ট ২০২২, ০৯:৪৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার চাঞ্চল্যকর শাম্মী আক্তার (৪০) হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার শিক্ষিকা আয়শা খানমকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্কুল পরিচালনা কমিটি। 

বৃহস্পতিবার বিকালে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের এমপি স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে ঘাতক স্কুলশিক্ষিকা আয়শা খানম ও নিহতের বর্তমান স্বামী সিরাজুল সালেকিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের ছেলে স্কুলছাত্র সায়েম আলমের সহপাঠীরা। 

অপরদিকে হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. জেন্নাত আলীকে রহস্যজনক কারণে প্রত্যাহার করে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। 

গত মঙ্গলবার রাতে পিরোজপুর পুলিশ সুপারের দপ্তর থেকে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান জেন্নাত আলীর প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কী কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, তা তিনি বলেননি।

গত সোমবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শাম্মী আক্তারের (৪০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই রাতে নিহতের ছেলে (১৭) বাদী হয়ে তার সৎবাবা শেখ সিরাজুল সালেকিন ও মামী স্কুলশিক্ষিকা আয়শা খানমের (৫০) বিরুদ্ধে মামলা করেন। আয়শা খানম লতীফ ইনস্টিটিউশনের শিক্ষিকা।

নারী উদ্যোক্তা শাম্মী আক্তার কেএম লতীফ সুপার মার্কেটে দ্বিতীয় তলায় ১০ বছর ধরে পার্লারের ব্যবসা করে আসছিলেন। প্রথম স্বামী ফিরাজ আলমের সঙ্গে প্রায় ১৩ বছর আগে বিচ্ছেদ হওয়ার পর সেই সংসারের দুই সন্তান নিয়ে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের থানাপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। 

দুই বছর আগে বিয়ে হওয়া দ্বিতীয় স্বামী সালেকিন ঢাকায় ব্যবসা করেন। ৭ আগস্ট শাম্মী আক্তার ও সালেকিনের বিয়েবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সালেকিন ওই দিনই সকালে মঠবাড়িয়ার ওই বাসায় আসেন। বিয়েবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নিকটাত্মীয় শিক্ষিকা আয়শা খানমও ওই বাসায় আসেন। 

অনুষ্ঠান শেষে শাম্মী আক্তার স্বামী সালেকিনকে নিয়ে ঘরের পেছনের বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়েন। শাম্মী আক্তারের ভাবি আয়শা খানম ঘরের মধ্যে খাটে ঘুমান। গভীর রাতে শাম্মী আক্তারের ঘুম ভেঙে গেলে ঘরের মাঝের খাটে সালেকিন ও আয়শা খানমকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আয়শা খানমের সহযোগিতায় সালেকিন তার স্ত্রীর মুখে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি মুহা. নূরুল ইসলাম বাদল বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে তারা। হত্যায় ব্যবহৃত বালিশটি জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আদলতে সোপর্দ করা হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন