শিশুর তিন আঙুল হারানোর ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ আদালতের
jugantor
শিশুর তিন আঙুল হারানোর ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ আদালতের

  পাবনা প্রতিনিধি   

১৩ আগস্ট ২০২২, ০১:১০:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় শিশু তামিম মোল্লার (১) তিনটি আঙুল কেটে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করে পাবনা সদর থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাবনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম এ নির্দেশ দেন।

এদিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘটনাটি নিয়ে লুকোচুরির অভিযোগ উঠেছে। তিনি এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করলেও কমিটির নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পাবনা সদর উপজেলার গাছপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জাহিদের ১ বছরের শিশু তামিম মোল্লাকে ডায়রিয়ার চিকিৎসা করাতে ভর্তি করেছিলেন পাবনা জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু ভুল চিকিৎসার জেরে পরে ওই শিশুর হাতের ৩টি আঙুলই কেটে বাদ দিতে হয়েছে।

এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তর অনলাইনে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এতে সহানুভূতি প্রকাশ করে সব মহল।

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ জানান, তার ১ বছর বয়সী শিশু মো. তামিম মোল্লা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে গত ১০ জুন পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া (উদরাময়) ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ১২ জুন সকালে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী কর্তব্যরত নার্স বাচ্চাকে ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশনটি রগে (রক্ত নালীতে) প্রয়োগ না করে সংশ্লিষ্ট পুরুষ নার্স মাংসপেশিতে প্রয়োগ করেন। ইনজেকশন পুশ করার পর থেকেই বাচ্চার ডান হাত ফুলতে থাকে এবং বাচ্চা তীব্র ব্যথার যন্ত্রণায় চিৎকার-আর্তনাদ করতে থাকে।

তিনি জানান, বাচ্চার ব্যথা ও কান্নার কারণে ডিউটিরত নার্সদেরকে বারবার দেখালে তারা বলেন- ঠিক হয়ে যাবে। ইনজেকশন পুশ করার স্থানে (ডান হাত) ক্রমান্বয়ে লালাভ-বেগুনি বর্ণ ধারণ করে এবং তার বাচ্চা অনবরত যন্ত্রণায় কাঁদতে ও ছটফট করতে থাকে। তার স্ত্রী বার বার নার্সদের ডেকে দেখালে তারা বলেন, ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। সে সময় কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখালে তিনি ক্ষত স্থানে বরফ দিতে বলেন এবং নাপা সিরাপ খাওয়াতে বলেন।

১৩ জুন আবারো শিশু তামিমকে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখালে তিনি প্রেসক্রিপসনে একটি মলম লিখে দেন এবং লাগাতে বলেন। পরদিন ১৪ জুন কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখালে তিনি তার বাচ্চাকে শিশু ওয়ার্ডে রেফার্ড করে দেন। বাচ্চার অনবরত কান্নায় তারা বারবার কর্তব্যরত ডাক্তার-নার্সদের শরণাপন্ন হন। তারা সবাই ঠিক হয়ে যাবে বলে এড়িয়ে যান।

১৮ জুন আবারো কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখালে চিকিৎসক শিশুকে রক্ত দিতে বলেন। তারা শিশুকে ১ ব্যাগ রক্ত দেয়ার ব্যবস্থা করেন। ওই দিনই রাত ১২টার দিকে তারা শিশুসহ হাসপাতাল ত্যাগ করেন। কিন্তু অবস্থার আরও অবনতি হলে ২১ জুন হাসপাতালে বহির্বিভাগে টিকেট কেটে চিকিৎসককে দেখালে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক শিশুকে আবারো রক্ত দিতে বলেন। তিনিও বলেন ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কেউ বিষয়টির গুরুত্ব দেননি বলে জাহিদুল ইসলাম জানান।

এদিকে ৪ জুলাই হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. ওমর ফারুক মীরের কার্যালয়ে জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় তিনি তাকে পাননি। এ সময় তার কক্ষে থাকা কয়েকজন তাকে হাসপাতাল কর্তৃক প্রদত্ত রোগী ভর্তির ফরম এর মূল কপি রেখে ফটোকপি হাতে ধরিয়ে দেন। এরপর তিনি তার শিশুকে একজন চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বারে নিয়ে যান।

সেই চিকিৎসক তাকে ঢাকার শিশু হাসপাতালে (নিটর, ঢাকা) দেখানোর পরামর্শ দেন। সেই মোতাবেক তারা সেখানে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা শিশুটিকে পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ৬ জুলাই শিশুটিকে ঢাকার শেরেবাংলার পঙ্গু হাসপাতালে দেখানো হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা সার্জারির মাধ্যমে শিশুটির ডান হাতের ৩টি আঙুল কেটে ফেলতে বলেন। তারা জানান, অনেক বিলম্ব হওয়ার কারণে আঙুল কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

শিশুটির বাবা জানান, ঢাকার ক্লিনিকে ব্যয়বহুল হওয়ায় তিনি পাবনা চলে আসেন। এরপর গত ২৯ জুলাই পাবনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে তার শিশুর ৩টি আঙুল কেটে বাদ দেওয়া হয়।

জাহিদুল ইসলাম জানান, তার শিশুটির অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার সন্তানটি গুরুত্বপূর্ণ ডান হাতটির তিনটি আঙুল হারাল। তার শিশুর ক্ষেত্রে যে অবহেলা করা হয়েছে তিনি তার বিচার চান।

তিনি জানান, তার শিশুর আঙুল তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু তার মতো কোনো অভিভাবক বা রোগীকে যেন এমন অবস্থার মুখোমুখি হতে না হয় সেজন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের বিচার চেয়ে পাবনার সিভিল সার্জন, পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালকসহ বিভিন্ন মহলে আবেদন করেন।

কিন্তু এ ঘটনায় শুরু থেকেই পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ওমর ফারুক মীর ঘটনাটি নিয়ে লুকোচুরি করেন। সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের চাপে গত সপ্তাহে সহকারী পরিচালক একটি তদন্ত কমিটি করেন। কিন্তু সেই তদন্ত কমিটি কাকে দিয়ে তিনি করেছেন তা সাংবাদিকসহ কাউকে বলতে নারাজ।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) বিকালে সহকারী পরিচালক ডা. ওমর ফারুক মীরকে তদন্ত কমিটির প্রধানের নাম জিজ্ঞাসা করলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, এটি গোপনীয়। এ সময় তাকে বলা হয়-তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত রিপোর্ট কাউকে না জানানো গোপন হতে পারে। কিন্তু তদন্ত কমিটি গোপন হয় কী করে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি নিশ্চুপ থাকেন।

পরে যুগান্তরের পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সালেহ মোহাম্মদ আলীকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু কবে রিপোর্ট দেওয়া হবে তা জানানো হয়নি।

এ ব্যাপারে শিশু তামিমের বাবা জাহিদুল ইসলাম জাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত রোববার তার সঙ্গে হাসপাতাল থেকে যোগাযোগ করা হলে পরদিন সোমবার তিনি একটি লিখিত বক্তব্য জমা দেন। এর চেয়ে বেশি কিছু তাকে জানানো হয়নি।

এদিকে শিশু তামিমের ৩ আঙুল হারানোয় পাবনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলামের নির্দেশে পাবনা সদর থানার ওসি তদন্ত শুরু করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভিকটিমের স্বজনকে থানায় ডাকা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।

শিশুর তিন আঙুল হারানোর ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ আদালতের

 পাবনা প্রতিনিধি  
১৩ আগস্ট ২০২২, ০১:১০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় শিশু তামিম মোল্লার (১) তিনটি আঙুল কেটে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করে পাবনা সদর থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাবনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম এ নির্দেশ দেন।

এদিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘটনাটি নিয়ে লুকোচুরির অভিযোগ উঠেছে। তিনি এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করলেও কমিটির নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পাবনা সদর উপজেলার গাছপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জাহিদের ১ বছরের শিশু তামিম মোল্লাকে ডায়রিয়ার চিকিৎসা করাতে ভর্তি করেছিলেন পাবনা জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু ভুল চিকিৎসার জেরে পরে ওই শিশুর হাতের ৩টি আঙুলই কেটে বাদ দিতে হয়েছে।

এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তর অনলাইনে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এতে সহানুভূতি প্রকাশ করে সব মহল।

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ জানান, তার ১ বছর বয়সী শিশু মো. তামিম মোল্লা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে গত ১০ জুন পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া (উদরাময়) ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ১২ জুন সকালে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী কর্তব্যরত নার্স বাচ্চাকে ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশনটি রগে (রক্ত নালীতে) প্রয়োগ না করে সংশ্লিষ্ট পুরুষ নার্স মাংসপেশিতে প্রয়োগ করেন। ইনজেকশন পুশ করার পর থেকেই বাচ্চার ডান হাত ফুলতে থাকে এবং বাচ্চা তীব্র ব্যথার যন্ত্রণায় চিৎকার-আর্তনাদ করতে থাকে।

তিনি জানান, বাচ্চার ব্যথা ও কান্নার কারণে ডিউটিরত নার্সদেরকে বারবার দেখালে তারা বলেন- ঠিক হয়ে যাবে। ইনজেকশন পুশ করার স্থানে (ডান হাত) ক্রমান্বয়ে লালাভ-বেগুনি বর্ণ ধারণ করে এবং তার বাচ্চা অনবরত যন্ত্রণায় কাঁদতে ও ছটফট করতে থাকে। তার স্ত্রী বার বার নার্সদের ডেকে দেখালে তারা বলেন, ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। সে সময় কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখালে তিনি ক্ষত স্থানে বরফ দিতে বলেন এবং নাপা সিরাপ খাওয়াতে বলেন।

১৩ জুন আবারো শিশু তামিমকে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখালে তিনি প্রেসক্রিপসনে একটি মলম লিখে দেন এবং লাগাতে বলেন। পরদিন ১৪ জুন কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখালে তিনি তার বাচ্চাকে শিশু ওয়ার্ডে রেফার্ড করে দেন। বাচ্চার অনবরত কান্নায় তারা বারবার কর্তব্যরত ডাক্তার-নার্সদের শরণাপন্ন হন। তারা সবাই ঠিক হয়ে যাবে বলে এড়িয়ে যান।

১৮ জুন আবারো কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখালে চিকিৎসক শিশুকে রক্ত দিতে বলেন। তারা শিশুকে ১ ব্যাগ রক্ত দেয়ার ব্যবস্থা করেন। ওই দিনই রাত ১২টার দিকে তারা শিশুসহ হাসপাতাল ত্যাগ করেন। কিন্তু অবস্থার আরও অবনতি হলে ২১ জুন হাসপাতালে বহির্বিভাগে টিকেট কেটে চিকিৎসককে দেখালে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক শিশুকে আবারো রক্ত দিতে বলেন। তিনিও বলেন ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কেউ বিষয়টির গুরুত্ব দেননি বলে জাহিদুল ইসলাম জানান।

এদিকে ৪ জুলাই হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. ওমর ফারুক মীরের কার্যালয়ে জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু  সেই সময় তিনি তাকে পাননি। এ সময় তার কক্ষে থাকা কয়েকজন তাকে হাসপাতাল কর্তৃক প্রদত্ত রোগী ভর্তির ফরম এর মূল কপি রেখে ফটোকপি হাতে ধরিয়ে দেন। এরপর তিনি তার শিশুকে একজন চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বারে নিয়ে যান।

সেই চিকিৎসক তাকে ঢাকার শিশু হাসপাতালে (নিটর, ঢাকা) দেখানোর পরামর্শ দেন। সেই মোতাবেক তারা সেখানে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা শিশুটিকে পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ৬ জুলাই শিশুটিকে ঢাকার শেরেবাংলার পঙ্গু হাসপাতালে দেখানো হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা সার্জারির মাধ্যমে শিশুটির ডান হাতের ৩টি আঙুল কেটে ফেলতে বলেন। তারা জানান, অনেক বিলম্ব হওয়ার কারণে আঙুল কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

শিশুটির বাবা জানান, ঢাকার ক্লিনিকে ব্যয়বহুল হওয়ায় তিনি পাবনা চলে আসেন। এরপর গত ২৯ জুলাই পাবনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে তার শিশুর ৩টি আঙুল কেটে বাদ দেওয়া হয়।

জাহিদুল ইসলাম জানান, তার শিশুটির অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার সন্তানটি গুরুত্বপূর্ণ ডান হাতটির তিনটি আঙুল হারাল। তার শিশুর ক্ষেত্রে যে অবহেলা করা হয়েছে তিনি তার বিচার চান।

তিনি জানান, তার শিশুর আঙুল তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু তার মতো কোনো অভিভাবক বা রোগীকে যেন এমন অবস্থার মুখোমুখি হতে না হয় সেজন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের বিচার চেয়ে পাবনার সিভিল সার্জন, পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালকসহ বিভিন্ন মহলে আবেদন করেন।

কিন্তু এ ঘটনায় শুরু থেকেই পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ওমর ফারুক মীর ঘটনাটি নিয়ে লুকোচুরি করেন। সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের চাপে গত সপ্তাহে সহকারী পরিচালক একটি তদন্ত কমিটি করেন। কিন্তু সেই তদন্ত কমিটি কাকে দিয়ে তিনি করেছেন তা সাংবাদিকসহ কাউকে বলতে নারাজ।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) বিকালে সহকারী পরিচালক ডা. ওমর ফারুক মীরকে তদন্ত কমিটির প্রধানের নাম জিজ্ঞাসা করলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, এটি গোপনীয়। এ সময় তাকে বলা হয়-তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত রিপোর্ট কাউকে না জানানো গোপন হতে পারে। কিন্তু তদন্ত কমিটি গোপন হয় কী করে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি নিশ্চুপ থাকেন।

পরে যুগান্তরের পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সালেহ মোহাম্মদ আলীকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু কবে রিপোর্ট দেওয়া হবে তা জানানো হয়নি।

এ ব্যাপারে শিশু তামিমের বাবা জাহিদুল ইসলাম জাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত রোববার তার সঙ্গে হাসপাতাল থেকে যোগাযোগ করা হলে পরদিন সোমবার তিনি একটি লিখিত বক্তব্য জমা দেন। এর চেয়ে বেশি কিছু তাকে জানানো হয়নি।

এদিকে শিশু তামিমের ৩ আঙুল হারানোয় পাবনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলামের নির্দেশে পাবনা সদর থানার ওসি তদন্ত শুরু করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভিকটিমের স্বজনকে থানায় ডাকা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন