তিন সেকেন্ডেই পালটে দেয় মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর
jugantor
তিন সেকেন্ডেই পালটে দেয় মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

১৩ আগস্ট ২০২২, ০২:১৫:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

তারা চোরাই মোবাইল ফোন চোর চক্রের সদস্য। চক্রটি ৩ সেকেন্ডে চোরাই মোবাইল সেটের (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি) পরিবর্তন করতে সক্ষম। এমন চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর)।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- খোরশেদ আলম, কামাল, সুরুজ মিয়া, জয় চৌধুরী, বাবু ও তানভীর হাসান।

বৃহস্পতিবার রাতভর নগরীর কোতোয়ালি থানার রিয়াজউদ্দীন বাজার, রেলস্টেশন ও দেওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পেশাদার মোবাইল চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছে থাকা ১৫৬টি চোরাই মোবাইল ফোন, ৭টি ল্যাপটপ, আইএমইএই নম্বর পরিবর্তনের কাজে ব্যবহৃত ৮টি ডিভাইস, ২টি ফ্লাশিং ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার বিকালে সিএমপি মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) উত্তর বিভাগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ আলী হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ডিবি গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জহিরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার মো. কামরুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- গোয়েন্দা পুলিশ মোবাইল চোর চক্রের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। গোয়েন্দা পুলিশ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরের পুরাতন রেলস্টেশন থেকে খোরশেদ ও কামালকে ৪টি মোবাইলসহ গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, চোরাই মোবাইলগুলো রিয়াজউদ্দিন বাজারের একটি দোকানে বিক্রি করে দেয় তারা। পরে খোরশেদ ও কামালের তথ্যের ভিত্তিতে নগরের রিয়াজউদ্দীন বাজার আব্দুল লতিফ মার্কেটের ষষ্ঠতলা থেকে সুরুজ মিয়া, জয় চৌধুরী, মো.বাবুকে গ্রেফতার করে ডিবি। মার্কেটটির ষষ্ঠতলার ১৫৪ নম্বর রুম থেকে ১৬টি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

চোরাই মোবাইলগুলো আব্দুল লতিফ মার্কেট থেকে চলে যেত দেওয়ান বাজারে। সেখান থেকে আইএমইআই পরিবর্তন করে সেগুলো আবার বিক্রয়ের জন্য বিভিন্ন মার্কেটে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে সুরুজ, জয় ও বাবু। আর দেওয়ান বাজারে আইএমইআই পরিবর্তন করার কাজ করে তানভীর হাসান নামে আরেকজন সদস্য।

গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়ানবাজারে তানভীরের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩৬টি চোরাই মোবাইল সেট, আইএমইএই নম্বর পরিবর্তনের কাজে ব্যবহৃত ৮টি ডিভাইস, ২টি ফ্লাশিং ডিভাইস ও ৭টি ল্যাপটপ উদ্ধার। একই সঙ্গে তাকে পাকড়াও করা হয় তানভিরকে। সে নগরীর একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা পাশ, বর্তমানে বিএসসি পড়ছে।

গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার মোবাইল চোর চক্রের সদস্য। মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের কাজ করছিল তানভীর। তার বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ল্যাপটপ ওপেন থাকলে মাত্র ৩-৫ সেকেন্ডের মধ্যেই আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে ফেলে। যদি ল্যাপটপ অন না থাকে তাহলে ১৫-২০ মিনিট সময় লাগে। এছাড়া যেকোনো এন্ড্রয়েড মোবাইলের লক খুলে আবার বিক্রি করত। তানভীর গত ৩-৪ বছর যাবত আইএমইএই নম্বর পরিবর্তনের কাজ করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে।

তিন সেকেন্ডেই পালটে দেয় মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
১৩ আগস্ট ২০২২, ০২:১৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

তারা চোরাই মোবাইল ফোন চোর চক্রের সদস্য। চক্রটি ৩ সেকেন্ডে চোরাই মোবাইল সেটের (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি) পরিবর্তন করতে সক্ষম। এমন চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর)।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- খোরশেদ আলম, কামাল, সুরুজ মিয়া, জয় চৌধুরী, বাবু ও তানভীর হাসান।

বৃহস্পতিবার রাতভর নগরীর কোতোয়ালি থানার রিয়াজউদ্দীন বাজার, রেলস্টেশন ও দেওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পেশাদার মোবাইল চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছে থাকা ১৫৬টি চোরাই মোবাইল ফোন, ৭টি ল্যাপটপ, আইএমইএই নম্বর পরিবর্তনের কাজে ব্যবহৃত ৮টি ডিভাইস, ২টি ফ্লাশিং ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার বিকালে সিএমপি মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) উত্তর বিভাগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ আলী হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ডিবি গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জহিরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার মো. কামরুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- গোয়েন্দা পুলিশ মোবাইল চোর চক্রের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। গোয়েন্দা পুলিশ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরের পুরাতন রেলস্টেশন থেকে খোরশেদ ও কামালকে ৪টি মোবাইলসহ গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, চোরাই মোবাইলগুলো রিয়াজউদ্দিন বাজারের একটি দোকানে বিক্রি করে দেয় তারা। পরে খোরশেদ ও কামালের তথ্যের ভিত্তিতে নগরের রিয়াজউদ্দীন বাজার আব্দুল লতিফ মার্কেটের ষষ্ঠতলা থেকে সুরুজ মিয়া, জয় চৌধুরী, মো.বাবুকে গ্রেফতার করে ডিবি। মার্কেটটির ষষ্ঠতলার ১৫৪ নম্বর রুম থেকে ১৬টি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

চোরাই মোবাইলগুলো আব্দুল লতিফ মার্কেট থেকে চলে যেত দেওয়ান বাজারে। সেখান থেকে আইএমইআই পরিবর্তন করে সেগুলো আবার বিক্রয়ের জন্য বিভিন্ন মার্কেটে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে সুরুজ, জয় ও বাবু। আর দেওয়ান বাজারে আইএমইআই পরিবর্তন করার কাজ করে তানভীর হাসান নামে আরেকজন সদস্য।

গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়ানবাজারে তানভীরের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩৬টি চোরাই মোবাইল সেট, আইএমইএই নম্বর পরিবর্তনের কাজে ব্যবহৃত ৮টি ডিভাইস, ২টি ফ্লাশিং ডিভাইস ও ৭টি ল্যাপটপ উদ্ধার। একই সঙ্গে তাকে পাকড়াও করা হয় তানভিরকে। সে নগরীর একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা পাশ, বর্তমানে বিএসসি পড়ছে।

গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার মোবাইল চোর চক্রের সদস্য। মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের কাজ করছিল তানভীর। তার বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ল্যাপটপ ওপেন থাকলে মাত্র ৩-৫ সেকেন্ডের মধ্যেই আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে ফেলে। যদি ল্যাপটপ অন না থাকে তাহলে ১৫-২০ মিনিট সময় লাগে। এছাড়া যেকোনো এন্ড্রয়েড মোবাইলের লক খুলে আবার বিক্রি করত। তানভীর গত ৩-৪ বছর যাবত আইএমইএই নম্বর পরিবর্তনের কাজ করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন