লঞ্চের ধাক্কায় বাল্কহেডডুবি, ৪ দিন পর ইঞ্জিনরুমে মিলল সুকানির লাশ
jugantor
লঞ্চের ধাক্কায় বাল্কহেডডুবি, ৪ দিন পর ইঞ্জিনরুমে মিলল সুকানির লাশ

  বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি  

১৩ আগস্ট ২০২২, ০২:১৮:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি মর্নিং সান-৯ এর ধাক্কায় ইফতি-রিজভি নামের বালুবোঝাই বাল্কহেড ডুবে নিখোঁজের চার দিন পর সুকানি মিলনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মসজিদবাড়ি এলাকার সন্ধ্যা নদী থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা বাল্কহেডের ইঞ্জিনরুম তল্লাশি করে তার লাশ উদ্ধার করেন বলে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুদ আলম চৌধুরী যুগান্তরকে জানান।

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত মিলনের (৩৫) লাশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সন্ধ্যা নদীর ঘটনাস্থল থেকে বাল্কহেডের মিস্ত্রি মো. কালামের (৪৫) লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তবে সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া বাল্কহেডটি এখনো উদ্ধার করতে পারেনি। বাল্কহেড ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুদ আলম চৌধুরী ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো.জাফর আহম্মেদ যুগান্তরকে জানান।

এদিকে সোমবার রাতে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি মর্নিং সান-৯ এর ধাক্কায় ডুবে যাওয়া প্রায় ৫০০০ ফুট বালুবোঝাই ইফতি-রিজভি নামের বাল্কহেডটির মালিক পক্ষ থেকে সার্ভে রিপোর্ট ও এমভি নাম্বার দারি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বাল্কহেড ডুবে যাওয়ার চার দিন পরেও থানায় কোনো অভিযোগ না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে বানারীপাড়া সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এমভি মর্নিং সান-৯ লঞ্চ এর তলা ফেটে যাওয়ার পর আতঙ্কে সহস্রাধিক যাত্রী উজিরপুরের চৌধুরীরহাট লঞ্চঘাটে পুলিশ পাহারায় নেমে যায়। পরে লঞ্চের কর্মচারীরা সেই ফাটা স্থানটি কোনো রকম মেরামত করেন। পরে বরিশাল বিআইডব্লিউটি এর বিশেষজ্ঞরা সেখানে গিয়ে ওই লঞ্চের মেরামত করা ফাটা স্থানটি পরীক্ষা করে দেখার পর লঞ্চটিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরে রাত ৩টায় সেখান থেকে ওই লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় বলে লঞ্চের কেরানী মো. আলিম যুগান্তরকে জানান।

এদিকে বানারীপাড়া লঞ্চ ঘাটের এজেন্ট ও পৌর শ্রমিক লীগ সম্পাদক মো.আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে জানান, সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া লঞ্চঘাট থেকে এমভি মর্নিং সান-৯ সহস্রাধিক যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লঞ্চটি বানারীপাড়া ঘাটে এসে পৌঁছায়। সেখান থেকে প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে ওই লঞ্চটি সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের সময় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

রাত অনুমান সোয়া ৮টার দিকে ওই লঞ্চটি উপজেলার কালিরবাজার সংলগ্ন মসজিদবাড়ি এলাকার সন্ধ্যা নদীতে পৌঁছা মাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা ইফতি-রিজভি নামের একটি বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তলা ফেটে যাওয়ার পাশাপাশি বাল্কহেডটি সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যায়। এ সময় বাল্কহেডে থাকা সুকানি মো. মিলন ও মিস্ত্রি মো. কালাম নিখোঁজ হন। ওই সময় লঞ্চটি দ্রুত উজিরপুর উপজেলার চৌধুরীরহাট লঞ্চঘাটে গিয়ে থামায়।

এদিকে উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোমিন উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, তলা ফেটে যাওয়া এমভি মর্নিং সান-৯ লঞ্চটি চৌধুরীরহাট লঞ্চঘাটে থামার পর খবর পেয়ে দ্রুত আমরা সেখানে ছুটে যাই। এ সময় ওই লঞ্চটি পুলিশ পাহারায় রাখা হয়। এছাড়া লঞ্চের তলা ফেটে যাওয়ার আতঙ্কে সেখানে প্রায় সব যাত্রী নিরাপদে নেমে যায়।

এদিকে সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া বাল্কহেডে মালিক কাজী মো. হাবুলের ভাতিজা কাজী মো. রাজিব হোসেন যুগান্তরকে জানান, সোমবার রাতে এমভি মর্নিং সান-৯ লঞ্চের ধাক্কায় তাদের প্রায় ৫০০০ ফুট বালুবোঝাই ইফতি-রিজভি নামের একটি বাল্কহেডটি সন্ধ্যা নদীর মসজিদবাড়ি এলাকায় ডুবে যায়। এ সময় তাদের ওই বাল্কহেডের সুকানি মো. মিলন (৩৫) ও মিস্ত্রি মো. কালাম (৪৫) নিখোঁজ হয়। এদের বাড়ি নেছাড়াবাদ উপজেলার নান্দুহার এলাকায় বলে রাজিব জানান।

লঞ্চের ধাক্কায় বাল্কহেডডুবি, ৪ দিন পর ইঞ্জিনরুমে মিলল সুকানির লাশ

 বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি 
১৩ আগস্ট ২০২২, ০২:১৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি মর্নিং সান-৯ এর ধাক্কায় ইফতি-রিজভি নামের বালুবোঝাই বাল্কহেড ডুবে নিখোঁজের চার দিন পর সুকানি মিলনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মসজিদবাড়ি এলাকার সন্ধ্যা নদী থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা বাল্কহেডের ইঞ্জিনরুম তল্লাশি করে তার লাশ উদ্ধার করেন বলে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুদ আলম চৌধুরী যুগান্তরকে জানান।

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত মিলনের (৩৫) লাশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সন্ধ্যা নদীর ঘটনাস্থল থেকে বাল্কহেডের মিস্ত্রি মো. কালামের (৪৫) লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তবে সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া বাল্কহেডটি এখনো উদ্ধার করতে পারেনি। বাল্কহেড ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুদ আলম চৌধুরী ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো.জাফর আহম্মেদ যুগান্তরকে জানান।

এদিকে সোমবার রাতে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি মর্নিং সান-৯ এর ধাক্কায় ডুবে যাওয়া প্রায় ৫০০০ ফুট বালুবোঝাই ইফতি-রিজভি নামের বাল্কহেডটির মালিক পক্ষ থেকে সার্ভে রিপোর্ট ও এমভি নাম্বার দারি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বাল্কহেড ডুবে যাওয়ার চার দিন পরেও থানায় কোনো অভিযোগ না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে বানারীপাড়া সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এমভি মর্নিং সান-৯ লঞ্চ এর তলা ফেটে যাওয়ার পর আতঙ্কে সহস্রাধিক যাত্রী উজিরপুরের চৌধুরীরহাট লঞ্চঘাটে পুলিশ পাহারায় নেমে যায়। পরে লঞ্চের কর্মচারীরা সেই ফাটা স্থানটি কোনো রকম মেরামত করেন। পরে বরিশাল বিআইডব্লিউটি এর বিশেষজ্ঞরা সেখানে গিয়ে ওই লঞ্চের মেরামত করা ফাটা স্থানটি পরীক্ষা করে দেখার পর লঞ্চটিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরে রাত ৩টায় সেখান থেকে ওই লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় বলে লঞ্চের কেরানী মো. আলিম যুগান্তরকে জানান।

এদিকে বানারীপাড়া লঞ্চ ঘাটের এজেন্ট ও পৌর শ্রমিক লীগ সম্পাদক মো.আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে জানান, সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া লঞ্চঘাট থেকে এমভি মর্নিং সান-৯ সহস্রাধিক যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লঞ্চটি বানারীপাড়া ঘাটে এসে পৌঁছায়। সেখান থেকে প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে ওই লঞ্চটি সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের সময় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

রাত অনুমান সোয়া ৮টার দিকে ওই লঞ্চটি উপজেলার কালিরবাজার সংলগ্ন মসজিদবাড়ি এলাকার সন্ধ্যা নদীতে পৌঁছা মাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা ইফতি-রিজভি নামের একটি বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তলা ফেটে যাওয়ার পাশাপাশি বাল্কহেডটি সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যায়। এ সময় বাল্কহেডে থাকা সুকানি মো. মিলন ও মিস্ত্রি মো. কালাম নিখোঁজ হন। ওই সময় লঞ্চটি দ্রুত উজিরপুর উপজেলার চৌধুরীরহাট লঞ্চঘাটে গিয়ে থামায়।

এদিকে উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোমিন উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, তলা ফেটে যাওয়া এমভি মর্নিং সান-৯ লঞ্চটি চৌধুরীরহাট লঞ্চঘাটে থামার পর খবর পেয়ে দ্রুত আমরা সেখানে ছুটে যাই। এ সময় ওই লঞ্চটি পুলিশ পাহারায় রাখা হয়। এছাড়া লঞ্চের তলা ফেটে যাওয়ার আতঙ্কে সেখানে প্রায় সব যাত্রী নিরাপদে নেমে যায়।

এদিকে সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া বাল্কহেডে মালিক কাজী মো. হাবুলের ভাতিজা কাজী মো. রাজিব হোসেন যুগান্তরকে জানান, সোমবার রাতে এমভি মর্নিং সান-৯ লঞ্চের ধাক্কায় তাদের প্রায় ৫০০০ ফুট বালুবোঝাই ইফতি-রিজভি নামের একটি বাল্কহেডটি সন্ধ্যা নদীর মসজিদবাড়ি এলাকায় ডুবে যায়। এ সময় তাদের ওই বাল্কহেডের সুকানি মো. মিলন (৩৫) ও মিস্ত্রি মো. কালাম (৪৫) নিখোঁজ হয়। এদের বাড়ি নেছাড়াবাদ উপজেলার নান্দুহার এলাকায় বলে রাজিব জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন