বিনাবিচারে ২৮ মাস বন্দির পরিচয় মিলেছে, শিগগিরই মুক্তি
jugantor
বিনাবিচারে ২৮ মাস বন্দির পরিচয় মিলেছে, শিগগিরই মুক্তি

  মিজানুর রহমান, ঝিনাইদহ  

১৫ আগস্ট ২০২২, ০২:০৪:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

অবশেষে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ২৮ মাস বিনাবিচারে আটক বন্দির পরিচয় মিলেছে। শিগগিরই মুক্তি দেওয়া হবে তাকে। সে নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ চাওড়া গ্রামের যতিন্দ্র রাথ রায়ের বড় ছেলে মিনাল রায়।

রোববার বিকালে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী সদর থানার ওসি আব্দুর রউফ।

জেলা কারাগারের সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগরবাথান এলাকা থেকে পরিচয়হীন এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সংক্রান্তে সদর থানায় দায়ের করা জিডির ভিত্তিতে এসআই মোহাম্মদ ইউনুচ আলী গাজী অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার জন্য আবেদন জানান। আদালত জেলা কারাগারের নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। সেই থেকে (২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর) কারাগারেই রয়ে গেছেন ওই ব্যক্তি।

জেল সুপার আরও জানান, বিষয়টি ঝিনাইদহের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বৈজয়ন্ত বিশ্বাসের নজর কাড়ে। তিনি (বিচারক) স্বউদ্যোগে লোকটির আসল ঠিকানা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। ৩১ জুলাই অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট টেকনাফ, কক্সবাজার, উখিয়া ভাসানচর থানার অফিসার ইনচার্জসহ ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছবি পাঠানোর নির্দেশ জারি করেন।

একই আদেশে আটক লোকের সঠিক ঠিকানা খুঁজে পেতে নোয়াখালী, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার ও এপিবিএন কমান্ডারদের নির্দেশ দেন তিনি। এর আগে মানসিক ভারসাম্যহীন কিনা তা পরীক্ষা করাতে খুলনা মেডিকেলেও নেওয়া হয় লোকটিকে।

জেলা নির্বাচন অফিসে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার হাতের ছাপ গ্রহণ করে বাংলাদেশের নাগরিক কিনা তাও যাচাই করা হয়। এমনকি বিচারকের (বৈজয়ন্ত বিশ্বাস) উপস্থিতিতে ভিডিও কলের মাধ্যমেও টেকনাফ থানা পুলিশের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা দোভাষীর সঙ্গে কথা বলানো হয়। কিন্তু দোভাষীও ওই বন্দির কথা বুঝতে পারেন না।

জেল সুপারের ভাষায় খানিকটা হতাশ হয়ে পড়েন এবং আইনি জটিলতায় সারা জীবন কারাগারে থাকতে হবে বলে ধরে নেন তারা। তবে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বৈজয়ন্ত বিশ্বাস হাল ছাড়েন না। বিভিন্ন মাধ্যমে লোকটির ঠিকানা পাওয়ার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেন তিনি। দৈনিক যুগান্তর, যমুনা টিভি, দীপ্ত টিভি, ঢাকা পোস্টসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। অবশেষে পরিচয় মিলে যায় ওই ব্যক্তির।

এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার এসআই সুভাস চন্দ্র রায় যুগান্তরকে বলেন, মিনাল রায়ের (ভিকটিম) মামা থানায় এসে ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে পরিচয় নিশ্চিত করেন।

তিনি আরও জানান, ১০ বছর আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় মিনাল। পুত্র শোকে ৪-৫ বছর আগে মা সুধা রায়ের মৃত্যু হয়েছে। ছোট ভাই ভবেশ জীবিত। বাবা যতিন্দ্র রাথ রায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। মিনালের নামে বেশ কিছু সম্পত্তি রয়েছে।

পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, দীর্ঘ দিন মানসিক প্রতিবন্ধী মিনালের জন্ম (নিবন্ধন সূত্রে) ১৯৮১ সালের ১১ আগস্ট।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে আদালত সূত্রে জানা যায়, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে লোকটিকে স্বজনদের হাতে হস্তান্তর করা হবে।

এ খবরে ঝিনাইদহ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মেদ নাসিম আনসারীসহ মানবাধিকার কর্মীরা সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

বিনাবিচারে ২৮ মাস বন্দির পরিচয় মিলেছে, শিগগিরই মুক্তি

 মিজানুর রহমান, ঝিনাইদহ 
১৫ আগস্ট ২০২২, ০২:০৪ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অবশেষে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ২৮ মাস বিনাবিচারে আটক বন্দির পরিচয় মিলেছে। শিগগিরই মুক্তি দেওয়া হবে তাকে। সে নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ চাওড়া গ্রামের যতিন্দ্র রাথ রায়ের বড় ছেলে মিনাল রায়।

রোববার বিকালে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী সদর থানার ওসি আব্দুর রউফ।

জেলা কারাগারের সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগরবাথান এলাকা থেকে পরিচয়হীন এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সংক্রান্তে সদর থানায় দায়ের করা জিডির ভিত্তিতে এসআই মোহাম্মদ ইউনুচ আলী গাজী অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার জন্য আবেদন জানান। আদালত জেলা কারাগারের নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। সেই থেকে (২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর) কারাগারেই রয়ে গেছেন ওই ব্যক্তি।

জেল সুপার আরও জানান, বিষয়টি ঝিনাইদহের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বৈজয়ন্ত বিশ্বাসের নজর কাড়ে। তিনি (বিচারক) স্বউদ্যোগে লোকটির আসল ঠিকানা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। ৩১ জুলাই অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট টেকনাফ, কক্সবাজার, উখিয়া ভাসানচর থানার অফিসার ইনচার্জসহ ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছবি পাঠানোর নির্দেশ জারি করেন।

একই আদেশে আটক লোকের সঠিক ঠিকানা খুঁজে পেতে নোয়াখালী, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার ও এপিবিএন কমান্ডারদের নির্দেশ দেন তিনি। এর আগে মানসিক ভারসাম্যহীন কিনা তা পরীক্ষা করাতে খুলনা মেডিকেলেও নেওয়া হয় লোকটিকে।

জেলা নির্বাচন অফিসে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার হাতের ছাপ গ্রহণ করে বাংলাদেশের নাগরিক কিনা তাও যাচাই করা হয়। এমনকি বিচারকের (বৈজয়ন্ত বিশ্বাস) উপস্থিতিতে ভিডিও কলের মাধ্যমেও টেকনাফ থানা পুলিশের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা দোভাষীর সঙ্গে কথা বলানো হয়। কিন্তু দোভাষীও ওই বন্দির কথা বুঝতে পারেন না।

জেল সুপারের ভাষায় খানিকটা হতাশ হয়ে পড়েন এবং আইনি জটিলতায় সারা জীবন কারাগারে থাকতে হবে বলে ধরে নেন তারা। তবে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বৈজয়ন্ত বিশ্বাস হাল ছাড়েন না। বিভিন্ন মাধ্যমে লোকটির ঠিকানা পাওয়ার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেন তিনি। দৈনিক যুগান্তর, যমুনা টিভি, দীপ্ত টিভি, ঢাকা পোস্টসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। অবশেষে পরিচয় মিলে যায় ওই ব্যক্তির।

এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার এসআই সুভাস চন্দ্র রায় যুগান্তরকে বলেন, মিনাল রায়ের (ভিকটিম) মামা থানায় এসে ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে পরিচয় নিশ্চিত করেন।

তিনি আরও জানান, ১০ বছর আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় মিনাল। পুত্র শোকে ৪-৫ বছর আগে মা সুধা রায়ের মৃত্যু হয়েছে। ছোট ভাই ভবেশ জীবিত। বাবা যতিন্দ্র রাথ রায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। মিনালের নামে বেশ কিছু সম্পত্তি রয়েছে।

পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, দীর্ঘ দিন মানসিক প্রতিবন্ধী মিনালের জন্ম (নিবন্ধন সূত্রে) ১৯৮১ সালের ১১ আগস্ট।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে আদালত সূত্রে জানা যায়, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে লোকটিকে স্বজনদের হাতে হস্তান্তর করা হবে।

এ খবরে ঝিনাইদহ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মেদ নাসিম আনসারীসহ মানবাধিকার কর্মীরা সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন