ভিক্ষা চাইতে এসে রঙিন রিকশা পেলেন কাসেম!
jugantor
ভিক্ষা চাইতে এসে রঙিন রিকশা পেলেন কাসেম!

  গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  

১৬ আগস্ট ২০২২, ০১:১৬:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

দুই পুত্র আর দুই কন্যা, তিনবেলার আহার সংগ্রহে প্রতিদিন রিকশার প্যাডেল মারতেন আবুল কাসেম। রিকশা চালাতে গিয়ে দুই পায়ে ক্ষত হয়। সেই ক্ষতে সৃষ্ট ঘায়ের কারণে কেটে পেলে দিতে হয় দুই পা।

তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের গুজিখাঁ গ্রামের জসিম উদ্দিনের পুত্র। নিজের চিকিৎসা করতে গিয়ে বাড়িভিটেও বিক্রি করে দেন। ঠাঁই নেন তার শ্বশুরালয় ডৌহাখলা ইউনিয়নের রামসিংজানী গ্রামে।

নিজের চিকিৎসা আর সন্তানদের মুখে আহার জোগাতে দুই পা হারিয়ে দুই হাত বাড়িয়ে দেন মানুষের মাঝে। এভাবেই চলছিলে প্রায় ১৫ বছর।

নিত্যদিনের মতো ভিক্ষার ঝুলি গলায় ঝুলিয়ে ভিক্ষা করেন পৌর শহরের মধ্যবাজারে। এ সড়কে আসার পথে ইউএনও হাসান মারুফের কাছে ভিক্ষা চান আবুল কাসেম। তার জীবনের আদ্যোপান্ত জানতে উপজেলা সমাজসেবা বিভাগকে দায়িত্ব দেন।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম আকন্দ সরেজমিন গিয়ে তার মর্মস্পর্শী ঘটনার সত্যতা পান।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে সোমবার (১৫ আগস্ট) আবুল কাসেমের হাতে তুলে দেন রঙিন রিকশা।

‘আর জীবনে ভিক্ষা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রিকশা পেয়ে ১৫ বছর পর আবুল কাসেমের মুখে ফুটে উঠে রঙিন হাসি। ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা দপ্তর এ রিকশা প্রদান করে। এছাড়াও একই দিনে আরও ২ জনকে ২টি অটোরিকশা ও ২ জনকে ২টি গাভি প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি এসব উপকরণ তুলে দেন।

ভিক্ষা ছেড়ে নতুন কর্মসংস্থানের জন্য উপকরণ পেলেন রামগোপালপুর ইউনিয়নের নওয়াগাঁও গ্রামের মোছা. মোকমিনা খাতুন, গৌরীপুর ইউনিয়নের পালান্দর গ্রামের মোছা. আমিনা খাতুন, ডৌহাখলা ইউনিয়নের সিংজানী গ্রামের আবুল কাশেম, গাভি পেলেন মাওহা ইউনিয়নের বীর আহাম্মদপুর গ্রামের মো. আনিছুর রহমান, বোকাইনগর ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের মোছা. হেলেনা বেগম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ। সঞ্চালনা করেন একাডেমিক সুপারভাইজার কমল রায়।

বিশেষ অতিথি ছিলেন- উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোফাজ্জল হোসেন খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোসা. নিকাহাত আরা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সালমা আক্তার রুবী, অফিসার ইনচার্জ খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী, শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম আকন্দ, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. হেলাল উদ্দিন আহাম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক ম. নূরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিন্টু।

ভিক্ষা চাইতে এসে রঙিন রিকশা পেলেন কাসেম!

 গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
১৬ আগস্ট ২০২২, ০১:১৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দুই পুত্র আর দুই কন্যা, তিনবেলার আহার সংগ্রহে প্রতিদিন রিকশার প্যাডেল মারতেন আবুল কাসেম। রিকশা চালাতে গিয়ে দুই পায়ে ক্ষত হয়। সেই ক্ষতে সৃষ্ট ঘায়ের কারণে কেটে পেলে দিতে হয় দুই পা।

তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের গুজিখাঁ গ্রামের জসিম উদ্দিনের পুত্র। নিজের চিকিৎসা করতে গিয়ে বাড়িভিটেও বিক্রি করে দেন। ঠাঁই নেন তার শ্বশুরালয় ডৌহাখলা ইউনিয়নের রামসিংজানী গ্রামে।

নিজের চিকিৎসা আর সন্তানদের মুখে আহার জোগাতে দুই পা হারিয়ে দুই হাত বাড়িয়ে দেন মানুষের মাঝে। এভাবেই চলছিলে প্রায় ১৫ বছর।

নিত্যদিনের মতো ভিক্ষার ঝুলি গলায় ঝুলিয়ে ভিক্ষা করেন পৌর শহরের মধ্যবাজারে। এ সড়কে আসার পথে ইউএনও হাসান মারুফের কাছে ভিক্ষা চান আবুল কাসেম। তার জীবনের আদ্যোপান্ত জানতে উপজেলা সমাজসেবা বিভাগকে দায়িত্ব দেন।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম আকন্দ সরেজমিন গিয়ে তার মর্মস্পর্শী ঘটনার সত্যতা পান।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে সোমবার (১৫ আগস্ট) আবুল কাসেমের হাতে তুলে দেন রঙিন রিকশা।

‘আর জীবনে ভিক্ষা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রিকশা পেয়ে ১৫ বছর পর আবুল কাসেমের মুখে ফুটে উঠে রঙিন হাসি। ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা দপ্তর এ রিকশা প্রদান করে। এছাড়াও একই দিনে আরও ২ জনকে ২টি অটোরিকশা ও ২ জনকে ২টি গাভি প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি এসব উপকরণ তুলে দেন।

ভিক্ষা ছেড়ে নতুন কর্মসংস্থানের জন্য উপকরণ পেলেন রামগোপালপুর ইউনিয়নের নওয়াগাঁও গ্রামের মোছা. মোকমিনা খাতুন, গৌরীপুর ইউনিয়নের পালান্দর গ্রামের মোছা. আমিনা খাতুন, ডৌহাখলা ইউনিয়নের সিংজানী গ্রামের আবুল কাশেম, গাভি পেলেন মাওহা ইউনিয়নের বীর আহাম্মদপুর গ্রামের মো. আনিছুর রহমান, বোকাইনগর ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের মোছা. হেলেনা বেগম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ। সঞ্চালনা করেন একাডেমিক সুপারভাইজার কমল রায়।

বিশেষ অতিথি ছিলেন- উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোফাজ্জল হোসেন খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোসা. নিকাহাত আরা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সালমা আক্তার রুবী, অফিসার ইনচার্জ খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী, শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম আকন্দ, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা.  হেলাল উদ্দিন আহাম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক ম. নূরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিন্টু।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন