এক যুগ শিকলবন্দি মিলন শরিফ
jugantor
এক যুগ শিকলবন্দি মিলন শরিফ

  ফরিদপুর ব্যুরো  

১৬ আগস্ট ২০২২, ২২:২৬:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

জন্মের তিন বছর পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে শিশুটি। সেই সময় উপযুক্ত চিকিৎসা করাতে পারেনি দরিদ্র পরিবার। ফলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিকলবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে ১২ বছর যাবত।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনদী ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের দরিদ্র হাফেজ শরিফের ছেলে মিলন শরিফ। বর্তমান বয়স ১৫ বছর। এর মধ্যে ১২ বছর ধরেই শিকলবন্দি জীবনযাপন করছে সে।

মিলনের বাবা হাফেজ শরিফ পেশায় দিনমজুর। অন্যের জমিতে কাজ করে যা পান তা দিয়েই কোনোমতে চলে ছয় সদস্যের সংসার। ছেলের চিকিৎসা করানো তো দূরের কথা, সংসারই ঠিক মতো চলে না। দিন যায় খেয়ে না খেয়ে। তাই ইচ্ছা থাকলেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা না করিয়ে আদরের সন্তানকে শিকলবন্দি করে রেখেছেন হাফেজ শরিফ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জন্মের তিন বছর পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় মিলন। এরপর সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। পরে তার কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবে চলাচলেও তার সমস্যা দেখা দেয়। টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা করাতে না পেরে পায়ে শিকল পরিয়ে রেখেছেন তার বাবা-মা। এরপর থেকে প্রায় এক যুগ ধরে এভাবেই শিকলবন্দি জীবনযাপন করছে মিলন।

মিলনের মা সুফিয়া বেগম বলেন, ছোটবেলায় ওর নিউমোনিয়া হয়। ডাক্তার-কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসা করেয়েছি। ভালো হয় নাই। টাকা-পয়সার অভাব তাই এখন আর চেষ্টা করি না। ছেড়ে দিলে এদিক ওদিক চলে যায় বলে পায়ে শিকল পরিয়ে বেঁধে রেখেছি।

ওই এলাকার ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদ হোসেন বলেন, মিলন শরিফের বাবা একজন দিনমজুর। হতদরিদ্র একটি পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে মিলন শিকলবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছে।

এক যুগ শিকলবন্দি মিলন শরিফ

 ফরিদপুর ব্যুরো 
১৬ আগস্ট ২০২২, ১০:২৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জন্মের তিন বছর পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে শিশুটি। সেই সময় উপযুক্ত চিকিৎসা করাতে পারেনি দরিদ্র পরিবার। ফলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিকলবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে ১২ বছর যাবত। 

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনদী ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের দরিদ্র হাফেজ শরিফের ছেলে মিলন শরিফ। বর্তমান বয়স ১৫ বছর। এর মধ্যে ১২ বছর ধরেই শিকলবন্দি জীবনযাপন করছে সে।

মিলনের বাবা হাফেজ শরিফ পেশায় দিনমজুর। অন্যের জমিতে কাজ করে যা পান তা দিয়েই কোনোমতে চলে ছয় সদস্যের সংসার। ছেলের চিকিৎসা করানো তো দূরের কথা, সংসারই ঠিক মতো চলে না। দিন যায় খেয়ে না খেয়ে। তাই ইচ্ছা থাকলেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা না করিয়ে আদরের সন্তানকে শিকলবন্দি করে রেখেছেন হাফেজ শরিফ। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জন্মের তিন বছর পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় মিলন। এরপর সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। পরে তার কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবে চলাচলেও তার সমস্যা দেখা দেয়। টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা করাতে না পেরে পায়ে শিকল পরিয়ে রেখেছেন তার বাবা-মা। এরপর থেকে প্রায় এক যুগ ধরে এভাবেই শিকলবন্দি জীবনযাপন করছে মিলন।
 
মিলনের মা সুফিয়া বেগম বলেন, ছোটবেলায় ওর নিউমোনিয়া হয়। ডাক্তার-কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসা করেয়েছি। ভালো হয় নাই। টাকা-পয়সার অভাব তাই এখন আর চেষ্টা করি না। ছেড়ে দিলে এদিক ওদিক চলে যায় বলে পায়ে শিকল পরিয়ে বেঁধে রেখেছি।

ওই এলাকার ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদ হোসেন বলেন, মিলন শরিফের বাবা একজন দিনমজুর। হতদরিদ্র একটি পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে মিলন শিকলবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন