ইন্টারভিউ স্বাস্থ্যপরীক্ষা ভেরিফিকেশন নিয়োগপত্র সবই হয়েছে, তবে...
jugantor
ইন্টারভিউ স্বাস্থ্যপরীক্ষা ভেরিফিকেশন নিয়োগপত্র সবই হয়েছে, তবে...

  বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি  

১৬ আগস্ট ২০২২, ২২:৩৬:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

সেনাবাহিনীতে চাকরির জন্য নেওয়া হয়েছে ইন্টারভিউ, করা হয়েছে মেডিকেল চেকআপ, প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীর বাড়ি বাড়ি পুলিশ ভেরিফিকেশনও হয়েছে। আর বড় কর্মকর্তাদের দেওয়ার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। দেওয়া হয়েছে নিয়োগপত্রও; কিন্তু চাকরিতে যোগদান করতে পারেননি কেউই।

অথচ এভাবে চাকরি দেওয়ার নামে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা। এমন প্রতারণার শিকার হয়ে নাটোরের বড়াইগ্রামসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার সাতজন বেকার যুবকের বর্তমানে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রতারকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতারকরা চাকরি দেওয়ার নামে নাটোরের বড়াইগ্রামের কচুগাড়ি গ্রামের জামিল হোসেনের ছেলে সুমন হোসেনের কাছ থেকে সাড়ে ১০ লাখ ও আনোয়ার হোসেনের ছেলে সাকিব হোসেন জয়ের ১০ লাখ, পাশের চাটমোহরের কাটেঙ্গা গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে আজিজুল আলমের ১০ লাখ, গুরুদাসপুরের সোনাবাজু গ্রামের মন্টু আলীর ছেলে আল আমিন হোসেনের ১১ লাখ, চরকাদহ গ্রামের ফরিদুল ইসলামের ছেলে আশিক হোসেনের সাড়ে ৮ লাখ, ছাইখোলা গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল হোসেনের সাত লাখ ও সিংড়ার গুটিয়া গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাজু হোসেনের ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত যুবকরা জানান, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থানার কুটিচন্দ্রখানা গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে মাসুদ রানা (২৬) বর্তমানে ঢাকার মিরপুরে জনতা হাউজিং ১নং গেট এলাকায় বসবাস করেন। বছরখানেক আগে দেখা হলে তিনি চাকরিপ্রত্যাশী এসব যুবকের কাছে নিজেকে ডিজিএফআই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় প্রতি পদের বিপরীতে ১০ লাখ টাকা দিলে মাসুদ তাদের সেনাবাহিনীর মেস ওয়েটার ও অফিস সহায়ক পদে চাকরি দিতে পারবেন বলে জানান। তার কথা অনুযায়ী চাকরিপ্রত্যাশী ওই সাত যুবক এ পর্যন্ত মোট ৬৫ লাখ টাকা তার হাতে তুলে দেন।

এ সময় মাসুদসহ তার সঙ্গে থাকা মাহফুজ, আশরাফুল, মনিরুল, রেজাউল, রুস্তম ও মানিক ড্রাইভার নিজেদের সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআইয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া ও মেডিকেল চেকআপসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করেন। এমনকি তারা নিজেরাই ওয়াকিটকিসহ প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ ভেরিফিকেশনও সম্পন্ন করেন। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে বিষয়টির বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টির জন্য ঢাকা সেনানিবাস সংলগ্ন একটি কোয়ার্টার ও অন্যান্য কয়েকটি কক্ষ ব্যবহার করে সেখানে তাদের মেডিকেল চেকআপসহ অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ করেন। পরে তাদের প্রত্যেককে যোগদানপত্র ও আইডি কার্ড দেন তারা।

পরবর্তীতে এসব চাকরিপ্রত্যাশীরা ঢাকা সেনানিবাসে যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে, এসব যোগদানপত্র ও আইডি কার্ড ভুয়া। এতে টাকাপয়সা হারিয়ে চরমভাবে ভেঙে পড়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী বড়াইগ্রামের কচুগাড়ি গ্রামের সুমন হোসেন জানান, গরু ছাগল বিক্রি, আত্মীয়দের ধার কর্জ ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে টাকা দিয়েছি। কথা অনুযায়ী সব কিছু কমপ্লিট করে এখন শুনছি আমাকে যে নিয়োগপত্র দিয়েছে তা জাল। এখন আমি ঋণ পরিশোধ করি কিভাবে আর টাকা ফেরত পাব কিভাবে।

একই গ্রামের প্রতারিত যুবক আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতারকরা চাকরি তো দিতেই পারেনি, উল্টো টাকা ফেরত চাইলে আমাদেরই গুমের হুমকি দেয়। তবে প্রতারকদের কয়েকজন আটক হলেও আমরা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি আবু সিদ্দিক জানান, বিষয়টি জানি, তবে তারা রমনা থানায় একটি মামলা করেছেন এবং কয়েকজন আটক হয়েছেন বলে শুনেছি। যেহেতু ওখানে মামলা হয়েছে, তাই সেখানকার পুলিশই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ইন্টারভিউ স্বাস্থ্যপরীক্ষা ভেরিফিকেশন নিয়োগপত্র সবই হয়েছে, তবে...

 বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি 
১৬ আগস্ট ২০২২, ১০:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সেনাবাহিনীতে চাকরির জন্য নেওয়া হয়েছে ইন্টারভিউ, করা হয়েছে মেডিকেল চেকআপ, প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীর বাড়ি বাড়ি পুলিশ ভেরিফিকেশনও হয়েছে। আর বড় কর্মকর্তাদের দেওয়ার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। দেওয়া হয়েছে নিয়োগপত্রও; কিন্তু চাকরিতে যোগদান করতে পারেননি কেউই।

অথচ এভাবে চাকরি দেওয়ার নামে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা। এমন প্রতারণার শিকার হয়ে নাটোরের বড়াইগ্রামসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার সাতজন বেকার যুবকের বর্তমানে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রতারকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতারকরা চাকরি দেওয়ার নামে নাটোরের বড়াইগ্রামের কচুগাড়ি গ্রামের জামিল হোসেনের ছেলে সুমন হোসেনের কাছ থেকে সাড়ে ১০ লাখ ও আনোয়ার হোসেনের ছেলে সাকিব হোসেন জয়ের ১০ লাখ, পাশের চাটমোহরের কাটেঙ্গা গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে আজিজুল আলমের ১০ লাখ, গুরুদাসপুরের সোনাবাজু গ্রামের মন্টু আলীর ছেলে আল আমিন হোসেনের ১১ লাখ, চরকাদহ গ্রামের ফরিদুল ইসলামের ছেলে আশিক হোসেনের সাড়ে ৮ লাখ, ছাইখোলা গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল হোসেনের সাত লাখ ও সিংড়ার গুটিয়া গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাজু হোসেনের ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত যুবকরা জানান, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থানার কুটিচন্দ্রখানা গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে মাসুদ রানা (২৬) বর্তমানে ঢাকার মিরপুরে জনতা হাউজিং ১নং গেট এলাকায় বসবাস করেন। বছরখানেক আগে দেখা হলে তিনি চাকরিপ্রত্যাশী এসব যুবকের কাছে নিজেকে ডিজিএফআই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় প্রতি পদের বিপরীতে ১০ লাখ টাকা দিলে মাসুদ তাদের সেনাবাহিনীর মেস ওয়েটার ও অফিস সহায়ক পদে চাকরি দিতে পারবেন বলে জানান। তার কথা অনুযায়ী চাকরিপ্রত্যাশী ওই সাত যুবক এ পর্যন্ত মোট ৬৫ লাখ টাকা তার হাতে তুলে দেন।

এ সময় মাসুদসহ তার সঙ্গে থাকা মাহফুজ, আশরাফুল, মনিরুল, রেজাউল, রুস্তম ও মানিক ড্রাইভার নিজেদের সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআইয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া ও মেডিকেল চেকআপসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করেন। এমনকি তারা নিজেরাই ওয়াকিটকিসহ প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ ভেরিফিকেশনও সম্পন্ন করেন। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে বিষয়টির বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টির জন্য ঢাকা সেনানিবাস সংলগ্ন একটি কোয়ার্টার ও অন্যান্য কয়েকটি কক্ষ ব্যবহার করে সেখানে তাদের মেডিকেল চেকআপসহ অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ করেন। পরে তাদের প্রত্যেককে যোগদানপত্র ও আইডি কার্ড দেন তারা।

পরবর্তীতে এসব চাকরিপ্রত্যাশীরা ঢাকা সেনানিবাসে যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে, এসব যোগদানপত্র ও আইডি কার্ড ভুয়া। এতে টাকাপয়সা হারিয়ে চরমভাবে ভেঙে পড়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী বড়াইগ্রামের কচুগাড়ি গ্রামের সুমন হোসেন জানান, গরু ছাগল বিক্রি, আত্মীয়দের ধার কর্জ ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে টাকা দিয়েছি। কথা অনুযায়ী সব কিছু কমপ্লিট করে এখন শুনছি আমাকে যে নিয়োগপত্র দিয়েছে তা জাল। এখন আমি ঋণ পরিশোধ করি কিভাবে আর টাকা ফেরত পাব কিভাবে।

একই গ্রামের প্রতারিত যুবক আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতারকরা চাকরি তো দিতেই পারেনি, উল্টো টাকা ফেরত চাইলে আমাদেরই গুমের হুমকি দেয়। তবে প্রতারকদের কয়েকজন আটক হলেও আমরা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি আবু সিদ্দিক জানান, বিষয়টি জানি, তবে তারা রমনা থানায় একটি মামলা করেছেন এবং কয়েকজন আটক হয়েছেন বলে শুনেছি। যেহেতু ওখানে মামলা হয়েছে, তাই সেখানকার পুলিশই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন