১৭ বছর আত্মগোপনে থাকা জেএমবি কমান্ডার মাসুম গ্রেফতার
jugantor
১৭ বছর আত্মগোপনে থাকা জেএমবি কমান্ডার মাসুম গ্রেফতার

  ময়মনসিংহ ব্যুরো ও গৌরীপুর প্রতিনিধি  

১৮ আগস্ট ২০২২, ০০:৪২:২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

১৭ বছর আত্মগোপনে থাকা জেএমবি কমান্ডার আল মাসুমকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহ। তিনি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ২০০৫ সালের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সিরিজ বোমা হামলা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

সোমবার রাতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

তবে এখনও অধরা রয়েছে গৌরীপুরের জেএমবির ৫ সদস্য। তারা হলেন- মো. জাকারিয়া আলম টিপন, মো. হাবিবুল্লাহ, মো. জয়দুল্লাহ ছদ্মনাম ফয়সাল, রফিকুল ইসলাম ও আজিজুল হক।

নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও সিলেটে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় জেএমবির ৮ জন ২০০৬ সালে চার্জশিটভুক্ত আসামি হয়। সে সময়েই তাদের মধ্যে দুইজন কাউসার আলম সুমন ও সানা উল্লাহকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাব-১৪ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন চন্দ্রা এলাকায় দলটি সোমবার রাত দেড়টার দিকে অভিযানে যায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাসুম মিয়া কৌশলে পালানোর চেষ্টাকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের মাওহা লক্ষ্মীনগর গ্রামের ডা. আবদুস সালামের ছেলে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা ছদ্ম বেশে ১৭ বছর নিজের পরিচয় গোপন করে আত্মগোপনে ছিলেন।

র‌্যাব আরও জানায়, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। সেদিন সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে দেশের ৬৩ জেলার প্রেসক্লাব, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ঢাকার ৩৪টি স্থানসহ সাড়ে ৪০০ স্পটে প্রায় ৫০০ বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। এই হামলায় নিহত হন ২ জন এবং আহত হন দুই শতাধিকের বেশি মানুষ।

৬৪ জেলার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা বাদে অবশিষ্ট ৬৩টি জেলায় এই হামলা করা হয়। হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট, জেলা আদালত, বিমানবন্দর, মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেসক্লাব ও সরকারি-আধা সরকারি স্থাপনায় বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। হামলার জায়গাগুলোতে জেএমবির জঙ্গিরা লিফলেট ছড়িয়ে দেয়।

সেই সময়ে জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ১৬১টি মামলা হয়। ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানায় ঘটনার পর বিস্ফোরক আইনে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়।

র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসাইন জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর পলাতক থাকার পর সিরিজ বোমা হামলার আসামিকে গ্রেফতার করা হলো। তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে জেলা সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার ও উপজেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোতে আস্তানা স্থাপন করেছিল জেএমবি। আঞ্চলিক কমান্ডার কাউসার আলম সুমনের নিজ এলাকা নিজমাওহা গ্রামে গড়ে তোলে সে সময় আহলে হাদিস মসজিদ।

এলাকাবাসী জানান, এ কাউসার আলম সুমনের নেতৃত্বে মাওহা ইউনিয়নে জেএমবি কার্যক্রম শুরু হয়। ধর্মের লেবাসপরা জেএমবি সদস্যরা এলাকায় ধর্মপ্রাণ মানুষকে আহলে হাদিস ও জেএমবির দিকে ধাবিত করতে বিভিন্ন ইসলামি স্লোগান দিয়ে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

এ সুমনের ডাকেই তার বড় ভাই জাকারিয়া আলম টিপন, একই ইউনিয়নের লক্ষ্মীনগর গ্রামের ডা. আবদুস সালামের পুত্র আল মাসুম, আব্দুল কাদিরের পুত্র মো. হাবিবুল্লাহ, বড়ইকান্দা গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের পুত্র রফিকুল ইসলাম, আবদুল কদ্দুস মৌলভীর পুত্র মো. সানাউল্লাহ, তাতিরপায়া গ্রামের রুস্তম আলী মাস্টারের পুত্র মো. আজিজুল হকসহ অনেকেই জেএমবিতে যোগ দেয়। তাদের মধ্যে লক্ষ্মীনগর কান্দাবাড়ীর মুসলেম উদ্দিনের পুত্র মো. জয়দুল্লাহ ছদ্মনাম ফয়সাল সিলেটে শায়খ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইয়ের মাশরুম চাষ করত। আর ফয়সাল নাম ধারণ করে সিলেটের জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার দায়িত্ব পালন করে।

উপজেলার নিঝুম পল্লী মাওহা ইউনিয়নের জেএমবির ৬জন কমান্ডার প্রায় ১৭বছর যাবত আত্মগোপনে থাকার পর আল মাসুমকে গ্রেফতার করল র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহ। চার্জশিটভুক্ত ও একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এই জেএমবি কমান্ডারদের একাধিক ওয়ারেন্টপত্র থানা থেকে ফিরে গেছে।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, জেএমবি সদস্যদের নামে এই মুহূর্তে কোনো ওয়ারেন্ট এ থানায় নেই।

মাওহা ইউনিয়নের একাধিক সূত্র জানায়, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও সিলেটে সিরিজ বোমা হামলার পর থেকে জেএমবি হিসাবে চার্জশিটভুক্ত আসামিরা আর বাড়ি ফিরেনি। পরিবার বা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বলে জানা গেছে।

১৭ বছর আত্মগোপনে থাকা জেএমবি কমান্ডার মাসুম গ্রেফতার

 ময়মনসিংহ ব্যুরো ও গৌরীপুর প্রতিনিধি 
১৮ আগস্ট ২০২২, ১২:৪২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

১৭ বছর আত্মগোপনে থাকা জেএমবি কমান্ডার আল মাসুমকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহ। তিনি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ২০০৫ সালের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সিরিজ বোমা হামলা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

সোমবার রাতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

তবে এখনও অধরা রয়েছে গৌরীপুরের জেএমবির ৫ সদস্য। তারা হলেন- মো. জাকারিয়া আলম টিপন, মো. হাবিবুল্লাহ, মো. জয়দুল্লাহ ছদ্মনাম ফয়সাল, রফিকুল ইসলাম ও আজিজুল হক।

নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও সিলেটে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় জেএমবির ৮ জন ২০০৬ সালে চার্জশিটভুক্ত আসামি হয়। সে সময়েই তাদের মধ্যে দুইজন কাউসার আলম সুমন ও সানা উল্লাহকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাব-১৪ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন চন্দ্রা এলাকায় দলটি সোমবার রাত দেড়টার দিকে অভিযানে যায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাসুম মিয়া কৌশলে পালানোর চেষ্টাকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের মাওহা লক্ষ্মীনগর গ্রামের ডা. আবদুস সালামের ছেলে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা ছদ্ম বেশে ১৭ বছর নিজের পরিচয় গোপন করে আত্মগোপনে ছিলেন।

র‌্যাব আরও জানায়, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। সেদিন সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে দেশের ৬৩ জেলার প্রেসক্লাব, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও  ঢাকার ৩৪টি স্থানসহ সাড়ে ৪০০ স্পটে প্রায় ৫০০ বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। এই হামলায় নিহত হন ২ জন এবং আহত হন দুই শতাধিকের বেশি মানুষ।

৬৪ জেলার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা বাদে অবশিষ্ট ৬৩টি জেলায় এই হামলা করা হয়। হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট, জেলা আদালত, বিমানবন্দর, মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেসক্লাব ও সরকারি-আধা সরকারি স্থাপনায় বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। হামলার জায়গাগুলোতে জেএমবির জঙ্গিরা লিফলেট ছড়িয়ে দেয়।

সেই সময়ে জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ১৬১টি মামলা হয়। ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানায় ঘটনার পর বিস্ফোরক আইনে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়।

র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসাইন জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর পলাতক থাকার পর সিরিজ বোমা হামলার আসামিকে গ্রেফতার করা হলো। তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে জেলা সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার ও উপজেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোতে আস্তানা স্থাপন করেছিল জেএমবি। আঞ্চলিক কমান্ডার কাউসার আলম সুমনের নিজ এলাকা নিজমাওহা গ্রামে গড়ে তোলে সে সময় আহলে হাদিস মসজিদ।

এলাকাবাসী জানান, এ কাউসার আলম সুমনের নেতৃত্বে মাওহা ইউনিয়নে জেএমবি কার্যক্রম শুরু হয়। ধর্মের লেবাসপরা জেএমবি সদস্যরা এলাকায় ধর্মপ্রাণ মানুষকে আহলে হাদিস ও জেএমবির দিকে ধাবিত করতে বিভিন্ন ইসলামি স্লোগান দিয়ে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

এ সুমনের ডাকেই তার বড় ভাই জাকারিয়া আলম টিপন, একই ইউনিয়নের লক্ষ্মীনগর গ্রামের ডা. আবদুস সালামের পুত্র আল মাসুম, আব্দুল কাদিরের পুত্র মো. হাবিবুল্লাহ, বড়ইকান্দা গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের পুত্র রফিকুল ইসলাম, আবদুল কদ্দুস মৌলভীর পুত্র মো. সানাউল্লাহ, তাতিরপায়া গ্রামের রুস্তম আলী মাস্টারের পুত্র মো. আজিজুল হকসহ অনেকেই জেএমবিতে যোগ দেয়। তাদের মধ্যে লক্ষ্মীনগর কান্দাবাড়ীর মুসলেম উদ্দিনের পুত্র মো. জয়দুল্লাহ ছদ্মনাম ফয়সাল সিলেটে শায়খ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইয়ের মাশরুম চাষ করত। আর ফয়সাল নাম ধারণ করে সিলেটের জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার দায়িত্ব পালন করে।

উপজেলার নিঝুম পল্লী মাওহা ইউনিয়নের জেএমবির ৬জন কমান্ডার প্রায় ১৭বছর যাবত আত্মগোপনে থাকার পর আল মাসুমকে গ্রেফতার করল র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহ। চার্জশিটভুক্ত ও একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এই জেএমবি কমান্ডারদের একাধিক ওয়ারেন্টপত্র থানা থেকে ফিরে গেছে।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, জেএমবি সদস্যদের নামে এই মুহূর্তে কোনো ওয়ারেন্ট এ থানায় নেই।

মাওহা ইউনিয়নের একাধিক সূত্র জানায়, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও সিলেটে সিরিজ বোমা হামলার পর থেকে জেএমবি হিসাবে চার্জশিটভুক্ত আসামিরা আর বাড়ি ফিরেনি। পরিবার বা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বলে জানা গেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন