‘অহন চিবাইয়া না, চুইয়া খাইতে অইবো’
jugantor
‘অহন চিবাইয়া না, চুইয়া খাইতে অইবো’

  রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ  

১৮ আগস্ট ২০২২, ০২:১৩:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

পঞ্চাশোর্ধ রিকশাচালক ছগির মিয়ার সঙ্গে নগরীর উকিলপাড়া এলাকায় এক শাক বিক্রেতার সঙ্গে কিছু একটা নিয়ে বচসা হচ্ছিল। হঠাৎ শাক বিক্রেতা ক্ষুব্ধ হয়ে ছগির মিয়াকে বলে বসলেন, ‘যে গেঞ্জি লাগাইছো হেইডা বেইচ্চা কিনোগা’।

চুপ হয়ে গিয়ে ছগির মিয়া নিজের গায়ে পরিহিত বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর টি-শার্টের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। একটু দূরে যেতেই তাকে সেই বচসার কারণ জিজ্ঞাসা করতেই বললে, ‘শাক দিয়া ভাত খামু হেইডাও ৯০ টেকা কেজি, ডিম ৬৫ টেকা হালি। হুগনা মরিচ পুইড়া যে খামু হেইডাও ৩৬০ টেকা কেজি অইয়া গেছে। অহন চিবাইয়া খাওনের দিন শেষ, চুইয়া খাইতে অইবো’।

প্রচণ্ড ক্ষোভ নিয়ে কথাগুলো বলতে বলতে চোখের কোণে পানি চলে আসছিল রিকশাচালক ছগির মিয়ার। সড়কের বিপরীতে নগরীর সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে পরিচিত দ্বিগুবাবুর বাজারে তখন ক্রেতা বিক্রেতার প্রচণ্ড ভিড়। এবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল কর্পোরেট দুনিয়ায় কাজ করা উচ্চ শিক্ষিতদের নাভিশ্বাস।

ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে কাজ করেন চৌধুরী গোলাম জিলানী। ব্যাগে কিছু সবজি নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন মুরগি আর মুদি দোকানের সামনে আর এদিক সেদিক কি যেন খুঁজছেন। বেশ কিছুক্ষণ তার এই দাঁড়িয়ে থাকা আর খোঁজের কারণ জানতে চাইলে এই প্রতিবেদকের দিকেও তাকিয়ে রইলেন ফ্যাল ফ্যাল করে।

তিনি বললেন, কিভাবে বাঁচবো সে পথই খুঁজছি ভাই। নদীর মাছ, মুরগি কিংবা গরু বা খাসির মাংস এখন আমাদের মত মধ্যবিত্তের কাছে তো সোনার হরিণের মতোই। যে ডিম, চাষের মাছ আর বয়লার মুরগি ছিল আমাদের ভরসা সেখানেও মূল্যবৃদ্ধির খড়গ। ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকা কেজি হয়েছে, খুচরা সয়াবিনের দাম হয়েছে ১৯০ টাকা লিটার, মিনিকেট চাল এখন কেজি ৭৫টাকা আর চিনি ৮০ থেকে এখন ৯২টাকা। কি নেবো আর কি খাবো তাই খুঁজে ফিরছি ভাই আর চিন্তা করছি আমাদের মত মধ্যবিত্তের যদি এই দশা হয় তবে নি¤œ আয়ের মানুষের কি অবস্থা।

নিত্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে এভাবেই চাপা ক্ষোভে ফুঁসছেন শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের মানুষ। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্তের বোবা কান্না এখন আর ‘বোবা’ নেই, তাদের কান্না চলছে ছগির মিয়া আর জিলানীদের মত প্রকাশ্যেই, শব্দ করে। চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা-ময়দা, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের সঙ্গে স্বস্তি নেই সবজির বাজারেও।

এর মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাড়তি বাসা ভাড়া। নারায়ণগঞ্জে দেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাত নিট শিল্পের সঙ্গেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করছেন বিভিন্ন জেলার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। এছাড়াও বিভিন্ন সেক্টরে রয়েছেন আরও প্রায় ১০ লাখ স্থানীয় ও অন্য জেলার মানুষ-যাদের বেশিরভাগই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের।

২০১৯-২০ এই দুই বছরে করোনার হটস্পট হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নারায়ণগঞ্জে লকডাউন পরিস্থিতির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছিল এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারের তরফ থেকে পাওয়া ত্রাণের বাইরে জীবিকার মাধ্যম হারিয়ে বেশিরভাগ নিম্ন আয়ের মানুষই দিন কাটিয়েছেন অবর্ণনীয় দুর্দশায়।

তবে ওই সময় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে ছিলেন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। কারণ এ সব পরিবারের লোকজন মুখ খুলে কাউকে বলতেও পারেননি কিংবা হাত পাততেও পারেননি। গত বছরের (২০২১) পুরোটা সময় সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টায় ছিলেন এসব নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো। কিন্তু চলতি বছরে তাদের সামনে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য কঠিন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি।

সরেজমিন শহরের পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে ঘুরে, বিভিন্ন শ্রমঘন এলাকায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের দুর্দশার কথা। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, গত ১মাসেই গুঁড়োদুধের দাম কেজিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৫-৬০টাকা। শিশু খাদ্যের মূল্যর একইভাবে বেড়ে চলেছে দিনের পর দিন।

এ ছাড়া যে সয়াবিন তেল এর মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে দেশজুড়ে এত তোলপাড় হয়েছিল সেই সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটারের মাপে ১৯০ টাকা। খুচরা বাজারে মোটা চাল (ইরি) বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা কেজি দরে, একটু কম মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা কেজি দরে, যা আগের চেয়ে কেজিতে বেড়েছে ছয়-সাত টাকা। আর সবজির দাম যেন আকাশ ছোঁয়া। যেকোনো শাক বিক্রি হচ্ছে ৭০থেকে ১০০টাকা কেজি দরে।

এদিকে খুচরা ও পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় সয়াবিন তেলের দাম আরও বাড়াতে চাচ্ছেন মিল মালিকরা, এমনটাই শোনা যাচ্ছে। শহরের দ্বিগুবাবুর বাজার, কালীর বাজারসহ পাড়া মহল্লার ছোট ছোট বাজারের ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আমরা যারা চাকরিজীবী তাদের ওই এক হিসেবের মধ্যেই মাস পার করতে হয়। সেখানে জিনিস পত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে মাস পার করার হিসেব কষতে কষতেই আমাদের ত্রাহি অবস্থা। বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ বাসার খরচ, গ্রামের বাড়িতে থাকা বয়স্ক বাবা-মায়ের খরচ, অফিসে আসা-যাওয়া খরচ, নিজেদের মোবাইল খরচ, চিকিৎসা, ইন্টারনেট, ডিশ কানেকশনসহ কোন খরচটা বাদ দেওয়া যায় বলুন, এটা সত্যিই দুঃখজনক ব্যাপার। আর যারা দিন মজুর বা দিন আনেন দিন খান তাদের অবস্থা যেন আরও বেশি ভয়াবহ।

বেশ কয়েকজন রিকশাচালকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, সারা দিনে রিকশা চালিয়ে গ্যারেজে জমার টাকা দিয়ে ২শ টাকার বেশি হয় না। এ টাকায় পরিবার নিয়ে খাওয়া, থাকা, চিকিৎসা কেমনে সম্ভব। যাত্রীদের কাছে বেশি ভাড়াও চাওয়া যায় না; তারাও তো একই পরিস্থিতির শিকার।

এদিকে কয়েক লাখ শ্রমিকের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত শিল্পাঞ্চল ফতুল্লার অসংখ্য গার্মেন্টস কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কথা। ফতুল্লা এলাকায় বেশ কিছু বাজার ঘুরে গার্মেন্ট কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে চরম ক্ষোভ আর দুর্দশার চিত্র।

তারা জানান, কাকে কী কমু? কিছু কওনের নাই। আপনে লেখলেও কোনো সমাধান হইতো না, পাটাপুতায় আমাগো মরিচের জান শেষ। এ সময় তাদের চোখে জমে উঠে নোনা জল।

‘অহন চিবাইয়া না, চুইয়া খাইতে অইবো’

 রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ 
১৮ আগস্ট ২০২২, ০২:১৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পঞ্চাশোর্ধ রিকশাচালক ছগির মিয়ার সঙ্গে নগরীর উকিলপাড়া এলাকায় এক শাক বিক্রেতার সঙ্গে কিছু একটা নিয়ে বচসা হচ্ছিল। হঠাৎ শাক বিক্রেতা ক্ষুব্ধ হয়ে ছগির মিয়াকে বলে বসলেন, ‘যে গেঞ্জি লাগাইছো হেইডা বেইচ্চা কিনোগা’।

চুপ হয়ে গিয়ে ছগির মিয়া নিজের গায়ে পরিহিত বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর টি-শার্টের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। একটু দূরে যেতেই তাকে সেই বচসার কারণ জিজ্ঞাসা করতেই বললে, ‘শাক দিয়া ভাত খামু হেইডাও ৯০ টেকা কেজি, ডিম ৬৫ টেকা হালি। হুগনা মরিচ পুইড়া যে খামু হেইডাও ৩৬০ টেকা কেজি অইয়া গেছে। অহন চিবাইয়া খাওনের দিন শেষ, চুইয়া খাইতে অইবো’।

প্রচণ্ড ক্ষোভ নিয়ে কথাগুলো বলতে বলতে চোখের কোণে পানি চলে আসছিল রিকশাচালক ছগির মিয়ার। সড়কের বিপরীতে নগরীর সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে পরিচিত দ্বিগুবাবুর বাজারে তখন ক্রেতা বিক্রেতার প্রচণ্ড ভিড়। এবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল কর্পোরেট দুনিয়ায় কাজ করা উচ্চ শিক্ষিতদের নাভিশ্বাস।

ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে কাজ করেন চৌধুরী গোলাম জিলানী। ব্যাগে কিছু সবজি নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন মুরগি আর মুদি দোকানের সামনে আর এদিক সেদিক কি যেন খুঁজছেন। বেশ কিছুক্ষণ তার এই দাঁড়িয়ে থাকা আর খোঁজের কারণ জানতে চাইলে এই প্রতিবেদকের দিকেও তাকিয়ে রইলেন ফ্যাল ফ্যাল করে।

তিনি বললেন, কিভাবে বাঁচবো সে পথই খুঁজছি ভাই। নদীর মাছ, মুরগি কিংবা গরু বা খাসির মাংস এখন আমাদের মত মধ্যবিত্তের কাছে তো সোনার হরিণের মতোই। যে ডিম, চাষের মাছ আর বয়লার মুরগি ছিল আমাদের ভরসা সেখানেও মূল্যবৃদ্ধির খড়গ। ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকা কেজি হয়েছে, খুচরা সয়াবিনের দাম হয়েছে ১৯০ টাকা লিটার, মিনিকেট চাল এখন কেজি ৭৫টাকা আর চিনি ৮০ থেকে এখন ৯২টাকা। কি নেবো আর কি খাবো তাই খুঁজে ফিরছি ভাই আর চিন্তা করছি আমাদের মত মধ্যবিত্তের যদি এই দশা হয় তবে নি¤œ আয়ের মানুষের কি অবস্থা।
 
নিত্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে এভাবেই চাপা ক্ষোভে ফুঁসছেন শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের মানুষ। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্তের বোবা কান্না এখন আর ‘বোবা’ নেই, তাদের কান্না চলছে ছগির মিয়া আর জিলানীদের মত প্রকাশ্যেই, শব্দ করে। চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা-ময়দা, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের সঙ্গে স্বস্তি নেই সবজির বাজারেও।

এর মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাড়তি বাসা ভাড়া। নারায়ণগঞ্জে দেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাত নিট শিল্পের সঙ্গেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করছেন বিভিন্ন জেলার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। এছাড়াও বিভিন্ন সেক্টরে রয়েছেন আরও প্রায় ১০ লাখ স্থানীয় ও অন্য জেলার মানুষ-যাদের বেশিরভাগই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের।

২০১৯-২০ এই দুই বছরে করোনার হটস্পট হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নারায়ণগঞ্জে লকডাউন পরিস্থিতির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছিল এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারের তরফ থেকে পাওয়া ত্রাণের বাইরে জীবিকার মাধ্যম হারিয়ে বেশিরভাগ নিম্ন আয়ের মানুষই দিন কাটিয়েছেন অবর্ণনীয় দুর্দশায়।

তবে ওই সময় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে ছিলেন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। কারণ এ সব পরিবারের লোকজন মুখ খুলে কাউকে বলতেও পারেননি কিংবা হাত পাততেও পারেননি। গত বছরের (২০২১) পুরোটা সময় সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টায় ছিলেন এসব নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো। কিন্তু চলতি বছরে তাদের সামনে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য কঠিন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি।

সরেজমিন শহরের পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে ঘুরে, বিভিন্ন শ্রমঘন এলাকায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের দুর্দশার কথা। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, গত ১মাসেই গুঁড়োদুধের দাম কেজিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৫-৬০টাকা। শিশু খাদ্যের মূল্যর একইভাবে বেড়ে চলেছে দিনের পর দিন।

এ ছাড়া যে সয়াবিন তেল এর মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে দেশজুড়ে এত তোলপাড় হয়েছিল সেই সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটারের মাপে ১৯০ টাকা। খুচরা বাজারে মোটা চাল (ইরি) বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা কেজি দরে, একটু কম মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা কেজি দরে, যা আগের চেয়ে কেজিতে বেড়েছে ছয়-সাত টাকা। আর সবজির দাম যেন আকাশ ছোঁয়া। যেকোনো শাক বিক্রি হচ্ছে ৭০থেকে ১০০টাকা কেজি দরে।

এদিকে খুচরা ও পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় সয়াবিন তেলের দাম আরও বাড়াতে চাচ্ছেন মিল মালিকরা, এমনটাই শোনা যাচ্ছে। শহরের দ্বিগুবাবুর বাজার, কালীর বাজারসহ পাড়া মহল্লার ছোট ছোট বাজারের ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আমরা যারা চাকরিজীবী তাদের ওই এক হিসেবের মধ্যেই মাস পার করতে হয়। সেখানে জিনিস পত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে মাস পার করার হিসেব কষতে কষতেই আমাদের ত্রাহি অবস্থা। বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ বাসার খরচ, গ্রামের বাড়িতে থাকা বয়স্ক বাবা-মায়ের খরচ, অফিসে আসা-যাওয়া খরচ, নিজেদের মোবাইল খরচ, চিকিৎসা, ইন্টারনেট, ডিশ কানেকশনসহ কোন খরচটা বাদ দেওয়া যায় বলুন, এটা সত্যিই দুঃখজনক ব্যাপার। আর যারা দিন মজুর বা দিন আনেন দিন খান তাদের অবস্থা যেন আরও বেশি ভয়াবহ।

বেশ কয়েকজন রিকশাচালকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, সারা দিনে রিকশা চালিয়ে গ্যারেজে জমার টাকা দিয়ে ২শ টাকার বেশি হয় না। এ টাকায় পরিবার নিয়ে খাওয়া, থাকা, চিকিৎসা কেমনে সম্ভব। যাত্রীদের কাছে বেশি ভাড়াও চাওয়া যায় না; তারাও তো একই পরিস্থিতির শিকার।

এদিকে কয়েক লাখ শ্রমিকের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত শিল্পাঞ্চল ফতুল্লার অসংখ্য গার্মেন্টস কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কথা। ফতুল্লা এলাকায় বেশ কিছু বাজার ঘুরে গার্মেন্ট কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে চরম ক্ষোভ আর দুর্দশার চিত্র।

তারা জানান, কাকে কী কমু? কিছু কওনের নাই। আপনে লেখলেও কোনো সমাধান হইতো না, পাটাপুতায় আমাগো মরিচের জান শেষ। এ সময় তাদের চোখে জমে উঠে নোনা জল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন