ভোলা-পটুয়াখালীর মধ্যে ফেরি সার্ভিস চালু হচ্ছে
jugantor
ভোলা-পটুয়াখালীর মধ্যে ফেরি সার্ভিস চালু হচ্ছে

  ভোলা ও রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি  

২০ আগস্ট ২০২২, ০২:৪০:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

ভোলা ও পটুয়াখালী জেলার মধ্যে ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি। শুক্রবার সকালে ভোলার লালমোহন উপজেলার নাজিরপুর ঘাট ও পটুয়াখালী জেলার কালাইয়াঘাট পরিদর্শন করেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান আহমদ শামীম আল রাজীসহ একটি টিম।

এ সময় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান জানান, ফেরি চালু হলে পর্যটকরা সহজে দুটি পর্যটন এলাকায় যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে পটুয়াখালী অঞ্চলের মানুষ সহজে ভোলা হয়ে চট্টগ্রাম যাতায়াত করতে পারবে। ভোলা-পায়রাবন্দর ও কুয়াকাটা মধ্যে সহজ যোগাযোগ স্থাপিত হবে। দেশের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সহজ যোগাযোগ ও গড়ে উঠবে অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক বাণিজ্য এসএম আশিকুজ্জামান, জিএম মেরিন ক্যাপ্টেন হাসেমুর রহমান চৌধুরী, তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মরিয়ম বেগমসহ স্থানীয় কর্মকর্তারা।

ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, তারও এ সময় উপস্থিত থাকার কথা ছিল। জরুরি কাজে তাকে ঢাকায় যেতে হয়েছে। তবে তিনি এই ফেরি চালুর জন্য জোর প্রস্তাব করেন।

এদিকে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ফেরি সেবা চালুর করতে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ করপোরেশনের চেয়ারম্যান আহমদ শামীম আল রাজী রাঙ্গাবালী উপজেলার নৌরুট পরিদর্শনে আসেন। তিনি গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি থেকে রাঙ্গাবালীর কোড়ালিয়া নৌরুটের আগুনমুখা নদী ঘুরে দেখেন।

পরে কোড়ালিয়া ঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, রাঙ্গাবালীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি কোড়ালিয়া-পানপট্টি নৌরুটের আগুনমুখা নদীতে ফেরি চালুর। নিঃসন্দেহে এখানে একটি ফেরি সার্ভিস প্রয়োজন। এজন্য আগুনমুখা নদীতে কিছু ড্রেজিংয়ের কাজ করতে হবে। সংযোগ সড়কের কাজ করতে হবে। আগামী সপ্তাহে আমরা আরেকটি টিম পাঠাবো এখানে। তারা দেখবে কি পরিমাণ ড্রেজিং এখানে প্রয়োজন।

রাঙ্গাবালীর মানুষকে ফেরি চালু করার বিষয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে এখানে ফেরি চালু করার। কারণ এখানে প্রচুর পরিমাণ কৃষি পণ্য উৎপাদন হয়। এখানে প্রচুর তরমুজ হচ্ছে। রয়েছে মৎস্য সম্পদ। আমাদের লক্ষ্য উপকূলীয় মানুষের যোগাযোগ সহজ করে দেওয়ার।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ায় সেখানকার বেশ কিছু ফেরি আমাদের হাতে আছে। অবকাঠামো থাকলে আমরা আজকেই ফেরি দিতে পারতাম। অবকাঠামোগুলো আমাদের করতে হবে। এর আগে নেভিগেশন বা নাব্য চিহ্নিত করতে হবে। এগুলো হলেই ফেরি চালু করতে পারবো। আগামী সপ্তাহে যে টিম আসবে তারাই বিষয়টি ঠিক করবে যে কবে নাগাদ এখানে ফেরি চালু হবে। ড্রেজিংয়ের কাজটি করবে বিআইডব্লিউটিএ। একটি টিম করা হয়েছে। যেখানে বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন। তারা কাজের পরিকল্পনা দিবে। তারা রিপোর্ট দেওয়ার পর আমরা কাজ শুরু করবো।

ফেরি চালুর ক্ষেত্রে কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, এখানে নাব্য সংকট রয়েছে। ড্রেজিং লাগবে। সংযোগ সড়কও করতে হবে।

এ পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক এস এম আশিকুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালেক মুহিদসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভোলা-পটুয়াখালীর মধ্যে ফেরি সার্ভিস চালু হচ্ছে

 ভোলা ও রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
২০ আগস্ট ২০২২, ০২:৪০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ভোলা ও পটুয়াখালী জেলার মধ্যে ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি। শুক্রবার সকালে ভোলার লালমোহন উপজেলার নাজিরপুর ঘাট ও পটুয়াখালী জেলার কালাইয়াঘাট পরিদর্শন করেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান আহমদ শামীম আল রাজীসহ একটি টিম।

এ সময় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান জানান, ফেরি চালু হলে পর্যটকরা সহজে দুটি পর্যটন এলাকায় যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে পটুয়াখালী অঞ্চলের মানুষ সহজে ভোলা হয়ে চট্টগ্রাম যাতায়াত করতে পারবে। ভোলা-পায়রাবন্দর ও কুয়াকাটা মধ্যে সহজ যোগাযোগ স্থাপিত হবে। দেশের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সহজ যোগাযোগ ও গড়ে উঠবে অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক বাণিজ্য এসএম আশিকুজ্জামান, জিএম মেরিন ক্যাপ্টেন হাসেমুর রহমান চৌধুরী, তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মরিয়ম বেগমসহ স্থানীয় কর্মকর্তারা।

ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, তারও এ সময় উপস্থিত থাকার কথা ছিল। জরুরি কাজে তাকে ঢাকায় যেতে হয়েছে। তবে তিনি এই ফেরি চালুর জন্য জোর প্রস্তাব করেন।

এদিকে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ফেরি সেবা চালুর করতে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ করপোরেশনের চেয়ারম্যান আহমদ শামীম আল রাজী রাঙ্গাবালী উপজেলার নৌরুট পরিদর্শনে আসেন। তিনি গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি থেকে রাঙ্গাবালীর কোড়ালিয়া নৌরুটের আগুনমুখা নদী ঘুরে দেখেন।

পরে কোড়ালিয়া ঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, রাঙ্গাবালীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি কোড়ালিয়া-পানপট্টি নৌরুটের আগুনমুখা নদীতে ফেরি চালুর। নিঃসন্দেহে এখানে একটি ফেরি সার্ভিস প্রয়োজন। এজন্য  আগুনমুখা নদীতে কিছু ড্রেজিংয়ের কাজ করতে হবে। সংযোগ সড়কের কাজ করতে হবে। আগামী সপ্তাহে আমরা আরেকটি টিম পাঠাবো এখানে। তারা দেখবে কি পরিমাণ ড্রেজিং এখানে প্রয়োজন।

রাঙ্গাবালীর মানুষকে ফেরি চালু করার বিষয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে এখানে ফেরি চালু করার। কারণ এখানে প্রচুর পরিমাণ কৃষি পণ্য উৎপাদন হয়। এখানে প্রচুর তরমুজ হচ্ছে। রয়েছে মৎস্য সম্পদ। আমাদের লক্ষ্য উপকূলীয় মানুষের যোগাযোগ সহজ করে দেওয়ার।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ায় সেখানকার বেশ কিছু ফেরি আমাদের হাতে আছে। অবকাঠামো থাকলে আমরা আজকেই ফেরি দিতে পারতাম। অবকাঠামোগুলো আমাদের করতে হবে। এর আগে নেভিগেশন বা নাব্য চিহ্নিত করতে হবে। এগুলো হলেই ফেরি চালু করতে পারবো। আগামী সপ্তাহে যে টিম আসবে তারাই বিষয়টি ঠিক করবে যে কবে নাগাদ এখানে ফেরি চালু হবে। ড্রেজিংয়ের কাজটি করবে বিআইডব্লিউটিএ। একটি টিম করা হয়েছে। যেখানে বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন। তারা কাজের পরিকল্পনা দিবে। তারা রিপোর্ট দেওয়ার পর আমরা কাজ শুরু করবো।

ফেরি চালুর ক্ষেত্রে কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, এখানে নাব্য সংকট রয়েছে। ড্রেজিং লাগবে। সংযোগ সড়কও করতে হবে।

এ পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক এস এম আশিকুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালেক মুহিদসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন