বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১
jugantor
বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১

  সুনামগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি  

২০ আগস্ট ২০২২, ০২:৫৪:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় ৪০-৪৫ জন যাত্রী নিয়ে খেয়া পারাপারের একটি নৌকা ডুবে গেছে। দুর্ঘটনায় ১ জন যাত্রী নিখোঁজ এবং অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার রাত ৮টার দিকে দোয়ারা উপজেলার আজমপুর এলাকায় সুরমা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে ডুবে যাওয়া নৌকার বেশির ভাগ যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দুর্ঘটনায় রাত সাড়ে ১১টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় ১ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজ যাত্রীর নাম শামসুল হক (৩৫)। তার বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। তিনি উক্ত গ্রামের মৃত রইছ মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।

নৌ দুর্ঘটনায় আহতদের কয়েকজনের নাম জানা গেছে। হলেন- আজমপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার (৫৫), আকবর আলী (৬০), জাকির হোসেন (২৪), কাটাখালী গ্রামের লায়েবা (২২), সুনামগঞ্জের আজগর আলীসহ (৩০) অন্তত ২০ জন। তাৎক্ষণিকভাবে সবার নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহতদের দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৮টার দিকে ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী নিয়ে দোয়ারাবাজারের বাজার ঘাট থেকে একটি খেয়া নৌকা আজমপুর ঘাটে যাচ্ছিল। মাঝ নদীতে যাওয়ার পর ছাতক থেকে সুনামগঞ্জগামী মালবোঝাই একটি বাল্কহেড খেয়া নৌকাকে সাজোরে ধাক্কা দেয়। আকস্মিক ধাক্কায় নৌকাটি যাত্রীসহ পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় নৌকার যাত্রীরা যার যার মতো সাঁতরে নদী তীরে উঠতে সক্ষম হলে কিছু যাত্রী নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নৌকার মধ্যে মোটরসাইকেলসহ বেশ কিছু মালামাল ছিল বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার দমকল বাহিনীর সদস্যরা, দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযানে নামেন। তবে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওই স্থানে থেকে কাউকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চলছিল। তবে রাতের অন্ধকারে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে সুবিধা করতে পারছেন না উদ্ধার কর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সুনামগঞ্জের জেলা শহরের হবতপুর গ্রামের এখলাছুর রহমান বলেন, দোয়ারাবাজার খেয়াঘাট থেকে আজমপুর ঘাটের কাছাকাছি এলে বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকাটি ডুবে যায়। এতে কয়েকজন যাত্রী নদীতে নিখোঁজ হন। আমার বন্ধু গোবিন্দপুরের শামছুল হককে (৩৫) পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে খেয়ানৌকায় উঠেছিলেন। এছাড়া আরও যাত্রী নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

দোয়ারাবাজার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সল আহমদ ঘটনাস্থল থেকে জানান, রাত ৮টার দিকে ইঞ্জিনচালিত নৌকাটিতে বাল্কহেডের ধাক্কা লাগে। নদীতে পড়ে কতজন নিখোঁজ- তা এখনই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আমরা কয়েকটি ট্রলার নিয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশে খোঁজাখুঁজি করছি।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবদুলাল ধর বলেন, খেয়ানৌকাকে ধাক্কা দেয়া বাল্কহেডের পাঁচজন মাঝিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া নৌকাটি জব্দ করা হয়েছে।

বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১

 সুনামগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি 
২০ আগস্ট ২০২২, ০২:৫৪ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় ৪০-৪৫ জন যাত্রী নিয়ে খেয়া পারাপারের একটি নৌকা ডুবে গেছে। দুর্ঘটনায় ১ জন যাত্রী নিখোঁজ এবং অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার রাত ৮টার দিকে দোয়ারা উপজেলার আজমপুর এলাকায় সুরমা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে ডুবে যাওয়া নৌকার বেশির ভাগ যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দুর্ঘটনায় রাত সাড়ে ১১টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় ১ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজ যাত্রীর  নাম শামসুল হক (৩৫)। তার বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। তিনি উক্ত গ্রামের মৃত রইছ মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।

নৌ দুর্ঘটনায় আহতদের কয়েকজনের নাম জানা গেছে। হলেন- আজমপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার (৫৫), আকবর আলী (৬০), জাকির হোসেন (২৪), কাটাখালী গ্রামের লায়েবা (২২), সুনামগঞ্জের আজগর আলীসহ (৩০) অন্তত ২০ জন। তাৎক্ষণিকভাবে সবার নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহতদের দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৮টার দিকে ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী নিয়ে দোয়ারাবাজারের বাজার ঘাট থেকে একটি খেয়া নৌকা আজমপুর ঘাটে যাচ্ছিল। মাঝ নদীতে যাওয়ার পর ছাতক থেকে সুনামগঞ্জগামী মালবোঝাই একটি বাল্কহেড খেয়া নৌকাকে সাজোরে ধাক্কা দেয়। আকস্মিক ধাক্কায় নৌকাটি যাত্রীসহ পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় নৌকার যাত্রীরা যার যার মতো সাঁতরে নদী তীরে উঠতে সক্ষম হলে কিছু যাত্রী নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নৌকার মধ্যে মোটরসাইকেলসহ বেশ কিছু মালামাল ছিল বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার দমকল বাহিনীর সদস্যরা, দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ও  স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযানে নামেন। তবে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওই স্থানে থেকে কাউকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চলছিল। তবে রাতের অন্ধকারে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে সুবিধা করতে পারছেন না উদ্ধার কর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সুনামগঞ্জের জেলা শহরের হবতপুর গ্রামের এখলাছুর রহমান বলেন, দোয়ারাবাজার খেয়াঘাট থেকে আজমপুর ঘাটের কাছাকাছি এলে বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকাটি ডুবে যায়। এতে কয়েকজন যাত্রী নদীতে নিখোঁজ হন। আমার বন্ধু গোবিন্দপুরের শামছুল হককে (৩৫) পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে খেয়ানৌকায় উঠেছিলেন। এছাড়া আরও যাত্রী নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

দোয়ারাবাজার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সল আহমদ ঘটনাস্থল থেকে জানান, রাত ৮টার দিকে ইঞ্জিনচালিত নৌকাটিতে বাল্কহেডের ধাক্কা লাগে। নদীতে পড়ে কতজন নিখোঁজ- তা এখনই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আমরা কয়েকটি ট্রলার নিয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশে খোঁজাখুঁজি করছি।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবদুলাল ধর বলেন, খেয়ানৌকাকে ধাক্কা দেয়া বাল্কহেডের পাঁচজন মাঝিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া নৌকাটি জব্দ করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন