হাসপাতালে সিট ফাঁকা, তবু বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মেঝেতে চিকিৎসা!
jugantor
হাসপাতালে সিট ফাঁকা, তবু বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মেঝেতে চিকিৎসা!

  পাবনা প্রতিনিধি  

২০ আগস্ট ২০২২, ০৬:০৩:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

সিট ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও বীর মুক্তিযোদ্ধা হরি শংকরকে (৭২) পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ পাবনা জেলা শাখার সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আব্দুর রহিম পাকন তাকে একটি খালি সিটে তুলে দেন।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) পাবনা জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আব্দুর রহিম পাকন পরে এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানানোর পর সব মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তোলপাড় সৃষ্টি হয় সর্বত্র।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হরি শংকর পাবনা সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম. আব্দুর রহিম পাকন জানান, শুক্রবার (১৯ আগস্ট) সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা হরি শংকর অসুস্থ হয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। খবর পেয়ে তিনি তাকে হাসপাতালে দেখতে যান। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়- নন পেইং ওয়ার্ডে তখনো ৩টি সিট ফাঁকা ছিল। অথচ তাকে একটি সিট দেওয়া হয়নি। তাকে শুধুমাত্র একটি স্যালাইন দিয়ে বারান্দায় মাটিতে শুইয়ে রাখা হয়েছে। তখন তিনি নিজে অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা হরি শংকরকে মেঝে থেকে একটি বেডে তুলে দেন। এ সময় কোনো চিকিৎসককেও তিনি পাননি বলে জানান।

এরপর পরই বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম. আব্দুর রহিম পাকন সামাজিক গণমাধ্যমে দেয়া স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘বাঙালি জাতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আমরা সবাই এহেন ব্যবস্থার জন্য লজ্জিত এবং দুঃখিত।’

এদিকে এ বিষয়টি জানাজানির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠে। মাহমুদ আলম নামের একজন ব্যবসায়ী লিখেছেন- ‘উনি বারান্দায় কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের সংরক্ষিত সিট তাহলে আছে কাদের জন্য?’

সামিউল আহমেদ হিমেল নামের একজন লিখেছেন, ‘পাবনা সদর হাসপাতাল দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে এমন আচরণ করা মোটেই উচিত নয়। অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সাধারণ মানুষের সঙ্গেও এমন আচরণ করা হয়। মানুষই মনে করে না।’

পাবনা সদরের বলরামপুর কমিউনিটি হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লিখেছেন- ‘একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য ডিসি, এসপি, এমপির সুপারিশ লাগবে কেন? যারা নিজেদের জীবনকে বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করলেন তাদের অধিকার সবার আগে।’

শুভ খান নামের একজন লিখেছেন- ‘পাবনা সদর হাসপাতালের চিকিৎসা এতটাই খারাপ, কর্মকর্তা- কর্মচারীরা রোগীদের খুবই অবহেলা করেন... যা কল্পনার বাইরে। দুপুর ২টার পর থেকে সারা রাত আর কোনো ডাক্তার থাকে না, পাবনায় এসব দেখার কেউ নাই।’

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (এ.ডি) ডা. ওমর ফারুক মীর জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হরি শংকর ডায়রিয়া রোগের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন বলে তিনি জেনেছেন। তাকে মেঝেতে চিকিৎসা দেয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন।

তিনি জানান, একজন রোগীকে অন্যত্র সরিয়ে ওই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সিট দেয়া হয়েছিল।

এদিকে অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বরাত দিয়ে আ স ম আব্দুর রহিম পাকন জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হরি শংকরকে (রাত ৯ টা) তিনটি স্যালাইন দিয়ে ‘রিলিজ’ করে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক তাকে একটি টেস্ট দিয়েছিলেন। সে টেস্টও হাসপাতাল থেকে না করে বলা হয়েছিল, বাইরে থেকে করে আনতে হবে।

প্রসঙ্গত, পাবনায় মেডিকেল কলেজ থাকলেও এখনো হয়নি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ১৫০ বেডের পাবনা জেনারেল হাসপাতালকে আউটার ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং এই একটি মাত্র হাসপাতাল জেলাবাসীর সর্বোচ্চ চিকিৎসার ভরসাস্থল।

গত ৩ জুলাই পাবনা জেনারেল হাসপাতালে আসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সাইদুর রহমান। তিনি ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা তিনি হাসপাতালে অবস্থান করেন। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দেখে চরম ক্ষুব্ধ হন। দ্রুত এসব অব্যবস্থাপনা দূর করে চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে হাসপাতালের সহকারী পরিচালককে নির্দেশ দেন।

এ সময় অতিরিক্ত সচিব বলেন, আপনি কাজ করতে না পারলে সরে যান। এরপর গত কুরবানি ঈদের দ্বিতীয় দিন ১১ জুলাই দুপুরে হাসপাতালে রোগীদের খোঁজ নিতে হাসপাতাল ঝটিকা পরিদর্শনে যান পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স। এ সময় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপস্থিতি, অব্যবস্থাপনা, অপরিচ্ছন্নতা ও খাবারের নিম্নমান নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য।

হাসপাতালে সিট ফাঁকা, তবু বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মেঝেতে চিকিৎসা!

 পাবনা প্রতিনিধি 
২০ আগস্ট ২০২২, ০৬:০৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সিট ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও বীর মুক্তিযোদ্ধা হরি শংকরকে (৭২) পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ পাবনা জেলা শাখার সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আব্দুর রহিম পাকন তাকে একটি খালি সিটে তুলে দেন।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) পাবনা জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আব্দুর রহিম পাকন পরে এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানানোর পর সব মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তোলপাড় সৃষ্টি হয় সর্বত্র।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হরি শংকর পাবনা সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম. আব্দুর রহিম পাকন জানান, শুক্রবার (১৯ আগস্ট) সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা হরি শংকর অসুস্থ হয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। খবর পেয়ে তিনি তাকে হাসপাতালে দেখতে যান। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়- নন পেইং ওয়ার্ডে তখনো ৩টি সিট ফাঁকা ছিল। অথচ তাকে একটি সিট দেওয়া হয়নি। তাকে শুধুমাত্র একটি স্যালাইন দিয়ে বারান্দায় মাটিতে শুইয়ে রাখা হয়েছে। তখন তিনি নিজে অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা হরি শংকরকে মেঝে থেকে একটি বেডে তুলে দেন। এ সময় কোনো চিকিৎসককেও তিনি পাননি বলে জানান।

এরপর পরই বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম. আব্দুর রহিম পাকন সামাজিক গণমাধ্যমে দেয়া স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘বাঙালি জাতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আমরা সবাই এহেন ব্যবস্থার জন্য লজ্জিত এবং দুঃখিত।’

এদিকে এ বিষয়টি জানাজানির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠে। মাহমুদ আলম নামের একজন ব্যবসায়ী লিখেছেন- ‘উনি বারান্দায় কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের সংরক্ষিত সিট তাহলে আছে কাদের জন্য?’

সামিউল আহমেদ হিমেল নামের একজন লিখেছেন, ‘পাবনা সদর হাসপাতাল দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে এমন আচরণ করা মোটেই উচিত নয়। অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সাধারণ মানুষের সঙ্গেও এমন আচরণ করা হয়। মানুষই মনে করে না।’

পাবনা সদরের বলরামপুর কমিউনিটি হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লিখেছেন- ‘একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য ডিসি, এসপি, এমপির সুপারিশ লাগবে কেন? যারা নিজেদের জীবনকে বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করলেন তাদের অধিকার সবার আগে।’

শুভ খান নামের একজন লিখেছেন- ‘পাবনা সদর হাসপাতালের চিকিৎসা এতটাই খারাপ, কর্মকর্তা- কর্মচারীরা রোগীদের খুবই অবহেলা করেন... যা কল্পনার বাইরে। দুপুর ২টার পর থেকে সারা রাত আর কোনো ডাক্তার থাকে না, পাবনায় এসব দেখার কেউ নাই।’

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (এ.ডি) ডা. ওমর ফারুক মীর জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হরি শংকর ডায়রিয়া রোগের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন বলে তিনি জেনেছেন। তাকে মেঝেতে চিকিৎসা দেয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন।

তিনি জানান, একজন রোগীকে অন্যত্র সরিয়ে ওই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সিট দেয়া হয়েছিল।

এদিকে অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বরাত দিয়ে আ স ম আব্দুর রহিম পাকন জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হরি শংকরকে (রাত ৯ টা) তিনটি স্যালাইন দিয়ে ‘রিলিজ’ করে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক তাকে একটি টেস্ট দিয়েছিলেন। সে টেস্টও হাসপাতাল থেকে না করে বলা হয়েছিল, বাইরে থেকে করে আনতে হবে।

প্রসঙ্গত, পাবনায় মেডিকেল কলেজ থাকলেও এখনো হয়নি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ১৫০ বেডের পাবনা জেনারেল  হাসপাতালকে আউটার ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং এই একটি মাত্র হাসপাতাল জেলাবাসীর সর্বোচ্চ চিকিৎসার ভরসাস্থল।

গত ৩ জুলাই পাবনা জেনারেল হাসপাতালে আসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সাইদুর রহমান। তিনি ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা তিনি হাসপাতালে অবস্থান করেন। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দেখে চরম ক্ষুব্ধ হন। দ্রুত এসব অব্যবস্থাপনা দূর করে চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে হাসপাতালের সহকারী পরিচালককে নির্দেশ দেন।

এ সময় অতিরিক্ত সচিব বলেন, আপনি কাজ করতে না পারলে সরে যান। এরপর গত কুরবানি ঈদের দ্বিতীয় দিন ১১ জুলাই দুপুরে হাসপাতালে রোগীদের খোঁজ নিতে হাসপাতাল ঝটিকা পরিদর্শনে যান পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স। এ সময় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপস্থিতি, অব্যবস্থাপনা, অপরিচ্ছন্নতা ও খাবারের নিম্নমান নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন