খাগড়াছড়িতে পানিবন্দি হাজারো মানুষ

  খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ১২ জুন ২০১৮, ২২:১১ | অনলাইন সংস্করণ

খাগড়াছড়ির বিস্তির্ণ এলাকা পানির নিচে
খাগড়াছড়ির বিস্তির্ণ এলাকা পানির নিচে। ছবি: যুগান্তর

পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে খাগড়াছড়িতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে জেলার অধিকাংশ এলাকা এখন পানির নিচে।

মঙ্গলবার সারা দিন বৃষ্টির হওয়ায় বন্যা স্থায়ী হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া পাহাড়ের একাধিক স্থানে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। হঠাৎ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা সদরের মুসলিমপাড়া, গঞ্জপাড়া, শান্তিনগর, বটতলী, কল্যাণপুর, ভাঙাব্রিজ, বাঙ্গালকাঠি, চেঙ্গীব্রিজ এলাকা, কালাডেবা ও কমলছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া পানি উঠেছে খাগড়াছড়ির বাস টার্মিনাল থেকে কলেজগেট পর্যন্ত। জেলার চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে হঠাৎ পানি বাড়তে শুরু করে। এতে ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়ে হাজার হাজার পরিবার। টানা বর্ষণে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে চার শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড় ধসের শঙ্কায় খাগড়াছড়ি–রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি-সাজেক-বাঘাইছড়ি, দীঘিনালা-লংগদু সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে জেলার দীঘিনালায় বন্যা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা। সোমবার মধ্যরাত থেকে বিভিন্ন বাড়িঘরে পানি ঢুকে যায়। দীঘিনালার মেরুং, বোয়ালখালী ও কবাখালী ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার প্রায় তিন হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি। মাইনী নদীর স্রোতে ভেসে গেছে ক্ষেতের ফসল, গোলার ধান –চাল।

বন্যার্তদের উদ্ধার করছে দুই দেশি বোট। দীঘিনালা উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউএনওর নেতৃত্বে উদ্ধারকাজ চলছে।

দীঘিনালা ইউএনও শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে মাইনী নদীর দুপাড়ের পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারের কাজ চলছে। এছাড়া কেন্দ্রগুলোতে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানির নিচে ডুবে গেছে মেরুং বাজার। দীঘিনালার হাচিনসনপুর, দক্ষিণ হাচিনসনপুর,পুরাতন বাজার,থানা বাজার,বড়াদামসহ প্রায় প্রতিটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বর্ন্যাতদের জন্য বোয়ালখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,দীঘিনালা কলেজসহ প্রায় সাতটি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে প্রশাসন। মাটিরাঙ্গা-তানাক্কাপাড়া সড়কের একাধিক স্থানে পাহাড়ধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে মহালছড়ি ও মাইসছড়িতে বন্যায় একাধিক পরিবার প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে ৮০টি পরিবারকে আশ্রয় নিয়েছে।

মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্ন নাসরিন ঊর্মি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

জেলা সদর ও বন্যাকবলিত দীঘিনালা উপজেলা পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম। তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত জেলার কোথাও বড় ধরনের পাহাড় ধসের খবর পাওয়া যায়নি। তবে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, জেলার প্রায় ৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত এলাকায় শুকনো খাবার এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি দিচ্ছে প্রশাসন।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter