হঠাৎ অবরুদ্ধ সিলেট নগরী, দূর্ভোগে যাত্রীরা
jugantor
হঠাৎ অবরুদ্ধ সিলেট নগরী, দূর্ভোগে যাত্রীরা

  সিলেট ব্যুরো  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২৩:৪৫:৩০  |  অনলাইন সংস্করণ

সিলেটে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার পর এসএসসি পরীক্ষার জন্য স্থগিত করা হলেও ভিন্ন ইস্যুতে বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট নগরী আকস্মিক অচল করে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে সড়ক অবরোধ করে অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ করে দেয় নগরীর অভ্যন্তরের সকল পয়েন্ট ছাড়াও প্রবেশ পথ গুলোতে।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলছেন, সিলেট জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলাম, সিএনজি অপটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকারিয়া আহমদ, হিউম্যান হুলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল মিয়া মইনসহ চার শ্রমিক নেতার নাম উল্লেখ করে ২০/৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদেই তাদের এই আকস্মিক আন্দোলন।

ফলে সন্ধ্যা থেকে দূরপাল্লার বাসসহ সিলেটে সব ধরণের যান চলাচল রাত সোয়া ৯টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। নগরের উপশরহর, শাহী ইদগাহ, বালুচর, টিলাগড়, হুমায়ন রশীদ চত্বরসহ বিভিন্ন মোড়ে পরিবহন শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।

সড়কে টায়ার পুড়িয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন তারা। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরণের যান চলাচল। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন সিএনজি অটোরিক্সা চালকরা।

শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সুরমা থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন লেগুনা শ্রমিক মো. শাহাব উদ্দিন। মামলায় মারপিট ও টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এই মামলার জেরেই নাকি আন্দোলনে নামেন পরিবহন শ্রমিকরা।

দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ জানায়, পরিবহন শ্রমিকদের দুটো গ্রুপ। তাদের বিরোধের জেরেই থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা।একটি মামলায় পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের ৮ দিন পর আন্দোলনে নামা প্রসঙ্গে সিলেট জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলাম বলেন, মামলার বিষয়টি আমরা আজকেই জানতে পেরেছি। আজকে আমাদের কয়েকজন শ্রমিক পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে এ ব্যাপারে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তিনি তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।

মইনুল বলেন, যিনি আমাদের নামে মামলা করেছেন তাকে আগেই শ্রমিক সমিতি থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এই কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আমাদের নামে চাদাবাজি ছিনতাইয়ের অভিযোগে মিথ্যে মামলা করেন। পুলিশও কোন তদন্ত ছাড়াই মামলাটি গ্রহণ করেন। প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছে। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। পুলিশ কমিশনারের অপসারণ ও মামলা প্রত্যাহার না হলে আন্দালন চলবে।

ঢাকা যাওয়ার জন্য বাস টার্মিনালে এসেছিলেন বাসদ নেতা প্রণব জ্যোতি পাল। তিনি বলেন, সব ধরণের বাস বন্ধ রয়েছে। কেউ টিকিট বিক্রি করছে না। আচমকা এমন কর্মসূচীতে চরম দূর্ভোগে পড়েছি।

দক্ষিণ সুরমা থানারওসি তদন্ত সুমন কুমার চৌধুরী বলেন, মামলা আইনি প্রক্রিয়া, তদন্ত চলছে। এজন্য সাধারণ পথচারীদের জিম্মি করে এমন আকস্মিক কর্মসূচি মোটেও কাম্য নয়।

হঠাৎ অবরুদ্ধ সিলেট নগরী, দূর্ভোগে যাত্রীরা

 সিলেট ব্যুরো 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৪৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সিলেটে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার পর এসএসসি পরীক্ষার জন্য স্থগিত করা হলেও ভিন্ন ইস্যুতে বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট নগরী আকস্মিক অচল করে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে সড়ক অবরোধ করে অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ করে দেয় নগরীর অভ্যন্তরের সকল পয়েন্ট ছাড়াও প্রবেশ পথ গুলোতে। 

আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলছেন, সিলেট জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলাম, সিএনজি অপটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকারিয়া আহমদ, হিউম্যান হুলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল মিয়া মইনসহ চার শ্রমিক নেতার নাম উল্লেখ করে ২০/৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদেই তাদের এই আকস্মিক আন্দোলন। 

ফলে সন্ধ্যা থেকে দূরপাল্লার বাসসহ সিলেটে সব ধরণের যান চলাচল রাত সোয়া ৯টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। নগরের উপশরহর, শাহী ইদগাহ, বালুচর, টিলাগড়, হুমায়ন রশীদ চত্বরসহ বিভিন্ন মোড়ে পরিবহন শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। 

সড়কে টায়ার পুড়িয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন তারা। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরণের যান চলাচল। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন সিএনজি অটোরিক্সা চালকরা। 

শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সুরমা থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন লেগুনা শ্রমিক মো. শাহাব উদ্দিন। মামলায় মারপিট ও টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এই মামলার জেরেই নাকি আন্দোলনে নামেন পরিবহন শ্রমিকরা।

দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ জানায়, পরিবহন শ্রমিকদের দুটো গ্রুপ। তাদের বিরোধের জেরেই থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা।একটি মামলায় পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের ৮ দিন পর আন্দোলনে নামা প্রসঙ্গে সিলেট জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলাম বলেন, মামলার বিষয়টি আমরা আজকেই জানতে পেরেছি। আজকে আমাদের কয়েকজন শ্রমিক পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে এ ব্যাপারে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তিনি তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।

মইনুল বলেন, যিনি আমাদের নামে মামলা করেছেন তাকে আগেই শ্রমিক সমিতি থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এই কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আমাদের নামে চাদাবাজি ছিনতাইয়ের অভিযোগে মিথ্যে মামলা করেন। পুলিশও কোন তদন্ত ছাড়াই মামলাটি গ্রহণ করেন। প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছে। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। পুলিশ কমিশনারের অপসারণ ও মামলা প্রত্যাহার না হলে আন্দালন চলবে।

ঢাকা যাওয়ার জন্য বাস টার্মিনালে এসেছিলেন বাসদ নেতা প্রণব জ্যোতি পাল। তিনি বলেন, সব ধরণের বাস বন্ধ রয়েছে। কেউ টিকিট বিক্রি করছে না। আচমকা এমন কর্মসূচীতে চরম দূর্ভোগে পড়েছি।

দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি তদন্ত সুমন কুমার চৌধুরী বলেন, মামলা আইনি প্রক্রিয়া, তদন্ত চলছে। এজন্য সাধারণ পথচারীদের জিম্মি করে এমন আকস্মিক কর্মসূচি মোটেও কাম্য নয়। 
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন