রাতে সন্তান প্রসব, সকালে হলে বসে দিলেন পরীক্ষা
jugantor
রাতে সন্তান প্রসব, সকালে হলে বসে দিলেন পরীক্ষা

  যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:০০:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

রাতে কন্যাসন্তান প্রসব করে সকালে পরীক্ষার হলে গেলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী রুনা আক্তার। অসুস্থতা সত্ত্বেও পরীক্ষায় অংশ নেন ওই প্রসূতি ওই মা।

বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া সরকারি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন রুনা। তিনি মানিকগঞ্জ সদরে কর্নেল মালেক উচ্চবিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের ছাত্রী।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম বলেন, লেখাপড়ায় রুনার বেশ আগ্রহ রয়েছে। রাতে সন্তান প্রসব করে সকালে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তিনি রুনার সফলতা কামনা করেন।

এদিকে সাটুরিয়া সরকারি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রের ৯ নম্বর কক্ষে নির্ধারিত আসনে বসেই ওই পরীক্ষার্থী (রুনা) পরীক্ষায় অংশ নেয়। শারীরিক অসুস্থতা থাকলেও মানসিকভাবে খুব দৃঢ়চেতা ছিল।

ওই ছাত্রীর পরিবার এবং শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৭ সালে সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের পোলসুড়া গ্রামের আবদুস সালামের মেয়ে রুনা আক্তারকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন পাশের দেলুয়া গ্রামের শহীদুল ইসলাম। পড়াশোনার প্রতি রুনার প্রবল আগ্রহ রুনার। স্বামীও তাকে পড়াশোনায় সহযোগিতা করে আসছিলেন।

বুধবার সন্ধ্যায় প্রসূতি রুনার প্রসব-ব্যথা উঠলে স্বজনরা তাকে উপজেলা সদরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান। এরপর রাত ২টার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাসন্তান প্রসব করেন। বৃহস্পতিবার এসএসসি গণিত বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অসুস্থতার পরও স্বামীর সহযোগিতায় রুনা পরীক্ষার কেন্দ্রে যান এবং পরীক্ষায় অংশ নেন।

রুনার স্বামী শহীদুল ইসলাম বলেন, পড়ালেখার প্রতি ওর (রুনা) বরাবরই বেশ আগ্রহ। আগের দিন রাতে সন্তান হলেও পরের দিন পরীক্ষা দিতে চাইলে আমিও রাজি হলাম। সকালে পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে যাই। পরীক্ষাও ভালো দিয়েছে বলে জানালো।

জেলা সদরের কর্নেল মালেক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রুনা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সে বলে- আশা করি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করব। পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরি করার ইচ্ছা আছে। এ জন্য সে সবার কাছে দোয়া চেয়েছে।

রাতে সন্তান প্রসব, সকালে হলে বসে দিলেন পরীক্ষা

 যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:০০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাতে কন্যাসন্তান প্রসব করে সকালে পরীক্ষার হলে গেলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী রুনা আক্তার। অসুস্থতা সত্ত্বেও পরীক্ষায় অংশ নেন ওই প্রসূতি ওই মা।

বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া সরকারি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন রুনা। তিনি মানিকগঞ্জ সদরে কর্নেল মালেক উচ্চবিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের ছাত্রী।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম বলেন, লেখাপড়ায় রুনার বেশ আগ্রহ রয়েছে। রাতে সন্তান প্রসব করে সকালে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তিনি রুনার সফলতা কামনা করেন।

এদিকে সাটুরিয়া সরকারি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রের ৯ নম্বর কক্ষে নির্ধারিত আসনে বসেই ওই পরীক্ষার্থী (রুনা) পরীক্ষায় অংশ নেয়। শারীরিক অসুস্থতা থাকলেও মানসিকভাবে খুব দৃঢ়চেতা ছিল।

ওই ছাত্রীর পরিবার এবং শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৭ সালে সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের পোলসুড়া গ্রামের আবদুস সালামের মেয়ে রুনা আক্তারকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন পাশের দেলুয়া গ্রামের শহীদুল ইসলাম। পড়াশোনার প্রতি রুনার প্রবল আগ্রহ রুনার। স্বামীও তাকে পড়াশোনায় সহযোগিতা করে আসছিলেন।

বুধবার সন্ধ্যায় প্রসূতি রুনার প্রসব-ব্যথা উঠলে স্বজনরা তাকে উপজেলা সদরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান। এরপর রাত ২টার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাসন্তান প্রসব করেন। বৃহস্পতিবার এসএসসি গণিত বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অসুস্থতার পরও স্বামীর সহযোগিতায় রুনা পরীক্ষার কেন্দ্রে যান এবং পরীক্ষায় অংশ নেন।

রুনার স্বামী শহীদুল ইসলাম বলেন, পড়ালেখার প্রতি ওর (রুনা) বরাবরই বেশ আগ্রহ। আগের দিন রাতে সন্তান হলেও পরের দিন পরীক্ষা দিতে চাইলে আমিও রাজি হলাম। সকালে পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে যাই। পরীক্ষাও ভালো দিয়েছে বলে জানালো।

জেলা সদরের কর্নেল মালেক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রুনা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সে বলে- আশা করি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করব। পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরি করার ইচ্ছা আছে। এ জন্য সে সবার কাছে দোয়া চেয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন