উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘অনেক’ অভিযোগ
jugantor
উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘অনেক’ অভিযোগ

  নেত্রকোনা প্রতিনিধি  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:৪৫:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

অসংখ্য অভিযোগ থাকার পরও নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন কুমারপাড়া হিলোচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়া।

তার বিরুদ্ধে স্কুল ফাঁকি দেওয়া, স্কুলে গিয়েও নানা অজুহাতে চলে যাওয়াসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম বলছেন অন্য প্রধান শিক্ষকরা।

জাতীয় শিক্ষা পদক (২০২২) উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন করা হয়। এতে কুমারপাড়া হিলোচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়া উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন।

এদিকে এ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলার দুইজন প্রধান শিক্ষক ইউএনও বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক যোগদান করেন ২০১৭ সালের নভেম্বরে। দুই মাস চাকরি করার পর বিপিএড করতে চলে যান ময়মনসিংহে। দেড় বছর পর বিপিএড শেষে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে তিনি স্কুলে যোগ দেন। এরপর প্রায় দুই বছর করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকে। করোনার বন্ধ শেষে ২০২১ সালের শেষের দিকে ফের তিনি অন্য একটি প্রশিক্ষণে চলে যান তিন মাসের জন্য। এই প্রশিক্ষণ শেষে চলতি বছরের মার্চে তিনি স্কুলে যোগদান করেন। এতে তার চাকরির বয়স প্রায় পাঁচ বছর হলেও বিদ্যালয়ে তিনি ক্লাশ নিয়েছেন মাত্র ৯ মাস।

বিদ্যালয়ের উপস্থিতি খাতা ও অন্যান্য কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, চলতি বছরের ছয় মাসের (মার্চ থেকে আগস্ট) মধ্যে ২৪ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করেন। ১৪ দিন মেডিকেল ছুটি ভোগ করেন। যদিও একজন শিক্ষকের বছরে ২০ দিন নৈমত্তিক ছুটি ভোগের বিধান রয়েছে। এছাড়া বন্যাকালীন সময় ছাড়াও অন্যান্য সময় স্কুলে না এসেও উপস্থিত খাতায় স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের মুভমেন্ট খাতায় দেখা গেছে, গত আগস্ট মাসে নানা অজুহাতে ১৩ দিন মুভমেন্ট লিখে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এখানেও একই বিষয়ে একাধিকবার মুভমেন্ট লিখেছেন তিনি। বিদ্যালয়ে না আসা ও এলেও নানা অজুহাতে চলে যাওয়ার কারণে অভিভাবকরা সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।

গত আগস্টে ৬৪ জন অভিভাবক মিলে কুমারপাড়া হিলোচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে নানা অজুহাতে স্কুল ফাঁকি দেওয়া, বিদ্যালয়ে এসেও বিভিন্ন কাজ দেখিয়ে চলে যাওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেন প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়া থাকেন ময়মনসিংহে। সেখান থেকে এসে বারহাট্টায় স্কুল করেন। সে কারণে নিয়মিত তিনি আসেন না। এছাড়া যাওয়ার সময় ট্রেন ধরার কারণে দুপুরেই নানান কারণ দেখিয়ে স্কুল থেকে চলে যান।

এ বিষয়ে জানতে বারহাট্টা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিনয় চন্দ্র শর্মাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রহুল আমিন বলেন, যথাযথভাবেই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। ইউএনও স্যার এ যাচাই বাছাইয়ে উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আছে তা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তদন্তাধীন আছে। এতে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়া বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সত্য নয়। এলাকার একটা মহল ইচ্ছা করে এর আগেও আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন; যার কোনো সত্যতা মেলেনি। এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম মাজহারুল ইসলাম বলেন, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা, ভাইভাসহ বেশ কিছু নিয়ম আছে। এসব কিছুতে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। নিয়মগুলো যথাযথভাবে মেনেই তাকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন করা হয়েছে। শিক্ষক মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে যদি স্কুল ফাঁকি দেওয়া বা আরও অন্য কোনো অভিযোগ থাকে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘অনেক’ অভিযোগ

 নেত্রকোনা প্রতিনিধি 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৪৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অসংখ্য অভিযোগ থাকার পরও নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন কুমারপাড়া হিলোচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়া। 

তার বিরুদ্ধে স্কুল ফাঁকি দেওয়া, স্কুলে গিয়েও নানা অজুহাতে চলে যাওয়াসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম বলছেন অন্য প্রধান শিক্ষকরা। 

জাতীয় শিক্ষা পদক (২০২২) উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন করা হয়। এতে কুমারপাড়া হিলোচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়া উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন।

এদিকে এ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলার দুইজন প্রধান শিক্ষক ইউএনও বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক যোগদান করেন ২০১৭ সালের নভেম্বরে। দুই মাস চাকরি করার পর বিপিএড করতে চলে যান ময়মনসিংহে। দেড় বছর পর বিপিএড শেষে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে তিনি স্কুলে যোগ দেন। এরপর প্রায় দুই বছর করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকে। করোনার বন্ধ শেষে ২০২১ সালের শেষের দিকে ফের তিনি অন্য একটি প্রশিক্ষণে চলে যান তিন মাসের জন্য। এই প্রশিক্ষণ শেষে চলতি বছরের মার্চে তিনি স্কুলে যোগদান করেন। এতে তার চাকরির বয়স প্রায় পাঁচ বছর হলেও বিদ্যালয়ে তিনি ক্লাশ নিয়েছেন মাত্র ৯ মাস।
  
বিদ্যালয়ের উপস্থিতি খাতা ও অন্যান্য কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, চলতি বছরের ছয় মাসের (মার্চ থেকে আগস্ট) মধ্যে ২৪ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করেন। ১৪ দিন মেডিকেল ছুটি ভোগ করেন। যদিও একজন শিক্ষকের বছরে ২০ দিন নৈমত্তিক ছুটি ভোগের বিধান রয়েছে। এছাড়া বন্যাকালীন সময় ছাড়াও অন্যান্য সময় স্কুলে না এসেও উপস্থিত খাতায় স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের মুভমেন্ট খাতায় দেখা গেছে, গত আগস্ট মাসে নানা অজুহাতে ১৩ দিন মুভমেন্ট লিখে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এখানেও একই বিষয়ে একাধিকবার মুভমেন্ট লিখেছেন তিনি। বিদ্যালয়ে না আসা ও এলেও নানা অজুহাতে চলে যাওয়ার কারণে অভিভাবকরা সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।

গত আগস্টে ৬৪ জন অভিভাবক মিলে কুমারপাড়া হিলোচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে নানা অজুহাতে স্কুল ফাঁকি দেওয়া, বিদ্যালয়ে এসেও বিভিন্ন কাজ দেখিয়ে চলে যাওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেন প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়া থাকেন ময়মনসিংহে। সেখান থেকে এসে বারহাট্টায় স্কুল করেন। সে কারণে নিয়মিত তিনি আসেন না। এছাড়া যাওয়ার সময় ট্রেন ধরার কারণে দুপুরেই নানান কারণ দেখিয়ে স্কুল থেকে চলে যান।

এ বিষয়ে জানতে বারহাট্টা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিনয় চন্দ্র শর্মাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। 

এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রহুল আমিন বলেন, যথাযথভাবেই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। ইউএনও স্যার এ যাচাই বাছাইয়ে উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আছে তা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তদন্তাধীন আছে। এতে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়া বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সত্য নয়। এলাকার একটা মহল ইচ্ছা করে এর আগেও আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন; যার কোনো সত্যতা মেলেনি। এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

 এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম মাজহারুল ইসলাম বলেন, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা, ভাইভাসহ বেশ কিছু নিয়ম আছে। এসব কিছুতে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। নিয়মগুলো যথাযথভাবে মেনেই তাকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন করা হয়েছে। শিক্ষক মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে যদি স্কুল ফাঁকি দেওয়া বা আরও অন্য কোনো অভিযোগ থাকে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন