যে কারণে আবারো আলোচনায় আইভী-শামীম
jugantor
যে কারণে আবারো আলোচনায় আইভী-শামীম

  রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৩৭:৩৬  |  অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে সদস্য পদে নির্বাচন নিয়ে চলছে সমঝোতার খেলা। কোনো কোনো ওয়ার্ডে ভোটারদের মাঝে মোটা অংকের টাকা বিলানো হচ্ছে বলেও গুজব চলছে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে আবারো আলোচনায় উঠে এসেছেন ক্ষমতাসীন দলের দুই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান এমপি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী।

কারণ জেলা পরিষদের ১নং ওয়ার্ড (সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড) এই দুই জনপ্রতিনিধির নির্বাচনী এলাকার মধ্যেই পড়েছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের যে ৩৬ জন কাউন্সিলর রয়েছেন তারাও স্থানীয়ভাবে শামীম ওসমান ও মেয়র আইভীপন্থি হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও ২নং ওয়ার্ডের (ফতুল্লা, সদর ও বন্দরের ১২টি ইউনিয়ন) আওতাধীন এলাকাগুলোতেও শামীম ওসমান ও তার বড়ভাই সেলিম ওসমান এমপির প্রভাব রয়েছে।

এদিকে রোববার মনোনয়নপত্র শেষ দিনে মোট ৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মতিয়ুর রহমান।

তিনি জানান, রোববার সংরক্ষিত সদস্য পদে ২নং ওয়ার্ডে কোহিনুর বেগম, সাধারণ সদস্য পদে ২নং ওয়ার্ডে রফিকুল ইসলাম, আলী নূর, রুহুল আমিন এবং ৩নং ওয়ার্ডে ফারুক হোসেন ও এনামুল হক বিদ্যুত মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে ১নং ওয়ার্ড নিয়ে। এই ওয়ার্ডের ভোটার খোদ নাসিক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীও। তাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার শহর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরের ২৭টি ওয়ার্ডের ৩৬ জন কাউন্সিলরের কাছে দিন-রাত ভোট চেয়ে ফিরছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মুজিবুর রহমান, বন্দরের আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. আলাউদ্দিন এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সায়েম রেজা।

শোনা গেছে, এই ৪ প্রার্থীর মধ্যে নাসিক মেয়র আইভী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জাহাঙ্গীর আলমকে সমর্থন দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কাউন্সিলর জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের কাছে ভোট চেয়েছেন মেয়র আইভী।

অপরদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের পক্ষে আছেন শামীম ওসমান এমপি। বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর জানিয়েছেন, মজিবুর রহমানের পক্ষে ইতোমধ্যেই ভোট চেয়ে শামীম ওসমানের বার্তা পেয়েছেন তারা।

ভোটাররা বলছেন, জাহাঙ্গীর আলম ও মুজিবুর রহমানের জয়-পরাজয় এখন প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রভাবশালী ওই দুজন প্রতিনিধির। তবে তারা বলছেন- সাবেক সদস্য আলাউদ্দিন ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সায়েম রেজা কত ভোট পাবেন বা কোন গ্রুপের ভোট কাটবেন তার ওপরই নির্ভর করছে অনেক কিছুই।

অপরদিকে ফতুল্লার ৫টি ইউনিয়ন, সদরের ২টি ইউনিয়ন ও বন্দরের ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে ২নং ওয়ার্ড থেকে সাধারণ সদস্য পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ৭ জন। এদের মধ্যে ধামগড় ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মাচুম আহমেদকে পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছেন স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান। ইতোমধ্যেই সমঝোতার খেলায় ৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

ভোটাররা বলছেন, সেলিম ওসমান এমপির পাশাপাশি এই ওয়ার্ডে প্রভাব রয়েছে শামীম ওসমান এমপিরও। তাই জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে ২ সহোদর এমপির ভূমিকাই মূল ফ্যাক্টর বলে মনে করেন তারা।

তবে এই ওয়ার্ডে ধামগড়ের সাবেক চেয়ারম্যান মাছুম আহম্মেদ এবং ফতুল্লার আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

এদিকে ৩নং ওয়ার্ড (সোনারগাঁ) থেকে সাধারণ সদস্য পদে ৬ জন মনোনয়ন জমা দিলেও সেখানেও সমঝোতার খেলায় ২ জন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই ওয়ার্ডের ভোটাররা হলেন সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান, মেম্বার ও নারী মেম্বাররা। তবে এই ওয়ার্ডের ভোটারদের মধ্যেও প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। কারণ সোনারগাঁ আসনের জাতীয় পার্টি দলীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা তাদের ঘনিষ্ঠজন। অত্র আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতও এখন শামীম ওসমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজনীতি করছেন।

এর আগে সাধারণ সদস্য পদে ২টি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করায় তারা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। তারা হলেন- ৪নং ওয়ার্ড (আড়াইহাজার) থেকে সাধারণ সদস্য পদে মিয়া মো. আলাউদ্দিন। ৫নং ওয়ার্ড (রূপগঞ্জ) থেকে সাধারণ সদস্য পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আনছার আলী।

যে কারণে আবারো আলোচনায় আইভী-শামীম

 রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৩৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে সদস্য পদে নির্বাচন নিয়ে চলছে সমঝোতার খেলা। কোনো কোনো ওয়ার্ডে ভোটারদের মাঝে মোটা অংকের টাকা বিলানো হচ্ছে বলেও গুজব চলছে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে আবারো আলোচনায় উঠে এসেছেন ক্ষমতাসীন দলের দুই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান এমপি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী।

কারণ জেলা পরিষদের ১নং ওয়ার্ড (সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড) এই দুই জনপ্রতিনিধির নির্বাচনী এলাকার মধ্যেই পড়েছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের যে ৩৬ জন কাউন্সিলর রয়েছেন তারাও স্থানীয়ভাবে শামীম ওসমান ও মেয়র আইভীপন্থি হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও ২নং ওয়ার্ডের (ফতুল্লা, সদর ও বন্দরের ১২টি ইউনিয়ন) আওতাধীন এলাকাগুলোতেও শামীম ওসমান ও তার বড়ভাই সেলিম ওসমান এমপির প্রভাব রয়েছে।

এদিকে রোববার মনোনয়নপত্র শেষ দিনে মোট ৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মতিয়ুর রহমান।

তিনি জানান, রোববার সংরক্ষিত সদস্য পদে ২নং ওয়ার্ডে কোহিনুর বেগম, সাধারণ সদস্য পদে  ২নং ওয়ার্ডে রফিকুল ইসলাম, আলী নূর, রুহুল আমিন এবং ৩নং ওয়ার্ডে ফারুক হোসেন ও এনামুল হক বিদ্যুত মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে ১নং ওয়ার্ড নিয়ে। এই ওয়ার্ডের ভোটার খোদ নাসিক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীও। তাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার শহর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরের ২৭টি ওয়ার্ডের ৩৬ জন কাউন্সিলরের কাছে দিন-রাত ভোট চেয়ে ফিরছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মুজিবুর রহমান, বন্দরের আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. আলাউদ্দিন এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সায়েম রেজা।

শোনা গেছে, এই ৪ প্রার্থীর মধ্যে নাসিক মেয়র আইভী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জাহাঙ্গীর আলমকে সমর্থন দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কাউন্সিলর জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের কাছে ভোট চেয়েছেন মেয়র আইভী।

অপরদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের পক্ষে আছেন শামীম ওসমান এমপি। বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর জানিয়েছেন, মজিবুর রহমানের পক্ষে ইতোমধ্যেই ভোট চেয়ে শামীম ওসমানের বার্তা পেয়েছেন তারা।

ভোটাররা বলছেন, জাহাঙ্গীর আলম ও মুজিবুর রহমানের জয়-পরাজয় এখন প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রভাবশালী ওই দুজন প্রতিনিধির। তবে তারা বলছেন- সাবেক সদস্য আলাউদ্দিন ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সায়েম রেজা কত ভোট পাবেন বা কোন গ্রুপের ভোট কাটবেন তার ওপরই নির্ভর করছে অনেক কিছুই।

অপরদিকে ফতুল্লার ৫টি ইউনিয়ন, সদরের ২টি ইউনিয়ন ও বন্দরের ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে ২নং ওয়ার্ড থেকে সাধারণ সদস্য পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ৭ জন। এদের মধ্যে ধামগড় ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মাচুম আহমেদকে পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছেন স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান। ইতোমধ্যেই সমঝোতার খেলায় ৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

ভোটাররা বলছেন, সেলিম ওসমান এমপির পাশাপাশি এই ওয়ার্ডে প্রভাব রয়েছে শামীম ওসমান এমপিরও। তাই জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে ২ সহোদর এমপির ভূমিকাই মূল ফ্যাক্টর বলে মনে করেন তারা।

তবে এই ওয়ার্ডে ধামগড়ের সাবেক চেয়ারম্যান মাছুম আহম্মেদ এবং ফতুল্লার আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

এদিকে ৩নং ওয়ার্ড (সোনারগাঁ) থেকে সাধারণ সদস্য পদে ৬ জন মনোনয়ন জমা দিলেও সেখানেও সমঝোতার খেলায় ২ জন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই ওয়ার্ডের ভোটাররা হলেন সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান, মেম্বার ও নারী মেম্বাররা। তবে এই ওয়ার্ডের ভোটারদের মধ্যেও প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। কারণ সোনারগাঁ আসনের জাতীয় পার্টি দলীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা তাদের ঘনিষ্ঠজন। অত্র আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতও এখন শামীম ওসমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজনীতি করছেন।

এর আগে সাধারণ সদস্য পদে ২টি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করায় তারা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। তারা হলেন- ৪নং ওয়ার্ড (আড়াইহাজার) থেকে সাধারণ সদস্য পদে মিয়া মো. আলাউদ্দিন। ৫নং ওয়ার্ড (রূপগঞ্জ) থেকে সাধারণ সদস্য পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আনছার আলী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন