মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও সভাপতির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
jugantor
মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও সভাপতির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

  বরগুনা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪:৪২:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

বরগুনার বামনা বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করা ও কর্মচারীদের কান ধরে উঠবস করানোর অভিযোগে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।

রোববার রাত ৮টায় বরগুনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহাসিন কবিরের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেন কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ বজলুল গাফফার জায়গাম আহসান।

এর আগে শনিবার বিকাল ৫টায় কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ বজলুল গাফফার জায়গাম আহসানের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত এবং কর্মচারীদের কানধরে উঠবস করানোর অভিযোগের সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকসিশ) বরগুনা জেলা কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ বজলুল গাফফার জায়গাম আহসান তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, কলেজের নিজস্ব আয়, ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফরম পূরণের ফি, প্রবেশপত্র ও প্রসংসাপত্র প্রদানে নির্ধারিত টাকার চেয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন কবির। এসব টাকা কলেজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা না করে তিনি আত্মসাৎ করেছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস) বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি লেমুয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. জিয়াউল করিম তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ বজলুল গাফফার জায়গাম আহসান নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে কলেজ চালাচ্ছেন। ইচ্ছেমতো কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক আশরাফুল হাসানকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত ও অফিস সহায়ক উজ্জ্বল হাসানকে চাকরিচ্যুত করার জন্য অধ্যক্ষকে নোটিশে উল্লেখ করে সভা ডাকার জন্য বলেন। অধ্যক্ষ মহসিন কবির বিধিবহির্ভূতভাবে এজেন্ডা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে সভাপতি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে কলেজ থেকে বের করে দেন। পরে নাসিমা বেগম নামে সহকারী অধ্যাপককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিতে বলেন। নাসিমা বেগম অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিতে রাজি হননি।

বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন কবির জানিয়েছেন, তিনি সভাপতির অবৈধ কর্মকাণ্ডের অংশীদার হতে চাননা। তাই তাকে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। আগেও একবার মহসিন কবিরকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সাগরিকা কর্মকারকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে অফিস সহায়ক রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডাকে যেতে দেরি হওয়ায় তাকে শারীরিক লাঞ্ছনাসহ ৫০ বার কান ধরে উঠবস করান।

শিক্ষক-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, তাদের একটাই দাবী। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ বজলুল গাফফার যায়গাম আহসানকে অপসারণ না করা পর্যন্ত তারা শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাবেননা।

কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ বজলুল গাফফার জায়গাম আহসান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

পাল্টা অভিযোগ করে তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ আনা হয়েছে।

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন কবির বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

তিনি বলেন, আমার ও কর্মচারীদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে।

মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও সভাপতির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

 বরগুনা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরগুনার বামনা বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করা ও কর্মচারীদের কান ধরে উঠবস করানোর অভিযোগে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।

রোববার রাত ৮টায় বরগুনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহাসিন কবিরের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেন কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ বজলুল গাফফার জায়গাম আহসান।

এর আগে শনিবার বিকাল ৫টায় কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ বজলুল গাফফার জায়গাম আহসানের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত এবং কর্মচারীদের কানধরে উঠবস করানোর অভিযোগের সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকসিশ) বরগুনা জেলা কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ বজলুল গাফফার জায়গাম আহসান তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, কলেজের নিজস্ব আয়, ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফরম পূরণের ফি, প্রবেশপত্র ও প্রসংসাপত্র প্রদানে নির্ধারিত টাকার চেয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন কবির। এসব টাকা কলেজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা না করে তিনি আত্মসাৎ করেছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস) বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি লেমুয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. জিয়াউল করিম তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ বজলুল গাফফার জায়গাম আহসান নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে কলেজ চালাচ্ছেন। ইচ্ছেমতো কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। 

গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক আশরাফুল হাসানকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত ও অফিস সহায়ক উজ্জ্বল হাসানকে চাকরিচ্যুত করার জন্য অধ্যক্ষকে নোটিশে উল্লেখ করে সভা ডাকার জন্য বলেন। অধ্যক্ষ মহসিন কবির বিধিবহির্ভূতভাবে এজেন্ডা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে সভাপতি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে কলেজ থেকে বের করে দেন। পরে নাসিমা বেগম নামে সহকারী অধ্যাপককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিতে বলেন। নাসিমা বেগম অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিতে রাজি হননি।

বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন কবির জানিয়েছেন, তিনি সভাপতির অবৈধ কর্মকাণ্ডের অংশীদার হতে চাননা। তাই তাকে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। আগেও একবার মহসিন কবিরকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সাগরিকা কর্মকারকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে অফিস সহায়ক রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডাকে যেতে দেরি হওয়ায় তাকে শারীরিক লাঞ্ছনাসহ ৫০ বার কান ধরে উঠবস করান।

শিক্ষক-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, তাদের একটাই দাবী। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ বজলুল গাফফার যায়গাম আহসানকে অপসারণ না করা পর্যন্ত তারা শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাবেননা।

কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ বজলুল গাফফার জায়গাম আহসান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। 

পাল্টা অভিযোগ করে তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ আনা হয়েছে।

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন কবির বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। 

তিনি বলেন, আমার ও কর্মচারীদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন