দুধের শিশুকে বুকে নিয়ে বেঁচে ফিরলেন মা, মেয়ে নিখোঁজ
jugantor
দুধের শিশুকে বুকে নিয়ে বেঁচে ফিরলেন মা, মেয়ে নিখোঁজ

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:৫৯:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

বিপাশা চন্দ্র (৩১) নৌকার ওঠার সময়ের কথা বলছিলেন এভাবে- নৌকাটিতে ওঠার সময় নৌকা অতিরিক্ত ভারে দুলতে থাকে। তবুও চাপাচাপি করে স্বামী, দুই সন্তান ও শাশুড়িসহ উঠেছিলাম নৌকায়। মাঝিরা কইছিল কিছুই হবে না। যাওয়া যাবে। কিন্তু দুলতে দুলতে মাঝখানে গিয়ে উল্টে গেল নৌকা। আমার বুকে বাচ্চাটা ছিল। বাম হাত দিয়ে বাচ্চাটা ধরে রাখছি আর ডান হাত দিয়ে নৌকা। পানির নিচে অনেকক্ষণ ডুবেছিলাম। তারপর আর কিছু বলতে পারি না। পরে ঘাটে এসে জ্ঞান ফিরে। আমি আর বাচ্চাটা পড়ে আছি। কে ঘাটে নিয়ে আসছে কিছু বলতে পারছি না। কিন্তু আমার মেয়েটাকে এখনো খুঁজে পাইনি। আমার মেয়ের লাশটা হলেও উদ্ধার করে দিন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন নৌকাডুবিতে বেঁচে যাওয়া বিপাশা চন্দ্র। বর্তমানে তার আট মাস বয়সী শিশুসন্তান সম্পদ রায় ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার স্বামীসহ বাকি লোকগুলোর কথা আমি বলতে পারছি না। চারপাশে শুধু ডুবে যাওয়া দেখেছি। আমি আর কিছু বলতে পারছি না।

বেঁচে যাওয়া বিপাশার স্বামী বিলাশ চন্দ্র বলেন, নৌকা ডুবে যাওয়ার পর আমি নৌকার উল্টো পাশে উঠি। ওঠার পর শুধু সবার গলা আর মুখ দেখতে পাচ্ছিলাম। আমার স্ত্রী-সন্তানকে খুঁজে পায়নি। মাকে দেখামাত্রই উদ্ধার করেছি। পরে ছেলে আর বউকে পেয়েছি। এখনো নিখোঁজ রয়েছে আমার মেয়ে।

দুধের শিশুকে বুকে নিয়ে বেঁচে ফিরলেন মা, মেয়ে নিখোঁজ

 মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৫৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিপাশা চন্দ্র (৩১) নৌকার ওঠার সময়ের কথা বলছিলেন এভাবে- নৌকাটিতে ওঠার সময় নৌকা অতিরিক্ত ভারে দুলতে থাকে। তবুও চাপাচাপি করে স্বামী, দুই সন্তান ও শাশুড়িসহ উঠেছিলাম নৌকায়। মাঝিরা কইছিল কিছুই হবে না। যাওয়া যাবে। কিন্তু দুলতে দুলতে মাঝখানে গিয়ে উল্টে গেল নৌকা। আমার বুকে বাচ্চাটা ছিল। বাম হাত দিয়ে বাচ্চাটা ধরে রাখছি আর ডান হাত দিয়ে নৌকা। পানির নিচে অনেকক্ষণ ডুবেছিলাম। তারপর আর কিছু বলতে পারি না। পরে ঘাটে এসে জ্ঞান ফিরে। আমি আর বাচ্চাটা পড়ে আছি। কে ঘাটে নিয়ে আসছে কিছু বলতে পারছি না। কিন্তু আমার মেয়েটাকে এখনো খুঁজে পাইনি। আমার মেয়ের লাশটা হলেও উদ্ধার করে দিন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন নৌকাডুবিতে বেঁচে যাওয়া বিপাশা চন্দ্র। বর্তমানে তার আট মাস বয়সী শিশুসন্তান সম্পদ রায় ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার স্বামীসহ বাকি লোকগুলোর কথা আমি বলতে পারছি না। চারপাশে শুধু ডুবে যাওয়া দেখেছি। আমি আর কিছু বলতে পারছি না। 

বেঁচে যাওয়া বিপাশার স্বামী বিলাশ চন্দ্র বলেন, নৌকা ডুবে যাওয়ার পর আমি নৌকার উল্টো পাশে উঠি। ওঠার পর শুধু সবার গলা আর মুখ দেখতে পাচ্ছিলাম। আমার স্ত্রী-সন্তানকে খুঁজে পায়নি। মাকে দেখামাত্রই উদ্ধার করেছি। পরে ছেলে আর বউকে পেয়েছি। এখনো নিখোঁজ রয়েছে আমার মেয়ে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন