‘মডেল খুঁজতে জাপান-জার্মানি যেতে হবে না’
jugantor
‘মডেল খুঁজতে জাপান-জার্মানি যেতে হবে না’

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২১:২১:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, আমরা জাপান, জার্মানিদের নিয়ে গল্প করি যে তারা ঘড়ির কাঁটায় চলে। ঘড়ির কাঁটায় আমাদের দেশেও কেউ কেউ চলে, শেখ হাসিনা চলেন। আমরা মডেল কেন অন্যত্র খুঁজব? মডেল খোঁজার জন্য জাপানে কিংবা জার্মানিতে যেতে হবে না, আমাদেরই মডেল আছে।

বুধবার বেলা ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে প্রধানমন্ত্রীর ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ‘শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের উন্নয়ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

আলোচনা সভার শুরুতে জাতীয় সঙ্গীতসহ আরও কয়েকটি সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বর্তমান প্রজন্মকে প্রধানমন্ত্রীর ন্যায় সময়ানুবর্তী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনশ থেকে চারশ মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছি, একটি মিটিংয়েও তিনি দেরিতে আসেননি। মাঝে মাঝে বাধ্য হয়ে সরকারি কাজে দেরি করতে হয়। এক্ষেত্রে দুদিন আগেই ওনার অফিস থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়। আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করার জন্য বর্তমান প্রজন্মের প্রতি আহ্বান করছি।

রাজশাহী শহরের সৌন্দর্য্যের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে আমরা আরও বিনিয়োগ করব। রাজশাহী শহরকে আমরা আরও মনোরম করব। এসময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে নগরীর নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা তৈরি করার কথা বলেন এবং এজন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বলেন, ৮০’র দশকে যখন দেশের মানুষ কোথায় যাবে, কার কাছে আশ্রয় নিবে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মধ্যে একটু ছাড়া ছাড়া ভাব- সেই মুহূর্তে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হলো এবং তিনি দিল্লি থেকে দেশে ফিরে এলেন। দেশে এসে গণতন্ত্রের পথে তিনি তার অভিযাত্রা শুরু করলেন। যাত্রাপথে কখনও ট্রেনযোগে সারাদেশ, কখনও নৌপথে, সড়কপথে বা পায়ে হেঁটে সারাদেশের মানুষের মাঝে উপস্থিত হতে শুরু করলেন।

মেয়র বলেন, আমার জানা মতে বাংলাদেশে এমন কোনো উপজেলা নেই যে উপজেলায় শেখ হাসিনা যাননি। ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পূর্বেই আশির দশকেই তিনি এই কাজটি করে ফেলেছিলেন। সেই কারণেই বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যারা অসহায়ত্ব বোধ করছিলেন, তারা তাদের সামনে আশার আলো দেখতে পায়। যার ফলশ্রুতিতে ৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খালেদা জিয়া তার ‘ভুয়া’ নির্বাচনকে বাতিল করতে বাধ্য হয় এবং জুন মাসে যে নির্বাচন হয় সে নির্বাচনে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন।

মেয়র আরও বলেন, মোদ্দা কথায় বলতে পারি শেখ হাসিনা সেই যে গ্রামেগঞ্জে ঘুরেছিলেন, তখন হয়ত কোনো সার্কিটহাউজে বা ডাক-বাংলোতে তিনি থাকতেন। তিনি কোনো হোটেলে রাত্রি যাপন করেননি। এসব জায়গায় থাকার সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষগুলো নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। নেত্রী তাদের কথাগুলো শুনতেন এবং লিখে রাখতেন। সেগুলোই এখন বাস্তবায়িত হয়ে আমাদের দেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশ হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রী একজন সত্য, ন্যায়কামী এবং সৌন্দর্য পিপাসু মনের হার না মানা দুর্দমনীয় এক ব্যক্তিত্ব। ১৯৭৫ পরবর্তীতে যিনি বাংলাদেশে রেনেসাঁর সূচনা করেছেন, তিনিই হলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উপাচার্য বলেন, ৩৪ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী শুধু আওয়ামী লীগেরই হাল ধরেননি, তিনি বাংলাদেশেরও হাল ধরেছেন এবং আজকের বাংলাদেশের যে উন্নতি এটি তারই একটি বড় প্রতিশ্রুতি। ১৯৮১ সালে এক অপূরণীয় ক্ষত, যন্ত্রণা নিয়ে এদেশে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এদেশে যে শোক নিয়ে তিনি এসেছিলেন, সে শোককে তিনি শক্তিতে পরিণত করেছিলেন। যে শক্তির মধ্যে ছিল এক কল্যাণকামী রাষ্ট্রের স্বপ্ন, এক কল্যাণকামী রাষ্ট্রের দর্শন এবং যেটা তিনি বাস্তবায়িত করেছেন। যতদিন থাকবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেশ, ততদিন পথ হারাবে না বাংলাদেশ।

এছাড়া আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালামের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান প্রামাণিক এবং রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল।

এর আগে বুধবার সকাল ৯টায় বিমানযোগে একদিনের সফরে রাজশাহীতে আসেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। মন্ত্রী এদিন সকাল সাড়ে দশটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে মন্ত্রী রাবির কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও শহিদ অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং সকাল পৌনে ১১টায় তিনি শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবন চত্বরে বৃক্ষ রোপণ করেন।

‘মডেল খুঁজতে জাপান-জার্মানি যেতে হবে না’

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:২১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, আমরা জাপান, জার্মানিদের নিয়ে গল্প করি যে তারা ঘড়ির কাঁটায় চলে। ঘড়ির কাঁটায় আমাদের দেশেও কেউ কেউ চলে, শেখ হাসিনা চলেন। আমরা মডেল কেন অন্যত্র খুঁজব? মডেল খোঁজার জন্য জাপানে কিংবা জার্মানিতে যেতে হবে না, আমাদেরই মডেল আছে।

বুধবার বেলা ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে প্রধানমন্ত্রীর ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ‘শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের উন্নয়ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

আলোচনা সভার শুরুতে জাতীয় সঙ্গীতসহ আরও কয়েকটি সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বর্তমান প্রজন্মকে প্রধানমন্ত্রীর ন্যায় সময়ানুবর্তী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনশ থেকে চারশ মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছি, একটি মিটিংয়েও তিনি দেরিতে আসেননি। মাঝে মাঝে বাধ্য হয়ে সরকারি কাজে দেরি করতে হয়। এক্ষেত্রে দুদিন আগেই ওনার অফিস থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়। আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করার জন্য বর্তমান প্রজন্মের প্রতি আহ্বান করছি।

রাজশাহী শহরের সৌন্দর্য্যের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে আমরা আরও বিনিয়োগ করব। রাজশাহী শহরকে আমরা আরও মনোরম করব। এসময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে নগরীর নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা তৈরি করার কথা বলেন এবং এজন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বলেন, ৮০’র দশকে যখন দেশের মানুষ কোথায় যাবে, কার কাছে আশ্রয় নিবে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মধ্যে একটু ছাড়া ছাড়া ভাব- সেই মুহূর্তে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হলো এবং তিনি দিল্লি থেকে দেশে ফিরে এলেন। দেশে এসে গণতন্ত্রের পথে তিনি তার অভিযাত্রা শুরু করলেন। যাত্রাপথে কখনও ট্রেনযোগে সারাদেশ, কখনও নৌপথে, সড়কপথে বা পায়ে হেঁটে সারাদেশের মানুষের মাঝে উপস্থিত হতে শুরু করলেন।

মেয়র বলেন, আমার জানা মতে বাংলাদেশে এমন কোনো উপজেলা নেই যে উপজেলায় শেখ হাসিনা যাননি। ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পূর্বেই আশির দশকেই তিনি এই কাজটি করে ফেলেছিলেন। সেই কারণেই বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যারা অসহায়ত্ব বোধ করছিলেন, তারা তাদের সামনে আশার আলো দেখতে পায়। যার ফলশ্রুতিতে ৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খালেদা জিয়া তার ‘ভুয়া’ নির্বাচনকে বাতিল করতে বাধ্য হয় এবং জুন মাসে যে নির্বাচন হয় সে নির্বাচনে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন।

মেয়র আরও বলেন, মোদ্দা কথায় বলতে পারি শেখ হাসিনা সেই যে গ্রামেগঞ্জে ঘুরেছিলেন, তখন হয়ত কোনো সার্কিটহাউজে বা ডাক-বাংলোতে তিনি থাকতেন। তিনি কোনো হোটেলে রাত্রি যাপন করেননি। এসব জায়গায় থাকার সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষগুলো নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। নেত্রী তাদের কথাগুলো শুনতেন এবং লিখে রাখতেন। সেগুলোই এখন বাস্তবায়িত হয়ে আমাদের দেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশ হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রী একজন সত্য, ন্যায়কামী এবং সৌন্দর্য পিপাসু মনের হার না মানা দুর্দমনীয় এক ব্যক্তিত্ব। ১৯৭৫ পরবর্তীতে যিনি বাংলাদেশে রেনেসাঁর সূচনা করেছেন, তিনিই হলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উপাচার্য বলেন, ৩৪ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী শুধু আওয়ামী লীগেরই হাল ধরেননি, তিনি বাংলাদেশেরও হাল ধরেছেন এবং আজকের বাংলাদেশের যে উন্নতি এটি তারই একটি বড় প্রতিশ্রুতি। ১৯৮১ সালে এক অপূরণীয় ক্ষত, যন্ত্রণা নিয়ে এদেশে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এদেশে যে শোক নিয়ে তিনি এসেছিলেন, সে শোককে তিনি শক্তিতে পরিণত করেছিলেন। যে শক্তির মধ্যে ছিল এক কল্যাণকামী রাষ্ট্রের স্বপ্ন, এক কল্যাণকামী রাষ্ট্রের দর্শন এবং যেটা তিনি বাস্তবায়িত করেছেন। যতদিন থাকবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেশ, ততদিন পথ হারাবে না বাংলাদেশ।

এছাড়া আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালামের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান প্রামাণিক এবং রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল।

এর আগে বুধবার সকাল ৯টায় বিমানযোগে একদিনের সফরে রাজশাহীতে আসেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। মন্ত্রী এদিন সকাল সাড়ে দশটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে মন্ত্রী রাবির কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও শহিদ অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং সকাল পৌনে ১১টায় তিনি শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবন চত্বরে বৃক্ষ রোপণ করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন