শুরু হচ্ছে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি
jugantor
শুরু হচ্ছে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি

  আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী)  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:০৬:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীর বাঘায় শুরু হচ্ছে আগাম মিষ্টি খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষ খেজুর গাছ। গ্রামীণ জীবনের প্রাত্যহিক উৎসব শুরু হতে যাচ্ছে খেজুর গাছকে ঘিরে।

শীত এগিয়ে আসছে। অযত্ন ও অবহেলায় বেড়ে উঠা খেজুর গাছের কদরও বাড়ে শীত এলেই। খেজুর গাছ সুমিষ্ট রস দেয়। রস থেকে তৈরি হয় গুড় ও পাটালি। যার সাদ ও ঘ্রাণ আলাদা। পুরো শীত মৌসুমে চলে পিঠা-পুলি আর পায়েস খাওয়ার পালা।

বাঘা উপজেলা কৃষি অফিস ও বিশেষ তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে প্রায় ২৫ হাজার কৃষি পরিবার রয়েছে। দুই হাজার খেজুরের বাগান রয়েছে। সড়ক পথ, রেল লাইনের ধার, পতিত জমি, জমির আইল ও বাড়ির আঙ্গিনায় রয়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক খেজুর গাছ। একজন ব্যক্তি প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫টি খেজুর গাছের রস আহরণ করতে পারে। এ রকম আড়াই হাজার ব্যক্তি প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মৌসুমিভিত্তিক আড়াই হাজার পরিবার খেজুর গাছের উপর নির্ভরশীল। একজন গাছি এক মৌসুমে অর্থাৎ ১২০ দিনে একটি গাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ কেজি গুড় পেয়ে থাকেন।

খেজুর গাছ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না। এ গাছের জন্য বাড়তি কোন খরচ করতে হয় না। ঝোপ-জঙ্গলে কোনো যত্ন ছাড়াই বড় গয়ে ওঠে। শুধুমাত্র মৌসুম এলেই নিয়মিত গাছ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহ করা হয়। রস, গুড়, পাটালি ছাড়াও খেজুর গাছের পাতা দিয়ে মাদুর তৈরি ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়।

পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ বৃদ্ধি করা হলে দেশের গুড় পাটালির চাহিদা মেটানোর পর বিদেশেও রপ্তানি করা হলে অর্থ উপার্জন করার সুযোগ রয়েছে।

বাঘার পদ্মার চকরাজাপুর চরের গাছি আবুল হোসেন জানান, চর এলাকায় কোনো খেজুর গাছ নেই। শীত মৌসুমে আমরা আড়ানী, বাঘা, মনিগ্রাম, গড়গড়ি, পাকুড়িয়া, বাউসা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এসে তিন থেকে চার মাসের জন্য খেজুর গাছ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় চুক্তি নিয়ে রস সংগ্রহ করি। এগুলো গুড় তৈরি করে হাট বাজারে বিক্রি করি। এবার ১২০টি গাছ চুক্তি নিয়েছি। এ গাছগুলো আমরা দুইজনে রস সংগ্রহ করব। সংসারে ছয় সদস্যের পরিবার। এর উপর ৩-৪ মাস ভাল ভাবে চলবে। অন্য সময়ে অন্যের জমিতে কাজ করি। কাজ না থাকলে শহরে রিকশা চালিয়ে সংসার চালায়।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, শুধু সরকারি ভাবেই না, আমরা কৃষকদের মাঝে খেজুর গাছ লাগানো জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। যা কৃষকদের মাঝে রস ও গুড়ের চাহিদা মিটাবে। এছাড়া আখের পাতা ও গমের কোড়া সংগ্রহ করার পরামর্শ দিয়ে থাকি যেন, গুড় তৈরিতে সহজ হয়। এছাড়া এ মৌসুমে রাস্তার ধারে খেজুর গাছ রোপণ করা হয়েছে। কৃষকরাও নিজ নিজ পতিত জমিতে গাছ লাগাই তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে ব্যাপক অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

শুরু হচ্ছে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি

 আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী) 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীর বাঘায় শুরু হচ্ছে আগাম মিষ্টি খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষ খেজুর গাছ। গ্রামীণ জীবনের প্রাত্যহিক উৎসব শুরু হতে যাচ্ছে খেজুর গাছকে ঘিরে।

শীত এগিয়ে আসছে। অযত্ন ও অবহেলায় বেড়ে উঠা খেজুর গাছের কদরও বাড়ে শীত এলেই। খেজুর গাছ সুমিষ্ট রস দেয়। রস থেকে তৈরি হয় গুড় ও পাটালি। যার সাদ ও ঘ্রাণ আলাদা। পুরো শীত মৌসুমে চলে পিঠা-পুলি আর পায়েস খাওয়ার পালা।

বাঘা উপজেলা কৃষি অফিস ও বিশেষ তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে প্রায় ২৫ হাজার কৃষি পরিবার রয়েছে। দুই হাজার খেজুরের বাগান রয়েছে। সড়ক পথ, রেল লাইনের ধার, পতিত জমি, জমির আইল ও বাড়ির আঙ্গিনায় রয়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক খেজুর গাছ। একজন ব্যক্তি প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫টি খেজুর গাছের রস আহরণ করতে পারে। এ রকম আড়াই হাজার ব্যক্তি প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মৌসুমিভিত্তিক আড়াই হাজার পরিবার খেজুর গাছের উপর নির্ভরশীল। একজন গাছি এক মৌসুমে অর্থাৎ ১২০ দিনে একটি গাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ কেজি গুড় পেয়ে থাকেন।

খেজুর গাছ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না। এ গাছের জন্য বাড়তি কোন খরচ করতে হয় না। ঝোপ-জঙ্গলে কোনো যত্ন ছাড়াই বড় গয়ে ওঠে। শুধুমাত্র মৌসুম এলেই নিয়মিত গাছ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহ করা হয়। রস, গুড়, পাটালি ছাড়াও খেজুর গাছের পাতা দিয়ে মাদুর তৈরি ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়।

পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ বৃদ্ধি করা হলে দেশের গুড় পাটালির চাহিদা মেটানোর পর বিদেশেও রপ্তানি করা হলে অর্থ উপার্জন করার সুযোগ রয়েছে।

বাঘার পদ্মার চকরাজাপুর চরের গাছি আবুল হোসেন জানান, চর এলাকায় কোনো খেজুর গাছ নেই। শীত মৌসুমে আমরা আড়ানী, বাঘা, মনিগ্রাম, গড়গড়ি, পাকুড়িয়া, বাউসা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এসে তিন থেকে চার মাসের জন্য খেজুর গাছ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় চুক্তি নিয়ে রস সংগ্রহ করি। এগুলো গুড় তৈরি করে হাট বাজারে বিক্রি করি। এবার ১২০টি গাছ চুক্তি নিয়েছি। এ গাছগুলো আমরা দুইজনে রস সংগ্রহ করব। সংসারে ছয় সদস্যের পরিবার। এর উপর ৩-৪ মাস ভাল ভাবে চলবে। অন্য সময়ে অন্যের জমিতে কাজ করি। কাজ না থাকলে শহরে রিকশা চালিয়ে সংসার চালায়।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, শুধু সরকারি ভাবেই না, আমরা কৃষকদের মাঝে খেজুর গাছ লাগানো জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। যা কৃষকদের মাঝে রস ও গুড়ের চাহিদা মিটাবে। এছাড়া আখের পাতা ও গমের কোড়া সংগ্রহ করার পরামর্শ দিয়ে থাকি যেন, গুড় তৈরিতে সহজ হয়। এছাড়া এ মৌসুমে রাস্তার ধারে খেজুর গাছ রোপণ করা হয়েছে। কৃষকরাও নিজ নিজ পতিত জমিতে গাছ লাগাই তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে ব্যাপক অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন