আহাজারি থামছে না অর্পিতার, হারিয়েছে ৫ স্বজনকে
jugantor
আহাজারি থামছে না অর্পিতার, হারিয়েছে ৫ স্বজনকে

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:২২:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে নানা আনন্দ ভরা স্বপ্ন ছিল অর্পিতার (১৭)। নতুন কাপড় আর সবচেয়ে পূজামণ্ডপ ঘোরার স্বপ্নে বিভোর ছিল। সে স্বপ্নের শুরুটা হয়েছিল মহালয়া দিয়ে।

সকাল থেকে সেজেগুজে দুপুরে মা, তিন বোন, কাকি ও দুই ভাগ্নিসহ যায় আউলিয়া ঘাটে যান। কিছুদূর যাওয়ার পর ডুবে যায় নৌকাটি। এ ঘটনায় অর্পিতা ও তার বড় বোন আলো রানী ফিরলেও হারাতে হয়েছে ৫ স্বজনকে।

পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আরাজি শিকারপুর গ্রামের হেমন্ত রায়ের মেয়ে অর্পিতা (১৭)। অর্পিতা কালিয়াগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। বোনসহ বেঁচে ফিরলেও লাশ হয়েছে পরিবারের চার সদস্য। এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছে।

বুধবার সকালে অর্পিতাদের বাসায় তাদের শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান হয়েছে। বাড়িজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না অর্পিতার আহাজারি। অপরদিকে স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে দিশেহারা হেমন্ত রায়।

হেমন্ত রায় বলেন, মহালয়া দিয়ে আমাদের শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। এই শুরুটা যে এবার সারা জীবনের জন্য শেষ হয়ে যাবে কখনো ভাবিনি। আজ আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। আমার সব শেষ হয়ে গেল। মহালয়া দেখতে আমার স্ত্রী কবিতা রানী (৫০), বড় মেয়ে আলো রানী(২২), মেজ মেয়ে অর্পিতা (১৯), ছোট মেয়ে শ্যামলী রানী (১১), ছোট ভাই বাসুদেবের স্ত্রী রুপালী (৩০), তার মেয়ে নন্দিনী (৮), নাতনি জয়া (৪) ও দেড় বছরের জ্যোতি রানী যায়। নদী পার হতে গিয়ে সব শেষ হয়ে গেল। এতে আমার দুই মেয়ে ও এক ভাতিজি বেঁচে ফিরলেও লাশ হয়ে ফিরেছে চারজন। এখনো নিখোঁজ রয়েছে নাতনি জয়া রানী।

তিনি বলেন, এমন শোক আর কারও পরিবারে যেন না আসে।

আহাজারি থামছে না অর্পিতার, হারিয়েছে ৫ স্বজনকে

 মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:২২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে নানা আনন্দ ভরা স্বপ্ন ছিল অর্পিতার (১৭)। নতুন কাপড় আর সবচেয়ে পূজামণ্ডপ ঘোরার স্বপ্নে বিভোর ছিল। সে স্বপ্নের শুরুটা হয়েছিল মহালয়া দিয়ে।

সকাল থেকে সেজেগুজে দুপুরে মা, তিন বোন, কাকি ও দুই ভাগ্নিসহ যায় আউলিয়া ঘাটে যান। কিছুদূর যাওয়ার পর ডুবে যায় নৌকাটি। এ ঘটনায় অর্পিতা ও তার বড় বোন আলো রানী ফিরলেও হারাতে হয়েছে ৫ স্বজনকে। 

পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আরাজি শিকারপুর গ্রামের হেমন্ত রায়ের মেয়ে অর্পিতা (১৭)। অর্পিতা কালিয়াগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। বোনসহ বেঁচে ফিরলেও লাশ হয়েছে পরিবারের চার সদস্য। এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছে।

বুধবার সকালে অর্পিতাদের বাসায় তাদের শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান হয়েছে। বাড়িজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না অর্পিতার আহাজারি। অপরদিকে স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে দিশেহারা হেমন্ত রায়। 

হেমন্ত রায় বলেন, মহালয়া দিয়ে আমাদের শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। এই শুরুটা যে এবার সারা জীবনের জন্য শেষ  হয়ে যাবে কখনো ভাবিনি। আজ আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। আমার সব শেষ হয়ে গেল। মহালয়া দেখতে আমার স্ত্রী কবিতা রানী (৫০), বড়  মেয়ে আলো রানী(২২), মেজ মেয়ে অর্পিতা (১৯), ছোট মেয়ে শ্যামলী রানী (১১), ছোট ভাই বাসুদেবের স্ত্রী রুপালী (৩০), তার মেয়ে নন্দিনী (৮), নাতনি জয়া (৪) ও দেড় বছরের জ্যোতি রানী যায়। নদী পার হতে গিয়ে সব শেষ হয়ে গেল। এতে আমার দুই মেয়ে ও এক ভাতিজি বেঁচে ফিরলেও লাশ হয়ে ফিরেছে চারজন। এখনো নিখোঁজ রয়েছে নাতনি জয়া রানী।

তিনি বলেন, এমন শোক আর কারও পরিবারে যেন না আসে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন