সীমান্ত দিয়ে অবাধে আসছে গরু, বিপাকে দেশিয় খামারিরা
jugantor
সীমান্ত দিয়ে অবাধে আসছে গরু, বিপাকে দেশিয় খামারিরা

  জাহাঙ্গীর আলম কাজল, নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান)  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:২৩:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশীয় খামারিদের উন্নয়নে সরকার মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির চলমান সংঘাতের সুযোগ নিয়ে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে গরু চোরাকারবারিরা।

চোরাই পথে গরু প্রবেশ করায় ব্যাপক সংকটের মুখে পড়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও রামুর গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, ঈদগড়ের দেশিয় খামারিরা। নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামু উপজেলার বাইশারী ও গর্জনীয়ার বাজারগুলো হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বড় গরুর হাট। কিন্তু চোরাই হয়ে আসা অধিকাংশ গরু এই বাজার গুলোতে উঠানো হচ্ছে। এতে হঠাৎ গরুর দরপতন হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি বাজারে স্থানীয় খামারি মো. আইয়ুব বলেন, আমি দুটি গরু তুলেছি। দুটি গরু পাইকারি দাম হাঁকিয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। অথচ এই দুই গরুর স্বাভাবিক এক লাখ ৬০ হাজারের উপরে থাকে। চোরাই পথে আসা গরুগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে কম দামে পাচ্ছে। তাই স্থানীয় গরু বিক্রি কমে গেছে। একই কথা জানিয়েছেন অনেক স্থানীয় খামারিরা।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নাইক্ষ্যংছড়ির পাঁচটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে গরু আনছে এ চক্রগুলো। চক্রগুলো সংঘাত শুরুর পর থেকে অবাধে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসছে চোরাই গরু। প্রতিদিন তিন’শ থেকে চার’শ চোরাই গরু আসছে বাংলাদেশে। এসব চোরাই গরু আসায় স্থানীয় খামারিরা চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মিয়ানমারে সংঘাত শুরু হওয়ার পর গত দেড়মাস ধরে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের, ফুলতলী, লম্বাশিয়া, ভাল্লুক খাইয়া, চাকঢালা ও দৌছড়ির পয়েন্টের চোরাই পথ দিয়ে বাংলাদেশে অবৈভাবে গরু প্রবেশ শুরু হয়। প্রতিদিন অবাধে ঢুকেছে শত শত গরু। দৈনিক তিন’শ থেকে চার’শ গরু ঢুকেছে। এভাবে গত দেড় মাসে অন্তত অর্ধলক্ষাধিক গরু ঢোকানো হয়েছে।

ফুলতলী এলাকার বাসিন্দা তাহের জানান, সন্ধ্যা নামলেই চোরাই গরু ঢোকানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। রাস্তাঘাটে লোকজন কমে গেলে এশার নামাজের পর থেকে এপারে নিয়ে আসা হয় গরুর পাল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১১ বিজিবির জোন কমান্ডার ও অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. রেজাউল করিম জানান, সীমান্তের ফুলতলী, পয়েন্টের লাম্বাশিয়া, দোছড়ি, ভাল্লুক খাইয়া থেকে চোরাই পথে আনা মিয়ানমারের অসংখ্য গরু জব্দ করে কাস্টমসে জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি অস্ত্র, ইয়াবা, সন্ত্রাস বিরোধী কার্যক্রম ও চোরাই পথে আনা মিয়ানমারের গরুসহ সব ধরনের পণ্য আটকে আগের চেয়ে সীমান্তে বিজিবি আরও বেশি তৎপর আছে ও থাকবে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা ফেরদৌস বলেন, সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে গরু প্রবেশে আমরা কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি। গরু চোরা চালান বন্ধের জন্য বিজিবি কঠোর সতর্ক আছে। অবৈধ ভাবে গরু প্রবেশ বন্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সীমান্ত দিয়ে অবাধে আসছে গরু, বিপাকে দেশিয় খামারিরা

 জাহাঙ্গীর আলম কাজল, নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:২৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশীয় খামারিদের উন্নয়নে সরকার মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির চলমান সংঘাতের সুযোগ নিয়ে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে গরু চোরাকারবারিরা। 

চোরাই পথে গরু প্রবেশ করায় ব্যাপক সংকটের মুখে পড়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও রামুর গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, ঈদগড়ের দেশিয় খামারিরা। নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামু উপজেলার বাইশারী ও গর্জনীয়ার বাজারগুলো হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বড় গরুর হাট। কিন্তু চোরাই হয়ে আসা অধিকাংশ গরু এই বাজার গুলোতে উঠানো হচ্ছে। এতে হঠাৎ গরুর দরপতন হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি বাজারে স্থানীয় খামারি মো. আইয়ুব বলেন, আমি দুটি গরু তুলেছি। দুটি গরু পাইকারি দাম হাঁকিয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। অথচ এই দুই গরুর স্বাভাবিক এক লাখ ৬০ হাজারের উপরে থাকে। চোরাই পথে আসা গরুগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে কম দামে পাচ্ছে। তাই স্থানীয় গরু বিক্রি কমে গেছে। একই কথা জানিয়েছেন অনেক স্থানীয় খামারিরা।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নাইক্ষ্যংছড়ির পাঁচটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে গরু আনছে এ চক্রগুলো। চক্রগুলো সংঘাত শুরুর পর থেকে অবাধে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসছে চোরাই গরু। প্রতিদিন তিন’শ থেকে চার’শ চোরাই গরু আসছে বাংলাদেশে। এসব চোরাই গরু আসায় স্থানীয় খামারিরা চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। 
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মিয়ানমারে সংঘাত শুরু হওয়ার পর গত দেড়মাস ধরে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের, ফুলতলী, লম্বাশিয়া, ভাল্লুক খাইয়া, চাকঢালা ও দৌছড়ির পয়েন্টের চোরাই পথ দিয়ে বাংলাদেশে অবৈভাবে গরু প্রবেশ শুরু হয়। প্রতিদিন অবাধে ঢুকেছে শত শত গরু। দৈনিক তিন’শ থেকে চার’শ গরু ঢুকেছে। এভাবে গত দেড় মাসে অন্তত অর্ধলক্ষাধিক গরু ঢোকানো হয়েছে।

ফুলতলী এলাকার বাসিন্দা তাহের জানান, সন্ধ্যা নামলেই চোরাই গরু ঢোকানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। রাস্তাঘাটে লোকজন কমে গেলে এশার নামাজের পর থেকে এপারে নিয়ে আসা হয় গরুর পাল। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১১ বিজিবির জোন কমান্ডার ও অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. রেজাউল করিম জানান, সীমান্তের ফুলতলী, পয়েন্টের লাম্বাশিয়া, দোছড়ি, ভাল্লুক খাইয়া থেকে চোরাই পথে আনা মিয়ানমারের অসংখ্য গরু জব্দ করে কাস্টমসে জমা দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি অস্ত্র, ইয়াবা, সন্ত্রাস বিরোধী কার্যক্রম ও চোরাই পথে আনা মিয়ানমারের গরুসহ সব ধরনের পণ্য আটকে আগের চেয়ে সীমান্তে বিজিবি আরও বেশি তৎপর আছে ও থাকবে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা ফেরদৌস বলেন, সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে গরু প্রবেশে আমরা কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি। গরু চোরা চালান বন্ধের জন্য বিজিবি কঠোর সতর্ক আছে। অবৈধ ভাবে গরু প্রবেশ বন্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন