পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন করছেন গালিব
jugantor
পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন করছেন গালিব

  ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি  

০১ অক্টোবর ২০২২, ১৫:১১:১৬  |  অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন করে বাজারজাত করছেন ইউসুফ আহমেদ গালিব।

এতে একদিকে যেমন কিছুটা হলেও জ্বালানি তেল সংকট দূর হবে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ ক্ষতিকর পলিথিন থেকে জনস্বাস্থ্য কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডের সেপকো কোম্পানির সঙ্গে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে ভৈরবের ইউসুফ আহমেদ গালিব পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে কীভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি তেল উৎপাদন করা যায়, সে সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে টেকনিক্যাল সাপোর্ট ও প্রশিক্ষণ নেন।

পরে ওই বছরই সেপকো কোম্পানির কাছ থেকে প্যাটার্ন সংগ্রহ করে ভৈরব পৌর শহরের পলতাকান্দায় পরীক্ষামূলকভাবে পেট্রোলিয়াম কারখানা গড়ে তোলেন তিনি।

২০২০ সালে কারখানাটি উৎপাদনে আসে। শহরের পরিত্যক্ত পলিথিন সংগ্রহ করে মেশিনে ছোট ছোট করে তারপর সেগুলোকে চুল্লির মাধ্যমে আগুনে তাপ দিয়ে ৩ ধরনের জ্বালানি তেল তৈরি করে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন ১২০ কেজি পলিথিন থেকে ৭০ লিটার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল তৈরি করে বিক্রি করছেন তিনি।

এখানকার উৎপাদিত জ্বালানি তেল মান সম্মত বা ব্যবহার উপযোগী কি না তা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ ২০১৯ সালে (বিসিএসআইআর) পরীক্ষা করে জ্বালানি তেল উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে।

বর্তমানে এ কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ৬০/৭০ লিটার জ্বালানি তেল উৎপাদন করে কম দামে বিক্রি করছেন। এতে করে উৎপাদন খরচ বাদে প্রতিমাসে আয় হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা। কারখানাটিতে ৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। জ্বালানী তেলের চাহিদা থাকায় কারখানাটিকে আরও বড় পরিসরে গড়ে তুলতে চান তরুণ উদ্যোক্তা গালিব।

তার এ কারখানার উৎপাদন দেখতে ও পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের পরামর্শ নিতে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই ছুটে আসছেন। তারাও এ ধরনের কারখানা গড়ে তোলার আগ্রহের কথা জানান।

মোহাম্মদ আলী নামের এক যুবক এসেছেন ময়মনসিংহ থেকে। পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে কিভাবে জ্বালানি তেল উৎপাদন করা যায় তা নিজ চোখে দেখতে। তিনি এখান থেকে জ্বালানি তেল ক্রয় করে ব্যবসার পাশাপাশি এ ধরনের কারখানা করার পরিকল্পনার কথা জানান।

মাসুদ রানা এসেছেন কটিয়াদী থেকে। তিনি প্রতিমাসে একবার আসেন মোটরসাইকেলে অকটেন ভরতে। তিনি জানান, পেট্রোলপাম্প থেকে লিটারে ১০ টাকা কম পান। ১০ লিটার তেলে ১শত টাকা কম লাগে। এখানে উৎপাদিত জ্বালানি তেল মানসম্মত। মোটরসাইকেলে কোনো সমস্যা হয় না।

এলাকাবাসী জানান, আমরা পলিথিন ফেলে দেই। সেই ফেলে দেওয়া পলিথিন সংগ্রহ করে গালিব জ্বালানি তেল উৎপাদন করছে। সরকারের উচিত তাকে সহযোগিতা করা।

তরুণ উদ্যোক্তা ইউসুফ আহমেদ গালিব জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বা সহযোগিতা পেলে তিনি বড় কারখানা গড়ে তুলবেন। এতে জ্বালানি তেলের সংকট কিছুটা হলেও কমবে। এ ছাড়া অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, পরিবেশ বাঁচবে। তাই সরকার যেন এ ধরনের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তেল তৈরি করতে সহযোগিতা করেন এমনটাই দাবি তার।

পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন করছেন গালিব

 ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 
০১ অক্টোবর ২০২২, ০৩:১১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন করে বাজারজাত করছেন ইউসুফ আহমেদ গালিব।

এতে একদিকে যেমন কিছুটা হলেও জ্বালানি তেল সংকট দূর হবে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ ক্ষতিকর পলিথিন থেকে জনস্বাস্থ্য কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে। 

জানা গেছে, ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডের সেপকো কোম্পানির সঙ্গে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে ভৈরবের ইউসুফ আহমেদ গালিব পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে কীভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি তেল উৎপাদন করা যায়, সে সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে টেকনিক্যাল সাপোর্ট ও প্রশিক্ষণ নেন। 

পরে ওই বছরই সেপকো কোম্পানির কাছ থেকে প্যাটার্ন সংগ্রহ করে ভৈরব পৌর শহরের পলতাকান্দায় পরীক্ষামূলকভাবে পেট্রোলিয়াম কারখানা গড়ে তোলেন তিনি। 

২০২০ সালে কারখানাটি উৎপাদনে আসে। শহরের পরিত্যক্ত পলিথিন সংগ্রহ করে মেশিনে ছোট ছোট করে তারপর সেগুলোকে চুল্লির মাধ্যমে আগুনে তাপ দিয়ে ৩ ধরনের জ্বালানি তেল তৈরি করে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন ১২০ কেজি পলিথিন থেকে ৭০ লিটার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল তৈরি করে বিক্রি করছেন তিনি।

এখানকার উৎপাদিত জ্বালানি তেল মান সম্মত বা ব্যবহার উপযোগী কি না তা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ ২০১৯ সালে (বিসিএসআইআর) পরীক্ষা করে জ্বালানি তেল উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে। 

বর্তমানে এ কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ৬০/৭০ লিটার জ্বালানি তেল উৎপাদন করে কম দামে বিক্রি করছেন। এতে করে উৎপাদন খরচ বাদে প্রতিমাসে আয় হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা। কারখানাটিতে ৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। জ্বালানী তেলের চাহিদা থাকায় কারখানাটিকে আরও বড় পরিসরে গড়ে তুলতে চান তরুণ উদ্যোক্তা গালিব। 

তার এ কারখানার উৎপাদন দেখতে ও পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের পরামর্শ নিতে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই ছুটে আসছেন। তারাও এ ধরনের কারখানা গড়ে তোলার আগ্রহের কথা জানান।

মোহাম্মদ আলী নামের এক যুবক এসেছেন ময়মনসিংহ থেকে। পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে কিভাবে জ্বালানি তেল উৎপাদন করা যায় তা নিজ চোখে দেখতে। তিনি এখান থেকে জ্বালানি তেল ক্রয় করে ব্যবসার পাশাপাশি এ ধরনের কারখানা করার পরিকল্পনার কথা জানান। 

মাসুদ রানা এসেছেন কটিয়াদী থেকে। তিনি প্রতিমাসে একবার আসেন মোটরসাইকেলে অকটেন ভরতে। তিনি জানান, পেট্রোলপাম্প থেকে লিটারে ১০ টাকা কম পান। ১০ লিটার তেলে ১শত টাকা কম লাগে। এখানে উৎপাদিত জ্বালানি তেল মানসম্মত। মোটরসাইকেলে কোনো সমস্যা হয় না।

এলাকাবাসী জানান, আমরা পলিথিন ফেলে দেই। সেই ফেলে দেওয়া পলিথিন সংগ্রহ করে গালিব জ্বালানি তেল উৎপাদন করছে। সরকারের উচিত তাকে সহযোগিতা করা।

তরুণ উদ্যোক্তা ইউসুফ আহমেদ গালিব জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বা সহযোগিতা পেলে তিনি বড় কারখানা গড়ে তুলবেন। এতে জ্বালানি তেলের সংকট কিছুটা হলেও কমবে। এ ছাড়া অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, পরিবেশ বাঁচবে। তাই সরকার যেন এ ধরনের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তেল তৈরি করতে সহযোগিতা করেন এমনটাই দাবি তার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন