৬ লাখ টাকা মুক্তিপণে ফিরেছেন পিতা-পুত্র
jugantor
৬ লাখ টাকা মুক্তিপণে ফিরেছেন পিতা-পুত্র

  যুগান্তর প্রতিবেদন ও টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি  

০১ অক্টোবর ২০২২, ২২:৪৪:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজারের টেকনাফে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে অপহরণকারী সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ফিরে এসেছেন অপহৃত পিতা-পুত্র। শনিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে মুক্তিপণে ছাড়া পান তারা।

মুক্তি পাওয়া পিতা-পুত্র হলেন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকার নজির আহমদ ও তার ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন।

এদিকে অপহরণকারী সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্তিপণ দিয়ে শনিবার দুপুরে পিতা-পুত্র ছাড়া পেলেও ইতোমধ্যে সকালে হ্নীলা মরিচ্যাঘোনা এলাকার একটি পেয়ারা বাগান থেকে আরেকজনকে ধরে নিয়ে গেছে অপহরণকারীরা। তিনি ওই এলাকার মৃত আবদুল গফুরের ছেলে মোহাম্মদ শফিক (৩০)। তার পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী।

সূত্রমতে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী ও মরিচ্যাঘোনা এলাকা থেকে ৫ জনকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। পরে ওই দিন ৩ জনকে সন্ধ্যায় আহতাবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকি ২ জনকে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণে শনিবার দুপুরে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ২৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ৫ জন ভোরে ক্ষেতে কাজ করতে যান। এ সময় ৭-১০ জন সেখান থেকে ৫ জনকে অপহরণ করে। অপহরণকারীরা ৫ জনের প্রত্যেকের জন্য ৫ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না পেয়ে তারা কৃষক শাহাজাহানকে গুলি করে। এছাড়া আবু বক্কর ও মেহেদী হাসানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে অপহরণকারীরা। পরে কৃষকদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

শাহাজাহানের বাবা আবুল মঞ্জুর বলেন, আমার ছেলে শাহাজাহান পাহাড়ের পাদদেশে ধানক্ষেত পাহারা দিতে গেলে সশস্ত্র অপহরণকারীরা তাকেসহ ৫ জনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না পেয়ে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে ছেলেকে।

এদিকে শনিবার দুপুরে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা নজির আহমদ ও ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন জানান, তাদের বেশ মারধর করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা সুস্থ হয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান।

হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, তার এলাকার কৃষকদের ক্ষেত-খামার রক্ষণাবেক্ষণের কারণে গহীন পাহাড়ে যেতে হয়। ধানক্ষেত থেকে ৫ কৃষককে অপহরণ করা হয়। ৩ জন কৌশলে ও ২ জন ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসেন। তবে শনিবার আরও একজনকে ধরে নিয়ে গিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি। এরপর পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্নভাবে সবাই ফিরে এসেছে বলে জেনেছি। তবে এখনো এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৬ লাখ টাকা মুক্তিপণে ফিরেছেন পিতা-পুত্র

 যুগান্তর প্রতিবেদন ও টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 
০১ অক্টোবর ২০২২, ১০:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজারের টেকনাফে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে অপহরণকারী সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ফিরে এসেছেন অপহৃত পিতা-পুত্র। শনিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে মুক্তিপণে ছাড়া পান তারা।

মুক্তি পাওয়া পিতা-পুত্র হলেন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকার নজির আহমদ ও তার ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন।

এদিকে অপহরণকারী সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্তিপণ দিয়ে শনিবার দুপুরে পিতা-পুত্র ছাড়া পেলেও ইতোমধ্যে সকালে হ্নীলা মরিচ্যাঘোনা এলাকার একটি পেয়ারা বাগান থেকে আরেকজনকে ধরে নিয়ে গেছে অপহরণকারীরা। তিনি ওই এলাকার মৃত আবদুল গফুরের ছেলে মোহাম্মদ শফিক (৩০)। তার পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী। 

সূত্রমতে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী ও মরিচ্যাঘোনা এলাকা থেকে ৫ জনকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। পরে ওই দিন ৩ জনকে সন্ধ্যায় আহতাবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকি ২ জনকে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণে শনিবার দুপুরে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ২৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ৫ জন ভোরে ক্ষেতে কাজ করতে যান। এ সময় ৭-১০ জন সেখান থেকে ৫ জনকে অপহরণ করে। অপহরণকারীরা ৫ জনের প্রত্যেকের জন্য ৫ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না পেয়ে তারা কৃষক শাহাজাহানকে গুলি করে। এছাড়া আবু বক্কর ও মেহেদী হাসানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে অপহরণকারীরা। পরে কৃষকদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

শাহাজাহানের বাবা আবুল মঞ্জুর বলেন, আমার ছেলে শাহাজাহান পাহাড়ের পাদদেশে ধানক্ষেত পাহারা দিতে গেলে সশস্ত্র অপহরণকারীরা তাকেসহ ৫ জনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না পেয়ে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে ছেলেকে।

এদিকে শনিবার দুপুরে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা নজির আহমদ ও ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন জানান, তাদের বেশ মারধর করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা সুস্থ হয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান।

হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, তার এলাকার কৃষকদের ক্ষেত-খামার রক্ষণাবেক্ষণের কারণে গহীন পাহাড়ে যেতে হয়। ধানক্ষেত থেকে ৫ কৃষককে অপহরণ করা হয়। ৩ জন কৌশলে ও ২ জন ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসেন। তবে শনিবার আরও একজনকে ধরে নিয়ে গিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি। এরপর পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্নভাবে সবাই ফিরে এসেছে বলে জেনেছি। তবে এখনো এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন