মানুষ হয়েও ৩৫ বছর ধরে চলছেন ভাল্লুকের মতো
jugantor
মানুষ হয়েও ৩৫ বছর ধরে চলছেন ভাল্লুকের মতো

  মুরাদ খান, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  

০৭ অক্টোবর ২০২২, ০০:১৬:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

নাম মোহাম্মদ মজনু মিয়া (৪০)। সম্পূর্ণ শরীর নগ্ন। চলাফেরাও করেন নগ্ন শরীরে। মজনু মিয়া শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ৩৫ বছর ধরে হাঁটছেন ভাল্লুকের মতো। গায়ে পোশাক পরেন না। পরলেও থাকে না। পা দুটি পেছনে এবং হাত দুটি সামনের দিকে বাঁকিয়ে কিম্ভূতকিমাকার ভঙ্গিতে চলাচল করেন তিনি। রাতে ভয়ংকর হাঁটার এ দৃশ্য দেখে অনেকেই ভয়ে আঁতকে উঠেন।

মজনু মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আইরল গ্রামের মো. রবি উল্লাহর ছেলে। ৫ বছর বয়সে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে হাত-পা বেঁকে যায়। এরপর থেকেই চতুষ্পদ জন্তুর মতো বাঁকিয়ে হাঁটেন। সারাদিন এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরেন।

জানা যায়, ৫ বছর বয়সে অন্য ১০টি শিশুর মতো স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা ও হাঁটাহাঁটি করতেন মজনু। হঠাৎ করেই এক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে আর হাঁটতে পারেন না তিনি। জমিজমা বিক্রি করে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করিয়ে কোনো ফল না পেয়ে চিকিৎসা বন্ধ করে দেন।

চার ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে মজনু মিয়ার অবস্থান দ্বিতীয়। ভাইদের মধ্যে মজনু মিয়া সবার বড়। মজনুর পিতা একজন কৃষক।

মজনুর পিতা রবিউল্লাহ জানান, মজনু সারা দিন বাহিরে থাকে। এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। খুঁজে পেতে কষ্ট হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় খুঁজে বের করে বাড়িতে আনতে হয়। এই কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য কিছুদিন তাকে উঠানে গর্ত করে গর্তের ভেতর আটকে রেখেছি। কান্নাকাটি করে বলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মা অনুফা বেগম জানান, ডাক্তার, কবিরাজ, ঝাড়ফুঁক থেকে শুরু করে সব ধরনের চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু এই রোগের কোনো সমাধান হয়নি। মজনুকে নিজ হাতে খাইয়ে দিতে হয়। প্রস্রাব-পায়খানা করলে তিনি নিজ হাতে পরিষ্কার করেন। ছেলের সুচিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

মজনুর ছোট বোন লাইলী বেগম বলেন, ৩৫ বছর ধরে মা-বাবা আমার এই প্রতিবন্ধী ভাইকে দেখাশোনা করছেন। তাকে খাওয়া দাওয়া গোসল করাচ্ছেন। তাদের মৃত্যুর পর তার প্রতিবন্ধী ভাইকে সার্বিক দেখাশোনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। মজনু মিয়ার সুচিকিৎসার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান লাইলী।

নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফতেহ আলী বলেন, মজনু মিয়া সম্পর্কে আমার ভাগিনা। সে কাপড় পরে না। নগ্ন থাকে। কাপড় পরালেও খুলে পড়ে যায়। সে নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সৈয়দ আরিফুল ইসলাম বলেন, এই রোগটাকে টেন সিন্ড্রোম বলা হয়। এটা নিউরোনাল, জেনেটিক এবং পরিবেশগত সাবসিস্টেম। অভিভাবকরা এটাকে 'বাতাস লাগছে' বলে কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। ঝাড়ফুঁক প্রথা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। মজনু মিয়া অপচিকিৎসার শিকার।

মানুষ হয়েও ৩৫ বছর ধরে চলছেন ভাল্লুকের মতো

 মুরাদ খান, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) 
০৭ অক্টোবর ২০২২, ১২:১৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নাম মোহাম্মদ মজনু মিয়া (৪০)। সম্পূর্ণ শরীর নগ্ন। চলাফেরাও করেন নগ্ন শরীরে। মজনু মিয়া শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ৩৫ বছর ধরে হাঁটছেন ভাল্লুকের মতো। গায়ে পোশাক পরেন না। পরলেও থাকে না। পা দুটি পেছনে এবং হাত দুটি সামনের দিকে বাঁকিয়ে কিম্ভূতকিমাকার ভঙ্গিতে চলাচল করেন তিনি। রাতে ভয়ংকর হাঁটার এ দৃশ্য দেখে অনেকেই ভয়ে আঁতকে উঠেন।

মজনু মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আইরল গ্রামের মো. রবি উল্লাহর ছেলে। ৫ বছর বয়সে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে হাত-পা বেঁকে যায়। এরপর থেকেই চতুষ্পদ জন্তুর মতো বাঁকিয়ে হাঁটেন। সারাদিন এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরেন।

জানা যায়, ৫ বছর বয়সে অন্য ১০টি শিশুর মতো স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা ও হাঁটাহাঁটি করতেন মজনু। হঠাৎ করেই এক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে আর হাঁটতে পারেন না তিনি। জমিজমা বিক্রি করে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করিয়ে কোনো ফল না পেয়ে চিকিৎসা বন্ধ করে দেন।

চার ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে মজনু মিয়ার অবস্থান দ্বিতীয়। ভাইদের মধ্যে মজনু মিয়া সবার বড়। মজনুর পিতা একজন কৃষক।

মজনুর পিতা রবিউল্লাহ জানান, মজনু সারা দিন বাহিরে থাকে। এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। খুঁজে পেতে কষ্ট হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় খুঁজে বের করে বাড়িতে আনতে হয়। এই কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য কিছুদিন তাকে উঠানে গর্ত করে গর্তের ভেতর আটকে রেখেছি। কান্নাকাটি করে বলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মা অনুফা বেগম জানান, ডাক্তার, কবিরাজ, ঝাড়ফুঁক থেকে শুরু করে সব ধরনের চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু এই রোগের কোনো সমাধান হয়নি। মজনুকে নিজ হাতে খাইয়ে দিতে হয়। প্রস্রাব-পায়খানা করলে তিনি নিজ হাতে পরিষ্কার করেন। ছেলের সুচিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

মজনুর ছোট বোন লাইলী বেগম বলেন, ৩৫ বছর ধরে মা-বাবা আমার এই প্রতিবন্ধী ভাইকে দেখাশোনা করছেন। তাকে খাওয়া দাওয়া গোসল করাচ্ছেন। তাদের মৃত্যুর পর তার প্রতিবন্ধী ভাইকে সার্বিক দেখাশোনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। মজনু মিয়ার সুচিকিৎসার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান লাইলী।

নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফতেহ আলী বলেন, মজনু মিয়া সম্পর্কে আমার ভাগিনা। সে কাপড় পরে না। নগ্ন থাকে। কাপড় পরালেও খুলে পড়ে যায়। সে নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সৈয়দ আরিফুল ইসলাম বলেন, এই রোগটাকে টেন সিন্ড্রোম বলা হয়। এটা নিউরোনাল, জেনেটিক এবং পরিবেশগত সাবসিস্টেম। অভিভাবকরা এটাকে 'বাতাস লাগছে' বলে কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। ঝাড়ফুঁক প্রথা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। মজনু মিয়া অপচিকিৎসার শিকার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন