আজ মধ‍্যরাত থেকে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ
jugantor
আজ মধ‍্যরাত থেকে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ

  বরগুনা প্রতিনিধি  

০৭ অক্টোবর ২০২২, ০০:১৭:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

সাগর থেকে মিঠাপানিতে আসা ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আজ মধ্যরাত থেকে আগামী ২২ দিন ইলিশ মাছসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছ আহরণ ও বিপণন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বরগুনা জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগ।

এব্যাপরে বরগুনা জেলার ৬টি উপজেলায় মাইকিং করে সবাইকে অবহিত করেছেন জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ।

অবরোধ সম্পর্কে মৎস্য ব্যবসায়ী জলিল মোল্লা জানান, ইলিশের ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত ইলিশ না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছে প্রান্তিক জেলেরা। সাগর নদীতে চাহিদামত ইলিশ না পাওয়ায় দারুন অর্থ সংকটের মুখে পড়তে চলেছে ট্রলার মালিকরা।

এ ব‍্যাপারে পাথরঘাটা মৎস অবতরন কেন্দ্র বি এফ ডি সি ঘাটের এফ বি সাইফ কোম্পানির প্রধান সমন্বয়ক মনিরুল হক মাসুম বলেন, বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম অনেক বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত খরচ দিয়ে ফিশিং বোটগুলোকে সাগরে যাওয়ার জন্য বাজার করে দিতে হয়। এটি ছিল একটি বাড়তি খরচ আমাদের জন্য।

তিনি আরও জানান, প্রতিবার ট্রলার সাগরের যাওয়ার জন্য ২ লাখ টাকার ওপরে বাজার দিতে হয়। কিন্তু এই বছরে বাড়তি খরচ দিয়ে ট্রলার পাঠিয়ে বাজার খরচের টাকাও আসেনি। সাগরে মাছ না থাকায় এরকম চিত্র ছিল শত শত ট্রলারে। সাগরে যা ধরা পড়েছে প্রথমদিকে তার সাইজ একটু বড় থাকলেও পরবর্তীতে মাছের সাইজ ছিল আশঙ্কাজনকভাবে ছোট। সে কারণে তেমন আয় হয়নি।

৬৫ দিনের অবরোধ কাটিয়ে গত ২৪ জুলাই থেকে ইলিশ ধরা শুরু হলেও আবহাওয়া খারাপ থাকায় মৌসুমের শুরুতেই অনেক দিন বসে থাকতে হয়েছিল। বর্তমানে ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে, কিন্তু গত বছরের চেয়ে এ বছরে ১০ দিন আগে ইলিশ মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে ইলিশের এই ভরা মৌসুম থাকবে না।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে ভারতীয় জেলেরা বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সীমানায় অনুপ্রবেশ করে মা ইলিশ সহ প্রচুর মাছ ধরে নিয়ে যায়। এই ভারতীয় অনুপ্রবেশকারী জেলেদের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি জানান, আমাদের জেলায় মাছ ধরা নিষেধ থাকলেও একই সময়ে ভারতে কোন নিষেধাজ্ঞা থাকেনা। এ কারণে ভারতীয় জেলেরা প্রচুর মাছ ধরার সুযোগ নেয়। ফলে বাংলাদেশ সরকার অর্থনৈতিকভাবে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, সরকারের এই বিধিনিষেধ অমান্য করে কেউ যদি মৎস্য আহরণ ও বিপণন করেন তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ থেকে ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০০০ টাকা জরিমানা সহ অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। মৎস্য আহরণের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে জেলার নিবন্ধিত ৩৭০০৭৪ জেলেদেরকে মাথাপিছু ২০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা জোরদার করতে ও ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করতে বরগুনা জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বরগুনা জেলা পুলিশ কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ এর সমন্বয় কয়েকটি টিমের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এজন্য বিভিন্ন জেলা থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে চারজন সহকারী মৎস্য কর্মকর্তাকে অবরোধ চলাকালীন সময়ের জন‍্য দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়েছে।

আজ মধ‍্যরাত থেকে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ

 বরগুনা প্রতিনিধি 
০৭ অক্টোবর ২০২২, ১২:১৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সাগর থেকে মিঠাপানিতে আসা ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আজ মধ্যরাত থেকে আগামী ২২ দিন ইলিশ মাছসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছ আহরণ ও বিপণন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বরগুনা জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগ। 

এব্যাপরে বরগুনা জেলার ৬টি উপজেলায় মাইকিং করে সবাইকে অবহিত করেছেন জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ।

অবরোধ সম্পর্কে মৎস্য ব্যবসায়ী জলিল মোল্লা জানান, ইলিশের ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত ইলিশ না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছে প্রান্তিক জেলেরা। সাগর নদীতে চাহিদামত ইলিশ না পাওয়ায় দারুন অর্থ সংকটের মুখে পড়তে চলেছে ট্রলার মালিকরা। 

এ ব‍্যাপারে পাথরঘাটা মৎস অবতরন কেন্দ্র বি এফ ডি সি ঘাটের এফ বি সাইফ কোম্পানির প্রধান সমন্বয়ক মনিরুল হক মাসুম বলেন, বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম অনেক বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত খরচ দিয়ে ফিশিং বোটগুলোকে সাগরে যাওয়ার জন্য বাজার করে দিতে হয়। এটি ছিল একটি বাড়তি খরচ আমাদের জন্য।

তিনি আরও জানান, প্রতিবার ট্রলার সাগরের যাওয়ার জন্য ২ লাখ টাকার ওপরে বাজার দিতে হয়। কিন্তু এই বছরে বাড়তি খরচ দিয়ে ট্রলার পাঠিয়ে বাজার খরচের টাকাও আসেনি। সাগরে মাছ না থাকায় এরকম চিত্র ছিল শত শত ট্রলারে। সাগরে যা ধরা পড়েছে প্রথমদিকে তার সাইজ একটু বড় থাকলেও পরবর্তীতে মাছের সাইজ ছিল আশঙ্কাজনকভাবে ছোট। সে কারণে তেমন আয় হয়নি।

৬৫ দিনের অবরোধ কাটিয়ে গত ২৪ জুলাই থেকে ইলিশ ধরা শুরু হলেও আবহাওয়া খারাপ থাকায় মৌসুমের শুরুতেই অনেক দিন বসে থাকতে হয়েছিল। বর্তমানে ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে, কিন্তু গত বছরের চেয়ে এ বছরে ১০ দিন আগে ইলিশ মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে ইলিশের এই ভরা মৌসুম থাকবে না।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে ভারতীয় জেলেরা বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সীমানায় অনুপ্রবেশ করে মা ইলিশ সহ প্রচুর মাছ ধরে নিয়ে যায়। এই ভারতীয় অনুপ্রবেশকারী জেলেদের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি জানান, আমাদের জেলায় মাছ ধরা নিষেধ থাকলেও একই সময়ে ভারতে কোন নিষেধাজ্ঞা থাকেনা। এ কারণে ভারতীয় জেলেরা প্রচুর মাছ ধরার সুযোগ নেয়। ফলে বাংলাদেশ সরকার অর্থনৈতিকভাবে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, সরকারের এই বিধিনিষেধ অমান্য করে কেউ যদি মৎস্য আহরণ ও বিপণন করেন তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ থেকে ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০০০ টাকা জরিমানা সহ অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। মৎস্য আহরণের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে জেলার নিবন্ধিত ৩৭০০৭৪ জেলেদেরকে মাথাপিছু ২০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা জোরদার করতে ও ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করতে বরগুনা জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বরগুনা জেলা পুলিশ কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ এর সমন্বয় কয়েকটি টিমের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এজন্য বিভিন্ন জেলা থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে চারজন সহকারী মৎস্য কর্মকর্তাকে অবরোধ চলাকালীন সময়ের জন‍্য দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন