ওসমান পরিবারের অবদান স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
jugantor
ওসমান পরিবারের অবদান স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি  

১০ অক্টোবর ২০২২, ২২:২৫:১২  |  অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিক থেকে এ জেলা সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া আমাদের সংগঠনের দিক থেকেও নারায়ণগঞ্জের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জেলার বাসিন্দাদের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করতেই তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সেতুটি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিম ওসমানের নামেই দিয়েছি। কারণ এ সেতুটির জন্য তার আকাঙ্ক্ষা ছিল, সে জীবদ্দশায় এমপি থাকাকালীন বারবার আমার কাছে বলতো, আপা এই সেতুটি করে দেন। কিন্তু সেতুটির কাজ শুরু করার সময় সে আমাদের ছেড়ে চলে গেল। তাই নাসিম ওসমানের নামেই শীতলক্ষ্যা সেতুটি উৎসর্গ করেছি। কারণ সে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ৭৫-এর প্রতিবাদকারী। তাই আমি আজ খুবই আনন্দিত যে, তার স্মৃতি ধরে রাখতে পেরেছি।

সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে বীর মুক্তিযুদ্ধা একেএম নাসিম ওসমান তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু ও নড়াইলের কালনায় মধুমতী সেতুর উদ্বোধন ঘোষণার প্রাক্কালে এসব কথা বলেন।

ওসমান পরিবারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ কামালের বন্ধু ছিল নাসিম ওসমান। তার বাবা জোহা সাহেব আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন। তাদের দাদা ওসমান আলী সাহেব মুক্তিযুদ্ধ ও সংগঠনে ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৭১ সালে ধানমণ্ডিতে ১৮ নাম্বার রোডে আমার মা-সহ সবাই বাসায় বন্দি ছিলাম। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সারেন্ডার করার পরও আমরা মুক্তি পাইনি। আমাদের পাকিস্তানি সেনারা ঘিরে রেখেছিল; কিন্তু জোহা সাহেব ভেবেছিলেন আমরা বোধহয় মুক্তি পেয়েছি। ওই সময় জোহা সাহেব আমাদের বাসার রাস্তা দিয়ে ঢুকেন। তখন পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের বাসা লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছুড়ে। তার শরীরে গুলি লেগেছিল; কিন্তু তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ৭৫ পরবর্তী সময়ে আমরা রিফিউজি হিসেবে দিল্লিতে ছিলাম। তখন জোহা সাহেব গ্রেফতার হয়ে বন্দি ছিলেন। তিনি মুক্তি পেয়েই প্রথমে দিল্লি ছুটে গিয়েছিল আমাদের সঙ্গে দেখা করতে। সেসব কথা আমরা স্মরণ করি।

তিনি আরও বলেন, ৭৫-এর ১৫ আগস্ট আমাদের জন্য একটি কালরাত। আগের দিন ১৪ আগস্ট রাতে নাসিম ওসমানের বিয়ে হয়। নাসিম ওসমানের বিয়েতে কামালও (শেখ কামাল) গিয়েছিল। কামাল ফিরে আসে। যখনই নাসিম ওসমান শুনেছেন ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটেছে, তখনই নবপরিণীতা স্ত্রীকে রেখেই হত্যার প্রতিবাদ জানাতে চলে গিয়েছিল ভারতে। সেখানে সে হত্যার প্রতিবাদ করে। আমি সব সময় সেগুলো স্মরণ করি। যদিও সে আমাদের পার্টি করত না, অন্য পার্টিতে গিয়েছিল। কিন্তু সব সময় আমার সঙ্গে যোগাযোগ করত, বড়বোন হিসেবে সম্মান করত। সে বারবার আমার সঙ্গে দেখা করে সেতুটির কথা বলেছিল। যখন আমরা এটার কাজ শুরু করি, তখনই সে চলে গেল। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে স্মরণ করতেই তার নামে সেতুটির নামকরণ করেছি।

ওসমান পরিবারের অবদান স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

 নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 
১০ অক্টোবর ২০২২, ১০:২৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিক থেকে এ জেলা সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া আমাদের সংগঠনের দিক থেকেও নারায়ণগঞ্জের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জেলার বাসিন্দাদের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করতেই তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, সেতুটি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিম ওসমানের নামেই দিয়েছি। কারণ এ সেতুটির জন্য তার আকাঙ্ক্ষা ছিল, সে জীবদ্দশায় এমপি থাকাকালীন বারবার আমার কাছে বলতো, আপা এই সেতুটি করে দেন। কিন্তু সেতুটির কাজ শুরু করার সময় সে আমাদের ছেড়ে চলে গেল। তাই নাসিম ওসমানের নামেই শীতলক্ষ্যা সেতুটি উৎসর্গ করেছি। কারণ সে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ৭৫-এর প্রতিবাদকারী। তাই আমি আজ খুবই আনন্দিত যে, তার স্মৃতি ধরে রাখতে পেরেছি। 

সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে বীর মুক্তিযুদ্ধা একেএম নাসিম ওসমান তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু ও নড়াইলের কালনায় মধুমতী সেতুর উদ্বোধন ঘোষণার প্রাক্কালে এসব কথা বলেন। 

ওসমান পরিবারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ কামালের বন্ধু ছিল নাসিম ওসমান। তার বাবা জোহা সাহেব আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন। তাদের দাদা ওসমান আলী সাহেব মুক্তিযুদ্ধ ও সংগঠনে ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৭১ সালে ধানমণ্ডিতে ১৮ নাম্বার রোডে আমার মা-সহ সবাই বাসায় বন্দি ছিলাম। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সারেন্ডার করার পরও আমরা মুক্তি পাইনি। আমাদের পাকিস্তানি সেনারা ঘিরে রেখেছিল; কিন্তু জোহা সাহেব ভেবেছিলেন আমরা বোধহয় মুক্তি পেয়েছি। ওই সময় জোহা সাহেব আমাদের বাসার রাস্তা দিয়ে ঢুকেন। তখন পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের বাসা লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছুড়ে। তার শরীরে গুলি লেগেছিল; কিন্তু তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। 

শেখ হাসিনা বলেন, ৭৫ পরবর্তী সময়ে আমরা রিফিউজি হিসেবে দিল্লিতে ছিলাম। তখন জোহা সাহেব গ্রেফতার হয়ে বন্দি ছিলেন। তিনি মুক্তি পেয়েই প্রথমে দিল্লি ছুটে গিয়েছিল আমাদের সঙ্গে দেখা করতে। সেসব কথা আমরা স্মরণ করি। 

তিনি আরও বলেন, ৭৫-এর ১৫ আগস্ট আমাদের জন্য একটি কালরাত। আগের দিন ১৪ আগস্ট রাতে নাসিম ওসমানের বিয়ে হয়। নাসিম ওসমানের বিয়েতে কামালও (শেখ কামাল) গিয়েছিল। কামাল ফিরে আসে। যখনই নাসিম ওসমান শুনেছেন ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটেছে, তখনই নবপরিণীতা স্ত্রীকে রেখেই হত্যার প্রতিবাদ জানাতে চলে গিয়েছিল ভারতে। সেখানে সে হত্যার প্রতিবাদ করে। আমি সব সময় সেগুলো স্মরণ করি। যদিও সে আমাদের পার্টি করত না, অন্য পার্টিতে গিয়েছিল। কিন্তু সব সময় আমার সঙ্গে যোগাযোগ করত, বড়বোন হিসেবে সম্মান করত। সে বারবার আমার সঙ্গে দেখা করে সেতুটির কথা বলেছিল। যখন আমরা এটার কাজ শুরু করি, তখনই সে চলে গেল। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে স্মরণ করতেই তার নামে সেতুটির নামকরণ করেছি।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন