গাজীপুর সিটি নির্বাচন

যোগ্যতা না থাকলে কেন্দ্রীয় সরকার এসে কাজ করে দেবে না: হাসান উদ্দিন

  গাজীপুর প্রতিনিধি ১৯ জুন ২০১৮, ২২:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

লিফলেট বিতরণ করছেন ২০ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার
লিফলেট বিতরণ করছেন ২০ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। ছবি: যুগান্তর

২৬ জুনের নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণা জমে ওঠতে শুরু হয়েছে।

ঈদের পর গত ১৮ জুন থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর প্রার্থীরা নতুন উদ্যমে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন।

মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা নতুন করে পোস্টার ছাপিয়ে সেগুলো সিটির বিভিন্ন হাটবাজার, পাড়া-মহল্লা, অলিগলি ও প্রকাশ্য স্থানে টাঙাতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি সমান তালে চলছে মাইকিং।

২০ দলীয় জোট মেয়র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার মঙ্গলবার সকালে নগরীর গাছা (পূর্ব) অঞ্চলের ৩২, ৩৩ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইশড্ডা, জাঝর, অ্যারাবিয়ান গার্মেন্ট, বটতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং বিকালে নগরির টঙ্গী (পূর্ব) এলাকার টিএন্ডটি, শিলমুন, মরকুন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন।

ওইসব পথসভায় হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী অতিরিক্ত মাত্রায় ওয়াদা দিচ্ছেন। তিনি ডাবল রেললাইন ও চলমান বিআরটিসহ জাতীয় প্রকল্পগুলোকে স্থানীয় সরকারের প্রকল্প হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা, পরিধি ও স্থানীয় সরকার আইন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা থাকলে তিনি এসব ওয়াদা দিতেন না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এমন কিছু ওয়াদা দিচ্ছেন যা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাকেও হার মানাচ্ছে। জাহাঙ্গীর আলম কথায় কথায় কেন্দ্রীয় সরকারের কথা বলছেন। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই। নিজের যোগ্যতা বলেই স্থানীয় সরকার পরিচালনা করতে হয়। নিজের যোগ্যতা না থাকলে কেন্দ্রীয় সরকার এসে স্থানীয় সরকার পরিচালনা করবে না।

২০ দলীয় জোটের এ মেয়র প্রার্থী বলেন, স্থানীয় খাত থেকে রাজস্ব আহরণের যোগ্যতা ও ধারণা থাকতে হবে এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে। স্থানীয় সরকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে তাকে স্থানীয় সরকার পরিচালনা করতে আসা মানেই জনগণের দুর্ভোগ ডেকে আনা।

এ সময় হাসান উদ্দিন সরকারের সঙ্গে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকার, মোশরাফ হোসেন খান, মনিরুজ্জামান খান লাবলু, ফারুক হোসেন খান, জাহাঙ্গীর হাজারীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বাসন সাংগঠনিক থানার সব ইউনিটির নির্বাচন পরিচালন কমিটি ও এজেন্টদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সুরুজ আহাম্মেদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন হাসান সরকারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শিল্পপতি মো. সোহরাব উদ্দিন।

ওই সভায় তিনি সকল ধরণের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ধৈর্যধারণ ও গুজব, ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সর্বাত্মকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অবতীর্ণ হওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বশির আহাম্মেদ বাচ্চু,মো. গিয়াস উদ্দিন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা মো. মিল্টন, আমিনুল ইসলাম, মোবারক হোসেন ও ইঞ্জি. মামীম প্রমুখ।

অনরূপ সকালে হাসান উদ্দিন সরকারের বাসভবনে টঙ্গীর ১২৫ ওয়ার্ডের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও এজেন্টদের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন, মাহবুবুল আলম শুক্কুর, প্রভাষক বসির উদ্দিন আহমেদ, আরিফ হোসেন হাওলাদার, জসিম উদ্দিন বাট, আবদুর রহিম খান কালা, কসিম উদ্দিন প্রমুখ।

এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা ৫৭টি ওয়ার্ডে পৃথকভাবে গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন। এদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নগরীর ২৮নং ওয়ার্ডের হাড়িনালে।

এ সময় তার সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শিল্পপতি সোহরাব উদ্দিন, ভিপি জয়নালসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কাউলতিয়া অঞ্চলে বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে শামা ওবায়েদ, ১ নম্বর ওয়ার্ডে গৌতম চক্রবর্তী, ২ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেছেন।

হাড়িনালের পথসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, খুলনা ও গাজীপুর এক নয়। খুলনার মতো গাজীপুরে কারচুপি করলে ক্ষমতাসীনদের শিকড়ে নাড়া লাগবে। গাজীপুরের বীর জনতা বারবার ইতিহাস রচনা করেছেন। আসন্ন নির্বাচনেও গাজীপুরবাসী ধানের শীষকে বিজয়ী করে ইতিহাস রচনা করবেন।

ওই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ফজলুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, ডা. মাজহারুল আলম, অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, মীর হালিমুজ্জামান ননী, সাখাওয়াৎ হোসেন সেলিম, কুতুব উদ্দিন চেয়ারম্যান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৫ মে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। নির্বাচনের সাত দিন আগে সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতায় হাইকোর্টে রিট হলে আদালতের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীকালে দুই মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ও জাহাঙ্গীর আলম এবং নির্বাচন কমিশন এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে আপিল বিভাগ নির্বাচনের স্থগিতাদেশ তুলে দেন। নতুন করে ২৬ জুন এ ভোট হওয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে। এর পর সোমবার থেকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়েছে। তবে রমজান মাস ও ঈদ কেন্দ্র করে নানা কৌশলে প্রচার চালিয়ে গেছেন প্রার্থীরা।

ঘটনাপ্রবাহ : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৮

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter