কুমিল্লায় বিভাগের নামকরণ নিয়ে যত প্রতিক্রিয়া
jugantor
কুমিল্লায় বিভাগের নামকরণ নিয়ে যত প্রতিক্রিয়া

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো  

২৪ নভেম্বর ২০২২, ১৯:৪৪:৩৩  |  অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লা দেশের প্রাচীন একটি জেলা এবং ঐতিহ্যের জনপদ। এ জেলার ভগ্নাংশই বর্তমান চাঁদপুর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। কয়েক বছর যাবত এ অঞ্চলের ৬টি জেলা নিয়ে বিভাগ বাস্তবায়নের কার্যক্রম ঝুলে আছে।

তবে কুমিল্লাবাসীর দাবি ছিল কুমিল্লা জেলার নামেই যেন বিভাগের নামকরণ করা হয়। এ দাবি শেষ পর্যন্ত সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। কিন্তু ইতিহাসের ঘৃণিত ব্যক্তি খন্দকার মোশতাকসহ বঙ্গবন্ধুর একাধিক খুনির জন্মস্থান এ জেলায় হওয়ায় কুমিল্লা নামে বিভাগ বাস্তবায়ন কার্যক্রম থমকে যায়।

নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কুমিল্লা নামে নয়, অবশেষে মেঘনা নামেই বিভাগ ঘোষণা করা হচ্ছে। আসছে ২৭ নভেম্বর নিকার বৈঠক থেকে মেঘনা বিভাগের ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আর এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কুমিল্লা নামের দাবি বাস্তবায়ন না হলে যে নামেই হোক এবার যেন বিভাগ বাস্তবায়ন হয়। কোনো অজুহাতে যেন বিভাগ বাস্তবায়ন থেকে কুমিল্লা বঞ্চিত না হয় এমনটাই দাবি অনেকের।

জানা গেছে, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর জেলা নিয়ে নতুন বিভাগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী রোববার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় ‘মেঘনা’ নামের এই বিভাগ অনুমোদনের প্রস্তাব আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ওই বৈঠকেই দেশের নতুন দুটি বিভাগের ঘোষণা আসতে পারে। এ নিয়ে কুমিল্লার সর্বত্রই ফের আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

কুমিল্লায় বিভাগের নাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা নদীর নামের বদলে জেলার নাম দিয়েই বিভাগ চান।

স্থানীয়রা বলছেন, কুমিল্লায় বিভাগ প্রতিষ্ঠা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু কুমিল্লা নামেই বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার ছিল সচেতন মহল। তবে প্রাচীন জনপদ হিসেবে কুমিল্লাকে বিভাগের আওতায় আনাই এখন সময়ের দাবি।

কেউ কেউ বলছেন, কুমিল্লা নামে বিপত্তির অজুহাতে বিভাগ বাস্তবায়ন কার্যক্রম যেন এবার থমকে না যায়। যে নামেই হোক বিভাগ যেন বাস্তবায়ন হয়।

এর আগে ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে চট্টগ্রাম বিভাগকে ভেঙে কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে পৃথক বিভাগ করা যায় কিনা, সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরীক্ষা নিরীক্ষার নির্দেশনা দেন। এরপর বিভাগের নাম ময়নামতি ও মেঘনা নামকরণ করার কথা বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হয় কিন্তু কুমিল্লাবাসী কুমিল্লা নামেই বিভাগের পক্ষে আন্দোলন করে।

কুমিল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাদিক হোসেন মামুন বলেন, কুমিল্লা নামে বিভাগ হলেই আমরা বেশি খুশি হব, কারণ কুমিল্লা ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক বাহক, মোশতাক আর গুটিকয়েক খুনিকে দিয়ে কুমিল্লাকে যেন বিবেচনা না করা হয়। আর প্রধানমন্ত্রী যদি নদীর নামে বিভাগ করতে চান তাহলে আমাদের দাবি গোমতীর নামে যেন বিভাগের নামকরণ করা হয়।

কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও দৈনিক কুমিল্লার কাগজের সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয় বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লায় বিভাগ দিচ্ছেন এ জন্য তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। পাশের জেলাগুলো কুমিল্লা বিভাগে আসা না আসা নিয়ে জটিলতার মধ্যে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কুমিল্লা নামের পরিবর্তে মেঘনা নামে বিভাগ দিতে চাইছেন। তার ইচ্ছার প্রতি সম্মান আমাদের দেখাতেই হয়। বিভাগ হওয়াই এখন বড় কথা।

তবে প্রধানমন্ত্রী এর আগে ‘কুমিল্লা’ নামের পরিবর্তে ‘ময়নামতি’ নামে বিভাগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। আমার মনে হয় মেঘনার স্থলে ‘ময়নামতি’ নামটি অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্য যুগে কুমিল্লার রাণী ময়নামতি ও তার ছেলে রাজা গোবিন্দচন্দ্রের অলৌকিক কাহিনী নিয়ে পুরো ভারতবর্ষ এক সময় মাতোয়ারা ছিল। নাথ ধর্মকে কেন্দ্র করে এগারো শতকের দিকে বাংলাদেশে যে বিরাট সাহিত্য গড়ে উঠে তা নাথ গীতিকা নামে পরিচিত। এই নাথ গীতিকা বাংলা সাহিত্যে প্রাচীন নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই নাথ সাহিত্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল মেহেরকুল তথা কুমিল্লা। ফলে কুমিল্লা নামে দিতে নাই চাইলে ময়নামতি নামে বিভাগ হলে হতে পারে।

এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি রোকেয়া বেগম শেফালী বলেন, কুমিল্লা নামে বিভাগ বাস্তবায়ন সর্বস্তরের জনতার দাবি, নদীর নামে নয়, কুমিল্লা নামে বিভাগ ঘোষণার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি।

কুমিল্লায় বিভাগের নামকরণ নিয়ে যত প্রতিক্রিয়া

 আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো 
২৪ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লা দেশের প্রাচীন একটি জেলা এবং ঐতিহ্যের জনপদ। এ জেলার ভগ্নাংশই বর্তমান চাঁদপুর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। কয়েক বছর যাবত এ অঞ্চলের ৬টি জেলা নিয়ে বিভাগ বাস্তবায়নের কার্যক্রম ঝুলে আছে।

তবে কুমিল্লাবাসীর দাবি ছিল কুমিল্লা জেলার নামেই যেন বিভাগের নামকরণ করা হয়। এ দাবি শেষ পর্যন্ত সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। কিন্তু ইতিহাসের ঘৃণিত ব্যক্তি খন্দকার মোশতাকসহ বঙ্গবন্ধুর একাধিক খুনির জন্মস্থান এ জেলায় হওয়ায় কুমিল্লা নামে বিভাগ বাস্তবায়ন কার্যক্রম থমকে যায়।

নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কুমিল্লা নামে নয়, অবশেষে মেঘনা নামেই বিভাগ ঘোষণা করা হচ্ছে। আসছে ২৭ নভেম্বর নিকার বৈঠক থেকে মেঘনা বিভাগের ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আর এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কুমিল্লা নামের দাবি বাস্তবায়ন না হলে যে নামেই হোক এবার যেন বিভাগ বাস্তবায়ন হয়। কোনো অজুহাতে যেন বিভাগ বাস্তবায়ন থেকে কুমিল্লা বঞ্চিত না হয় এমনটাই দাবি অনেকের।

জানা গেছে, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর জেলা নিয়ে নতুন বিভাগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী রোববার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় ‘মেঘনা’ নামের এই বিভাগ অনুমোদনের প্রস্তাব আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ওই বৈঠকেই দেশের নতুন দুটি বিভাগের ঘোষণা আসতে পারে। এ নিয়ে কুমিল্লার সর্বত্রই ফের আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

কুমিল্লায় বিভাগের নাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা নদীর নামের বদলে জেলার নাম দিয়েই বিভাগ চান।

স্থানীয়রা বলছেন, কুমিল্লায় বিভাগ প্রতিষ্ঠা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু কুমিল্লা নামেই বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার ছিল সচেতন মহল। তবে প্রাচীন জনপদ হিসেবে কুমিল্লাকে বিভাগের আওতায় আনাই এখন সময়ের দাবি।

কেউ কেউ বলছেন, কুমিল্লা নামে বিপত্তির অজুহাতে বিভাগ বাস্তবায়ন কার্যক্রম যেন এবার থমকে না যায়। যে নামেই হোক বিভাগ যেন বাস্তবায়ন হয়।

এর আগে ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে চট্টগ্রাম বিভাগকে ভেঙে কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে পৃথক বিভাগ করা যায় কিনা, সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরীক্ষা নিরীক্ষার নির্দেশনা দেন। এরপর বিভাগের নাম ময়নামতি ও মেঘনা নামকরণ করার কথা বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হয় কিন্তু কুমিল্লাবাসী কুমিল্লা নামেই বিভাগের পক্ষে আন্দোলন করে। 

কুমিল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাদিক হোসেন মামুন বলেন, কুমিল্লা নামে বিভাগ হলেই আমরা বেশি খুশি হব, কারণ কুমিল্লা ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক বাহক, মোশতাক আর গুটিকয়েক খুনিকে দিয়ে কুমিল্লাকে যেন বিবেচনা না করা হয়। আর প্রধানমন্ত্রী যদি নদীর নামে বিভাগ করতে চান তাহলে আমাদের দাবি গোমতীর নামে যেন বিভাগের নামকরণ করা হয়।

কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও দৈনিক কুমিল্লার কাগজের সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয় বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লায় বিভাগ দিচ্ছেন এ জন্য তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। পাশের জেলাগুলো কুমিল্লা বিভাগে আসা না আসা নিয়ে জটিলতার মধ্যে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কুমিল্লা নামের পরিবর্তে মেঘনা নামে বিভাগ দিতে চাইছেন। তার ইচ্ছার প্রতি সম্মান আমাদের দেখাতেই হয়। বিভাগ হওয়াই এখন বড় কথা।

তবে প্রধানমন্ত্রী এর আগে ‘কুমিল্লা’ নামের পরিবর্তে ‘ময়নামতি’ নামে বিভাগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। আমার মনে হয় মেঘনার স্থলে ‘ময়নামতি’ নামটি অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্য যুগে কুমিল্লার রাণী ময়নামতি ও তার ছেলে রাজা গোবিন্দচন্দ্রের অলৌকিক কাহিনী নিয়ে পুরো ভারতবর্ষ এক সময় মাতোয়ারা ছিল। নাথ ধর্মকে কেন্দ্র করে এগারো শতকের দিকে বাংলাদেশে যে বিরাট সাহিত্য গড়ে উঠে তা নাথ গীতিকা নামে পরিচিত। এই নাথ গীতিকা বাংলা সাহিত্যে প্রাচীন নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই নাথ সাহিত্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল মেহেরকুল তথা কুমিল্লা। ফলে কুমিল্লা নামে দিতে নাই চাইলে ময়নামতি নামে বিভাগ হলে হতে পারে।  

এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি রোকেয়া বেগম শেফালী বলেন, কুমিল্লা নামে বিভাগ বাস্তবায়ন সর্বস্তরের জনতার দাবি, নদীর নামে নয়, কুমিল্লা নামে বিভাগ ঘোষণার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন