টঙ্গীতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৯
jugantor
টঙ্গীতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৯

  টঙ্গী পূর্ব (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৮:৪৫:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

গাজীপুরের টঙ্গীতে আশিক (২২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত ৯টার দিকে টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকার ৩ নম্বর ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে হাসপাতালে ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

মৃত আশিক এরশাদনগর এলাকার ৩ নম্বর ব্লকের সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন। ওই এলাকায় পরিবার নিয়ে বাস করতেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৯ জনকে আটকের পর থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিল আশিক ও তার বন্ধুরা। এ সময় ওই এলাকার ছিনতাইকারী সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে- এমন খবর জানিয়ে আশরাফুল নামে এক ব্যক্তি ফোন করেন আশিককে। আটককৃত ছিনতাইকারীর পরিচয় শনাক্তে আশিককে নীলাচল হাউজিং সোসাইটির প্রকল্প এলাকায় যেতে বললে আটককৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে নীলাচল হাউসিং প্রপার্টিজের ভেতরে যান আশিক।

কিছুক্ষণ পর হাউজিং প্রকল্পের ভেতরে থাকা নির্মাণাধীন আটতলা ভবনের পাঁচতলায় নিয়ে ইট ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে আশিককে। পরে তার ডাক-চিৎকারের স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তদের হামলায় টুটুল, বিল্লাল ও সাব্বির নামে স্থানীয় আরও তিন যুবক আহত হন। এ সময় কৌশলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ আশিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ আরও জানায়, কয়েক সপ্তাহ আগে আশরাফুল নামে এক যুবকের সঙ্গে বিরোধ হয় আশিকের। পরে বিষয়টি স্থানীয়রা মীমাংসা করে দেন। এরই জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে আশিকের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা হাসপাতালে ভিড় জমান। এ সময় আশিকের হত্যাকারী সন্দেহে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন যুবকের ওপর হামলা চালায় আশিকের বন্ধু ও আত্মীয় স্বজনরা। এতে কয়েকজন আহত হন। এছাড়াও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের জানালার গ্লাস ও মূল্যবান আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়। পরে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আশিককে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভাংচুরের ঘটনায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেব না।

আশিকের বাবা সোলেমান বলেন, আশরাফুলের সঙ্গে আমার জেলের বিরোধ ছিল। আশরাফুল ও তার সহযোগীরা আমার ছেলেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। লাশ দাফনের পর আমরা মামলা করব।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো.আশরাফুল ইসলাম বলেন, হত্যার মূল কারণ জানা যায়নি। ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আটকদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।

টঙ্গীতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৯

 টঙ্গী পূর্ব (গাজীপুর) প্রতিনিধি 
২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৬:৪৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গাজীপুরের টঙ্গীতে আশিক (২২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত ৯টার দিকে টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকার ৩ নম্বর ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে হাসপাতালে ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

মৃত আশিক এরশাদনগর এলাকার ৩ নম্বর ব্লকের সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন। ওই এলাকায় পরিবার নিয়ে বাস করতেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৯ জনকে আটকের পর থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিল আশিক ও তার বন্ধুরা। এ সময় ওই এলাকার ছিনতাইকারী সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে- এমন খবর জানিয়ে আশরাফুল নামে এক ব্যক্তি ফোন করেন আশিককে। আটককৃত ছিনতাইকারীর পরিচয় শনাক্তে আশিককে নীলাচল হাউজিং সোসাইটির প্রকল্প এলাকায় যেতে বললে আটককৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে নীলাচল হাউসিং প্রপার্টিজের ভেতরে যান আশিক।

কিছুক্ষণ পর হাউজিং প্রকল্পের ভেতরে থাকা নির্মাণাধীন আটতলা ভবনের পাঁচতলায় নিয়ে ইট ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে আশিককে। পরে তার ডাক-চিৎকারের স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তদের হামলায় টুটুল, বিল্লাল ও সাব্বির নামে স্থানীয় আরও তিন যুবক আহত হন। এ সময় কৌশলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ আশিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ আরও জানায়, কয়েক সপ্তাহ আগে আশরাফুল নামে এক যুবকের সঙ্গে বিরোধ হয় আশিকের। পরে বিষয়টি স্থানীয়রা মীমাংসা করে দেন। এরই জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে আশিকের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা হাসপাতালে ভিড় জমান। এ সময় আশিকের হত্যাকারী সন্দেহে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন যুবকের ওপর হামলা চালায় আশিকের বন্ধু ও আত্মীয় স্বজনরা। এতে কয়েকজন আহত হন। এছাড়াও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের জানালার গ্লাস ও মূল্যবান আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়। পরে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আশিককে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভাংচুরের ঘটনায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেব না।

আশিকের বাবা সোলেমান বলেন, আশরাফুলের সঙ্গে আমার জেলের বিরোধ ছিল। আশরাফুল ও তার সহযোগীরা আমার ছেলেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। লাশ দাফনের পর আমরা মামলা করব।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো.আশরাফুল ইসলাম বলেন, হত্যার মূল কারণ জানা যায়নি। ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আটকদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন