বিএনপির সমাবেশের দুদিন আগে রাজশাহীর ৮ জেলায় পরিবহণ ধর্মঘট, দুর্ভোগ চরমে 
jugantor
বিএনপির সমাবেশের দুদিন আগে রাজশাহীর ৮ জেলায় পরিবহণ ধর্মঘট, দুর্ভোগ চরমে 

  রাজশাহী ব্যুরো  

০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৩:৩২:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশের আগে পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রাজশাহীসহ দেশের আট জেলার মানুষ।রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে বিভাগের আট জেলা এলাকায় এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজশাহীর সিরোইল আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, রাজশাহী থেকে দেশের সব গন্তব্যে চলাচলকারী বাসগুলো টার্মিনালের ভেতরে-বাইরে সারিবদ্ধভাবে পার্ক করে রাখা।

এ সময়ে রাজশাহীতে প্রবেশ করেনি অন্য কোনো জেলার বাস। ঢাকাগামী বাস কাউন্টারগুলোতে তালা দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক মানুষ বাস ধর্মঘটের খবর না জেনেই বাস টার্মিনালে এসে গাড়ি বন্ধ দেখতে পেয়েছেন। বিপাকে পড়েছেন তারা। বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর উপায়ও খুঁজেছেন। যদিও রাজশাহী থেকে সব গন্তব্যের ট্রেন ও বিমান চলাচল বৃহস্পতিবার স্বাভাবিক দেখা গেছে।

এদিকে রাজশাহী মহানগরীর প্রবেশদ্বারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও কিছুসংখ্যক ট্রাক চলাচল অব্যাহত রয়েছে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে। বিশেষ করে সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে মালামাল নিয়ে দূর গন্তব্যের ট্রাকগুলো বাধাহীনভাবে চলাচল করেছে। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসসহ প্রাইভেটকার চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী তিনটি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন যথা সিডিউল অনুযায়ী ছেড়ে গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা, চিলাহাটি, গোয়ালন্দ, ঢালারচরসহ বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেনগুলোও ছেড়ে যায় নির্দিষ্ট সময়ে। তবে এসব ট্রেনে যাত্রীর ভিড় ছিল কয়েকগুণ।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজশাহীর বানেশ্বর চৌরাস্তায় গিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী থেকে নাটোর, বগুড়া, পাবনা ও সিরাজগঞ্জমুখী ট্রাকগুলো বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী তুলে নিচ্ছে ওপরে। তবে রাজশাহীগামী কোনো ট্রাকে যাত্রী দেখলেই পুলিশ তাদের নামিয়ে ফেরত পাঠাচ্ছেন। বানেশ্বর পয়েন্ট দিয়ে অটো ও রিকশা-ভ্যানে রাজশাহী মহানগরগামী যাত্রীদের তল্লাশি করেছে পুলিশ। একইভাবে বুধবার গভীর রাত থেকে নওগাঁর দিক থেকে আসা অটোভ্যানযাত্রীদের নওদাপাড়া আমচত্বরে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিক থেকে আসা অটোযাত্রীদের কাশিয়াডাঙ্গা পয়েন্টে পুলিশের কড়া তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার ঢাকায় একটি সরকারি চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার ভোরেই ঢাকার উদ্দেশে বেরিয়ে টার্মিনালে আসেন নওগাঁর আব্দুল মমিন। তিনি বলেন, চার দিন আগেই ট্রেনের টিকিট পাইনি। গতরাত থেকে আবার বাস বন্ধ। এখন বিকল্প উপায়ও দেখছি না। কিন্তু যে কোনো উপায়ে ঢাকা যেতে হবে। চাকরির পরীক্ষা বলে কথা।

বৃহস্পতিবার সব পরিবার নিয়ে রাস্তায় গাড়ির খোঁজ করছিলেন নওগাঁ থেকে আসা শিশির আলী। তিনি বলেন, ট্রেনে করে ঢাকায় যাব বলে অটোতে করে নওগাঁ থেকে রাজশাহী আসি। কিন্তু ট্রেনের টিকিট নেই। টার্মিনালে এসে দেখি সব বাস বন্ধ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে যাত্রীপ্রতি ২০০ টাকা করে ভাড়া দিয়ে রাজশাহীতে আসেন মনির, সাইফুল ও মবিন। ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। শুক্রবার থেকে মালিকের কাজে যোগ দিতে হবে। কিন্তু রাজশাহীতে এসেও ভিড়ের কারণে ট্রেনে উঠতে পারেননি। এখন বিকালের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন স্টেশনে।

এদিকে পরিবহণ বন্ধের জন্য চাপ বেড়েছে ট্রেনগুলোতে। তাই বিভিন্ন রুটের ট্রেনের টিকিট এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। টিকিট না পেয়ে অনেকে দাঁড়িয়েই রওনা দিচ্ছেন। এ ছাড়া রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে যেসব ট্রেন আসছে ও যাচ্ছে, তাতে অতিরিক্ত যাত্রী চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

রাজশাহী সড়ক পরিবহণ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মাতিউল হক টিটু বলেন, আমাদের অনেক দিনের দাবি ছিল এটি। আমরা নির্ধারিত সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। তবে আমাদের কোনো আশ্বাস না দেওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্বেচ্ছায় কর্মবিরতিতে গেছি। মানুষের ভোগান্তি ও বিএনপির সমাবেশের বিষয়ে চানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তো মানুষ পরিবহণই করছি না। তাই ভোগান্তি আমাদের দিক থেকে নেই। আর বিএনপির সঙ্গে এই পরিবহণ ধর্মঘটের কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করেন তিনি।

বিএনপির সমাবেশের দুদিন আগে রাজশাহীর ৮ জেলায় পরিবহণ ধর্মঘট, দুর্ভোগ চরমে 

 রাজশাহী ব্যুরো 
০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৩২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশের আগে পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রাজশাহীসহ দেশের আট জেলার মানুষ।রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে বিভাগের আট জেলা এলাকায় এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজশাহীর সিরোইল আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, রাজশাহী থেকে দেশের সব গন্তব্যে চলাচলকারী বাসগুলো টার্মিনালের ভেতরে-বাইরে সারিবদ্ধভাবে পার্ক করে রাখা। 

এ সময়ে রাজশাহীতে প্রবেশ করেনি অন্য কোনো জেলার বাস। ঢাকাগামী বাস কাউন্টারগুলোতে তালা দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক মানুষ বাস ধর্মঘটের খবর না জেনেই বাস টার্মিনালে এসে গাড়ি বন্ধ দেখতে পেয়েছেন। বিপাকে পড়েছেন তারা। বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর উপায়ও খুঁজেছেন। যদিও রাজশাহী থেকে সব গন্তব্যের ট্রেন ও বিমান চলাচল বৃহস্পতিবার স্বাভাবিক দেখা গেছে।  

এদিকে রাজশাহী মহানগরীর প্রবেশদ্বারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও কিছুসংখ্যক ট্রাক চলাচল অব্যাহত রয়েছে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে। বিশেষ করে সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে মালামাল নিয়ে দূর গন্তব্যের ট্রাকগুলো বাধাহীনভাবে চলাচল করেছে। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসসহ প্রাইভেটকার চলাচল স্বাভাবিক ছিল। 

রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী তিনটি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন যথা সিডিউল অনুযায়ী ছেড়ে গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা, চিলাহাটি, গোয়ালন্দ, ঢালারচরসহ বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেনগুলোও ছেড়ে যায় নির্দিষ্ট সময়ে। তবে এসব ট্রেনে যাত্রীর ভিড় ছিল কয়েকগুণ।    

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজশাহীর বানেশ্বর চৌরাস্তায় গিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী থেকে নাটোর, বগুড়া, পাবনা ও সিরাজগঞ্জমুখী ট্রাকগুলো বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী তুলে নিচ্ছে ওপরে। তবে রাজশাহীগামী কোনো ট্রাকে যাত্রী দেখলেই পুলিশ তাদের নামিয়ে ফেরত পাঠাচ্ছেন। বানেশ্বর পয়েন্ট দিয়ে অটো ও রিকশা-ভ্যানে রাজশাহী মহানগরগামী যাত্রীদের তল্লাশি করেছে পুলিশ। একইভাবে বুধবার গভীর রাত থেকে নওগাঁর দিক থেকে আসা অটোভ্যানযাত্রীদের নওদাপাড়া আমচত্বরে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিক থেকে আসা অটোযাত্রীদের কাশিয়াডাঙ্গা পয়েন্টে পুলিশের কড়া তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে।    

এদিকে শুক্রবার ঢাকায় একটি সরকারি চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার ভোরেই ঢাকার উদ্দেশে বেরিয়ে টার্মিনালে আসেন নওগাঁর আব্দুল মমিন। তিনি বলেন, চার দিন আগেই ট্রেনের টিকিট পাইনি। গতরাত থেকে আবার বাস বন্ধ। এখন বিকল্প উপায়ও দেখছি না। কিন্তু যে কোনো উপায়ে ঢাকা যেতে হবে। চাকরির পরীক্ষা বলে কথা। 

বৃহস্পতিবার সব পরিবার নিয়ে রাস্তায় গাড়ির খোঁজ করছিলেন নওগাঁ থেকে আসা শিশির আলী। তিনি বলেন, ট্রেনে করে ঢাকায় যাব বলে অটোতে করে নওগাঁ থেকে রাজশাহী আসি। কিন্তু ট্রেনের টিকিট নেই। টার্মিনালে এসে দেখি সব বাস বন্ধ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে যাত্রীপ্রতি ২০০ টাকা করে ভাড়া দিয়ে রাজশাহীতে আসেন মনির, সাইফুল ও মবিন। ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। শুক্রবার থেকে মালিকের কাজে যোগ দিতে হবে। কিন্তু রাজশাহীতে এসেও ভিড়ের কারণে ট্রেনে উঠতে পারেননি। এখন বিকালের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন স্টেশনে।   

এদিকে পরিবহণ বন্ধের জন্য চাপ বেড়েছে ট্রেনগুলোতে। তাই বিভিন্ন রুটের ট্রেনের টিকিট এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। টিকিট না পেয়ে অনেকে দাঁড়িয়েই রওনা দিচ্ছেন। এ ছাড়া রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে যেসব ট্রেন আসছে ও যাচ্ছে, তাতে অতিরিক্ত যাত্রী চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

রাজশাহী সড়ক পরিবহণ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মাতিউল হক টিটু বলেন, আমাদের অনেক দিনের দাবি ছিল এটি। আমরা নির্ধারিত সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। তবে আমাদের কোনো আশ্বাস না দেওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্বেচ্ছায় কর্মবিরতিতে গেছি। মানুষের ভোগান্তি ও বিএনপির সমাবেশের বিষয়ে চানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তো মানুষ পরিবহণই করছি না। তাই ভোগান্তি আমাদের দিক থেকে নেই। আর বিএনপির সঙ্গে এই পরিবহণ ধর্মঘটের কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করেন তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন