আ.লীগ নেতাসহ ট্রিপল মার্ডারে ১৪ জনের যাবজ্জীবন
jugantor
আ.লীগ নেতাসহ ট্রিপল মার্ডারে ১৪ জনের যাবজ্জীবন

  বাগেরহাট প্রতিনিধি  

০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২২:২০:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদার ও যুবলীগ নেতা শুকুর শেখসহ আলোচিত ট্রিপল মার্ডারে ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল ইসলাম ফকিরসহ ১৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম হাওলাদার এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্তদের মধ্যে সুব্রত কুমার সাহা ওরফে পল্টু পলাতক রয়েছেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১৪ আসামি হলেন- বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের দৈবজ্ঞহাটি ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম ফকির, আবুয়াল ফকির, মো. হুমায়ুন হাওলাদার, মিল্টন খান, মো. মফিজ খান, মো. ফারুক, মো. আবুল হোসেন শেখ, মো. মোদাচ্ছের শেখ, সুনীল দাস, বিশ্বনাথ ওরফে বিশ্ব প্রামাণিক, মো. লিয়ন শিকদার, সুব্রত কুমার সাহা ওরফে পল্টু (পলাতক), মেহেদী ওরফে রুবেল ফকির ও মো. মহি মোল্লা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তৎকালীন দৈবজ্ঞহাটি ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ফকির ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরে ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর বিকালে চেয়ারম্যান শহিদুল ফকিরের নেতৃত্বে তার লোকজন দৈবজ্ঞহাটি বাজার থেকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা শুকুর শেখকে ধরে ইউনিয়ন পরিষদে এনে নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করে। এরপর সন্ত্রাসীরা ওদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদারের গ্রামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদারকে ধরে ইউনিয়ন পরিষদে এনে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। আনসার আলী দিহিদারকে ধরে আনার সময় তার স্ত্রী মঞ্জু বেগম ও শ্রমিক লীগ নেতা বাবলু শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

এ ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদে অভিযান চালিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ফকিরসহ তার ক্যাডারদের একটি ৩টি গুলিসহ বিদেশি শটগান, একটি রিভলবার, একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটারগান, একটি কুড়াল জব্দ করে।

এদিকে ওই হামলায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ ২২ মাস বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরে ২০২০ সালের ৩০ জুলাই রাতে মঞ্জু বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মারা যান।

আওয়ামী লীগ নেতা আনসার ও যুবলীগ নেতা শুকুর হত্যাকাণ্ডের পর ৪ অক্টোবর রাতে মোড়েলগঞ্জ থানায় নিহত শুকুরের ভাই শেখ ফারুক হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেন। ২০১৯ সালের ৪ জুন পুলিশ দৈবজ্ঞহাটি ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল ইসলাম ফকিরসহ ৫৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

এদিকে দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদার ও মঞ্জু বেগমের ছেলে এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন।

আ.লীগ নেতাসহ ট্রিপল মার্ডারে ১৪ জনের যাবজ্জীবন

 বাগেরহাট প্রতিনিধি 
০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:২০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদার ও যুবলীগ নেতা শুকুর শেখসহ আলোচিত ট্রিপল মার্ডারে ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল ইসলাম ফকিরসহ ১৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম হাওলাদার এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্তদের মধ্যে সুব্রত কুমার সাহা ওরফে পল্টু পলাতক রয়েছেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১৪ আসামি হলেন- বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের দৈবজ্ঞহাটি ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম ফকির, আবুয়াল ফকির, মো. হুমায়ুন হাওলাদার, মিল্টন খান, মো. মফিজ খান, মো. ফারুক, মো. আবুল হোসেন শেখ, মো. মোদাচ্ছের শেখ, সুনীল দাস, বিশ্বনাথ ওরফে বিশ্ব প্রামাণিক, মো. লিয়ন শিকদার, সুব্রত কুমার সাহা ওরফে পল্টু (পলাতক), মেহেদী ওরফে রুবেল ফকির ও মো. মহি মোল্লা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তৎকালীন দৈবজ্ঞহাটি ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ফকির ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরে ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর বিকালে চেয়ারম্যান শহিদুল ফকিরের নেতৃত্বে তার লোকজন দৈবজ্ঞহাটি বাজার থেকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা শুকুর শেখকে ধরে ইউনিয়ন পরিষদে এনে নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করে। এরপর সন্ত্রাসীরা ওদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদারের গ্রামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদারকে ধরে ইউনিয়ন পরিষদে এনে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। আনসার আলী দিহিদারকে ধরে আনার সময় তার স্ত্রী মঞ্জু বেগম ও শ্রমিক লীগ নেতা বাবলু শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

এ ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদে অভিযান চালিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ফকিরসহ তার ক্যাডারদের একটি ৩টি গুলিসহ বিদেশি শটগান, একটি রিভলবার, একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটারগান, একটি কুড়াল জব্দ করে।

এদিকে ওই হামলায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ ২২ মাস বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরে ২০২০ সালের ৩০ জুলাই রাতে মঞ্জু বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মারা যান।

আওয়ামী লীগ নেতা আনসার ও যুবলীগ নেতা শুকুর হত্যাকাণ্ডের পর ৪ অক্টোবর রাতে মোড়েলগঞ্জ থানায় নিহত শুকুরের ভাই শেখ ফারুক হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেন। ২০১৯ সালের ৪ জুন পুলিশ দৈবজ্ঞহাটি ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল ইসলাম ফকিরসহ ৫৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

এদিকে দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদার ও মঞ্জু বেগমের ছেলে এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন