একরামুলের বাড়িতে মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৮, ২০:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

  টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

ছবি: সংগৃহীত

টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত একরামুল হক কাউন্সিলরের বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

রোববার দুপুরে একরামুলের মা হাফেজা খাতুনকে সমবেদনা জানান।  এ সময় তিনি বলেন, একজন বিচারককে দিয়ে এঘটনা তদন্তের জন্য সরকারের কাছে আমরা দাবি জানিয়েছি।

একরামুলের মা সন্তান হত্যার বিচার দাবি করেন।  একরামুলের স্ত্রী ও দুই মেয়ে বাড়িতে ছিলেন না।  ঘটনার কয়েকদিন পর থেকে তারা চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন।

সেখান থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, কোথাও মানবাধিকার লঙ্গিত হয়েছে বা মানবাধিকার লঙ্গিত হতে পারে বলে সন্দেহ হলে সে সমস্থ জায়গায় কমিশন প্রতিবাদ জানায়।  

আমাদের সংবিধান আমাদের দেশের আইন, প্রচলিত আইন, পুলিশি আইন (পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল) সুস্পষ্টভাবে বলে দেওয়া আছে কিভাবে অভিযান চালাতে হবে, সেগুলো অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র সন্দেহভাজনদের ধরার চেষ্টা করবে কিন্তু সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তালিকা যাতে সঠিক হয়।  যাচাই বাছাই করে অভিযান চালাতে হবে।  আইনের বিধি -বিধানমেনে চলতে হবে।

আইনের বাইরে গিয়ে কোনো মানুষ যাতে মৃত্যুবরণ না করে সেটা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

এব্যাপারে আমরা সরকারকে বারবার বলেছি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলেছি, ডিও লেটার দিয়েছি, সংবাদ মাধ্যমে লিখেছি।  মাদকবিরোধী অভিযানে যাতে এজাতীয় ঘটনা না ঘটে।

তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন একটা গাইড লাইন তৈরি করছে অভিযানে কি ধরণের আইন ফলো করতে হবে।  আইনগুলো যদি ব্যবহার হয়, কোনো মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হবে না।

একরামুলের পরিবারের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, সরকারের।  এই পরিবার যাতে কোনোভাবে আর কোনো ভোগান্তির শিকার না হয়।

এরকম ঘটনা আরও যেখানে হয়েছে সেখানেও আমরা বলেছি।  একরামুল হক নিহতের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে সরকারের কাছে তিনি দাবি জানান। আমরা আশা করি এই বিচার হবে।

এ সময় মানবাধিকার কমিশন সদস্য মো. নজরুল ইসরাম, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসান, থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ূয়া উপস্থিত ছিলেন।