জঙ্গি কাশেমের ২১ বছরের কারাদণ্ড

  শেরপুর প্রতিনিধি ২৭ জুন ২০১৮, ১৭:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

জঙ্গি কাশেমের ২১ বছরের কারাদণ্ড
নব্য জেএমবির সদস্য আবুল কাশেম ওরফে আবু মোসাব। ছবি: যুগান্তর

শেরপুরে নব্য জেএমবির সদস্য আবুল কাশেম ওরফে আবু মোসাবকে (২২) ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় পৃথক দুটি ধারায় বুধবার দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে শেরপুরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) এম. এ নূর এই আদেশ দেন।

মামলার রায়ের আদেশে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের ৪ ধারায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ের আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

একই আইনের ৫ ধারায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। উভয় দণ্ড পর্যায়ক্রমে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত নব্য জেএমবির ওই সদস্য শেরপুরের নকলা উপজেলার হুজুরিকান্দা গ্রামের মৃত শফিউল হকের ছেলে।

এর আগে সকালে আবুল কাশেমকে কড়া নিরাপত্তায় জেলা কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। এদিন আদালত এলাকায় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত পিপি অ্যাডভোকেট অরুণ কুমার সিংহ রায় মামলার নথির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর রাতে নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা বাজারে জঙ্গিদের বিস্ফোরক তৈরির ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থের গোডাউনের সন্ধান এবং ওই গোডাউন থেকে নাইট্রিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, ক্লোরোফর্ম ও ডাইক্লোমেথিনসহ বিস্ফোরক তৈরির ৫৬৮ কেজি ক্ষতিকারক রাসায়নিক তরল পদার্থ উদ্ধার করে পুলিশ।

তৎকালীন পুলিশ সুপার রফিকুল হাসান গনির নেতৃত্বে জেলা পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা ও নজরদারির কারণেই ওই অভিযানটি সফল হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ময়মনসিংহ বিভাগের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে ওই ঘটনায় ৬ অক্টোবর নকলা থানার এসআই আবদুস সাত্তার বাদী হয়ে গোডাউনের ভাড়াটে আবুল কাশেম (২২) ও ফয়েজ উদ্দিন (৩৩) এবং মালিক মিনারা বেগমসহ (৩২) অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার হয় প্রধান আসামি আবুল কাশেমসহ সব আসামি।

পরবর্তীতে আদালতে গ্রেফতারকৃত নব্য জেএমবির সদস্য আবুল কাশেম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চন্দ্রকোনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আমিনুর রহমান তদন্ত শেষে একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর একমাত্র নব্য জেএমবির সদস্য আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

একপর্যায়ে কাকতালীয়ভাবে আবুল কাশেম জামিনে বেরিয়ে গেলেও ফের গ্রেফতার হয়ে ওই মামলায় হাজতে যান।

চলতি বছরের ৮ মার্চ ওই মামলায় আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর বিচারিক পর্যায়ে বাদী, ম্যাজিস্ট্রেট ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞসহ ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ওই রায় দেন আদালত।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter