সব কাউন্সিলর পদে কৌশলে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী ব্যুরো ০১ জুলাই ২০১৮, ০৪:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

জামায়াত
ফাইল ছবি

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দেয়ার আগাম ঘোষণা দিয়েও জামায়াতে ইসলামী শেষ পর্যন্ত প্রার্থী দেয়নি। তবে বিএনপিকে মেয়র পদে ছাড় দিয়ে কৌশলে সব ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। সংরক্ষিত ওয়ার্ডগুলোতেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জামায়াতে নারী প্রার্র্থীরা।

কাউন্সিলর পদে জামায়াত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়া প্রসঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু যুগান্তরকে বলেন, ২০ দলীয় জোট জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে চায়। আগামী দু’এক দিনের মধ্যে জোটের নেতাদের মধ্যে বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, রাজশাহীসহ সব সিটি কর্পোরেশনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে জোটবদ্ধভাবে তারা নির্বাচন করতে পারলে তাদের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।

তফসিল ঘোষণার কয়েক মাস আগে থেকে নগরীতে ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে নিজের প্রার্থিতার জানান দিয়েছিলেন জামায়াতের মহানগর সেক্রেটারি সিদ্দিক হুসাইন। দলীয় পরিচয় না দিয়ে নাগরিক পরিষদের ব্যানারে মেয়র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২৮ জুন মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও জমা দেয়ার শেষ দিনেও তার পক্ষে মনোনয়নপত্র তুলতে কাউকে দেখা যায়নি।

জানা গেছে, ১২ মার্চ নাশকতার মামলায় গ্রেফতার হয়ে জামায়াত নেতা সিদ্দিক কারাগারে রয়েছেন। জামায়াতের একটি পক্ষ চাইছিল সিদ্দিক কারাগারে থেকে নির্বাচন করুক। কিন্তু জোটের শরিক বিশেষ করে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্দিককে মেয়র প্রার্থী করা থেকে জামায়াত নেতারা সরে আসেন। এ কারণে জোটপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর আবু ইউসুফ সেলিম দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর সেলিম জানান, জামায়াত ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক। ফলে জোটের বৃহৎ দল বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে দলীয় সমর্থন দেয়ায় তারা নিজস্ব প্রার্থী দেননি।

তিনি জানান, রাজশাহীতে জামায়াতের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট রয়েছে। এ ভোট জোট প্রার্থীকেই তারা দেবেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা নির্দলীয় ব্যানারে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমাদের অগ্রিম প্রস্তুতিও ভালো ছিল। প্রার্থী কারাগারে থাকলে তার মনোনয়নপত্র তুলতে আদালতের অনুমতি নিতে হয়। ২৩ জুন সেই অনুমতিও আমরা পেয়েছিলাম। কিন্তু ২৭ জুন রাতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ রাজশাহীতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী না দেয়ার নির্দেশ দেন। ফলে আমরা মেয়র প্রার্থী দিইনি।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জামায়াত নেতা যুগান্তরকে বলেন, রাজশাহীতে জামায়াতের ৪০ থেকে ৪৫ হাজার রিজার্ভ ভোট রয়েছে। মেয়র পদে প্রার্র্থিতার জন্য রাজশাহী তাদের প্রথম পছন্দ ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের কারণে তারা মেয়র পদে কোনো প্রার্থী দেননি। তবে কাউন্সিলর পদে জামায়াতের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মনোনয়নপত্র তুলে তা জমা দিয়েছেন। সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে গণসংযোগে নেমে পড়েছেন জামায়াত প্রার্থীরা।

কাউন্সিলর পদে জামায়াতের প্রার্থী দেয়া প্রসঙ্গে বিএনপি নেতারা বলেন, বিএনপিকে কিছুটা চাপে রাখতে এবং নিজেদের গুরুত্ব বাড়াতে জামায়াত প্রার্থী দিয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দিয়েই জামায়াতের নারী কর্মীরা দল বেঁধে নগরজুড়ে গণসংযোগে নেমে পড়েছে। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে পাওয়া খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

ওয়ার্ডগুলোতে জামায়াত পৃথকভাবে প্রার্থী দেয়ায় বিএনপি প্রার্থীদের সঙ্গে ভোট ভাগাভাগি হওয়া প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ২০১৩ সালের নির্বাচনে রাজশাহীর ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট ২৬টি কাউন্সিলর পদে জিতেছিল। এবারও কাউন্সিলর পদে বিএনপি জোটের অধিকাংশ প্রার্থী বিজয়ী হবেন বলে তিনি আশা করেন। জামায়াতের কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে সমঝোতা হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.